এবারের বাজেট আবেগপ্রবণ ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন

‘প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটি আবেগপ্রবণ ও সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। এই বাজেট পূর্ববর্তী ধারাবাহিকতার বাইরের কিছু নয়। আর জাতীয় বাজেট বাস্তবায়ন, জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষার গুণগত ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সুশাসনের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন সময়ের বড় দাবি।’ সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিডিবিএল ভবনে ‘ফিসক্যাল প্রায়োরিটিজ অ্যান্ড ইকনোমিক জাস্টিস: অ্যা ক্রিটিক্যাল রিভিউ অফ দ্য ন্যাশনাল বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব বলেন। বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (বিআইপিইডি) এ সভার আয়োজন করে। সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। বিআইপিইডি’র সাদাব মুবতাসিম প্রান্তিকের উপস্থাপনায় সভায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুর রহমান খান, বিডি জবস ডটকম লিমিটেডের সিইও এ কে এম ফাহিম মাশরুর, দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জিনা তাসরিন, চেঞ্জ ইনিশিয়েটি

এবারের বাজেট আবেগপ্রবণ ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন

‘প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটি আবেগপ্রবণ ও সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। এই বাজেট পূর্ববর্তী ধারাবাহিকতার বাইরের কিছু নয়। আর জাতীয় বাজেট বাস্তবায়ন, জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষার গুণগত ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সুশাসনের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন সময়ের বড় দাবি।’

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিডিবিএল ভবনে ‘ফিসক্যাল প্রায়োরিটিজ অ্যান্ড ইকনোমিক জাস্টিস: অ্যা ক্রিটিক্যাল রিভিউ অফ দ্য ন্যাশনাল বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব বলেন। বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (বিআইপিইডি) এ সভার আয়োজন করে।

সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম।

বিআইপিইডি’র সাদাব মুবতাসিম প্রান্তিকের উপস্থাপনায় সভায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুর রহমান খান, বিডি জবস ডটকম লিমিটেডের সিইও এ কে এম ফাহিম মাশরুর, দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জিনা তাসরিন, চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক জাকির খান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব তাহসিন রিয়াজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম বলেন, শুধু রিয়েল এস্টেট (আবাসন) খাতে কালো টাকা সাদা করার বিশেষ সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাবিত অর্থ বিলে অত্যন্ত স্বৈরাচারী ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সুযোগ কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে এমন বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুর ক্ষেত্রে দেওয়া উচিত ছিল।

অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, প্রায় ২৪ ট্রিলিয়ন টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে বিলাসিতার বদলে ব্যয় সংকোচন ও কৃচ্ছ্রসাধন প্রয়োজন। ঋণখেলাপিরা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়ে সুবিধা পাচ্ছে। বিচার বিভাগের বাজেট ২০১৭-১৮ সালের ০.৩৯ শতাংশ থেকে কমে ০.২৩ শতাংশে নেমেছে, ফলে অবকাঠামো সংকট দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থা সংস্কার না হলে আস্থা হারাবে এবং ঋণ আদায়ে বারবার আপিলের সুযোগ অর্থনৈতিক ন্যায্যতা ব্যাহত করছে।

তৌফিকুর রহমান খান বলেন, জাতীয় বাজেটকে শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে নয়, বরং টেকসই ও প্রকৃতি-নির্ভর উন্নয়নের রূপান্তরমূলক দলিল হিসেবে দেখতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও জবাবদিহির ঘাটতিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও বলেন, এনবিআরের নীতি নির্ধারণ ও কর আদায়ের দ্বৈত ভূমিকা সংস্কার না হওয়ায় প্রত্যক্ষ করভিত্তিক রাজস্ব কাঠামো গড়ে ওঠেনি এবং পরোক্ষ করের বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়ছে।

এ কে এম ফাহিম মাশরুর বলেন, বাজেটটি আবেগপ্রবণ ও সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে বরাদ্দ ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নে দূরদর্শিতার ঘাটতি রয়েছে।

জিনা তাসরিন বলেন, এবারের বাজেট বাস্তবতার ভিত্তিতে নয়, এটি পূর্ববর্তী ধারাবাহিকতার বাইরে কিছু নয়।

ইএইচটি/ইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow