এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড আগে দেখেনি গ্রামবাসী

সামান্য খাস জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল দীর্ঘ বছর ধরে। সরকারি সম্পত্তি হলেও ছোট একটি ডোবার মালিকানা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। তবে এরপর যা ঘটে তা সিনেমার নির্মম দৃশ্যকেও হার মানিয়ে গেছে বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বয়োবৃদ্ধ হারিচ মিয়ার বাড়ির সীমানায় জবর দখলে বাধা দিলে শুরু হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। কখনও পানিতে চুবিয়ে, আবার কখনও কাঁদার মধ্যে পুতে রেখে চালানো হয় নির্যাতনের খড়গ। আর পরিবারের সব চেয়ে বয়ষ্ক মানুষের ওপর এমন পৈশাচিকতা দেখে তাকে বাঁচাতে ছুটে যান ঘরে থাকা নারী সদস্যরা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তাদেরও। বিশেষভাবে তৈরি কাঠের গুঁড়ি আর লোহার রড দিয়ে তাদেরকেও এলোপাথাড়ি পিটিয়ে বেঁধে রাখা হয় বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে।  এরপর একে একে পরিবারের সব সদস্যদের বেধড়ক পিটিয়ে এবং কাঁদা পানিতে চুবিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে রাখা হয় খোলা মাঠে। পরে দ্বিতীয় দফায় মাটির মধ্যে মাথা গেড়ে দিয়ে নিষ্ঠুরতম নির্যাতন করা হয় বৃদ্ধ হারিচ আহমেদকে (৬৫)। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।  সোমবার (১৯ জুলাই) উপজেলার ধুলাসার ইউপির নয়াকাটা গ্রামে খাস সম্পত্তির ছোট একটি ডোবার বিরোধ নিয়ে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নি

এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড আগে দেখেনি গ্রামবাসী
সামান্য খাস জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল দীর্ঘ বছর ধরে। সরকারি সম্পত্তি হলেও ছোট একটি ডোবার মালিকানা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। তবে এরপর যা ঘটে তা সিনেমার নির্মম দৃশ্যকেও হার মানিয়ে গেছে বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বয়োবৃদ্ধ হারিচ মিয়ার বাড়ির সীমানায় জবর দখলে বাধা দিলে শুরু হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। কখনও পানিতে চুবিয়ে, আবার কখনও কাঁদার মধ্যে পুতে রেখে চালানো হয় নির্যাতনের খড়গ। আর পরিবারের সব চেয়ে বয়ষ্ক মানুষের ওপর এমন পৈশাচিকতা দেখে তাকে বাঁচাতে ছুটে যান ঘরে থাকা নারী সদস্যরা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তাদেরও। বিশেষভাবে তৈরি কাঠের গুঁড়ি আর লোহার রড দিয়ে তাদেরকেও এলোপাথাড়ি পিটিয়ে বেঁধে রাখা হয় বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে।  এরপর একে একে পরিবারের সব সদস্যদের বেধড়ক পিটিয়ে এবং কাঁদা পানিতে চুবিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে রাখা হয় খোলা মাঠে। পরে দ্বিতীয় দফায় মাটির মধ্যে মাথা গেড়ে দিয়ে নিষ্ঠুরতম নির্যাতন করা হয় বৃদ্ধ হারিচ আহমেদকে (৬৫)। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।  সোমবার (১৯ জুলাই) উপজেলার ধুলাসার ইউপির নয়াকাটা গ্রামে খাস সম্পত্তির ছোট একটি ডোবার বিরোধ নিয়ে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত হারিচ আহম্মেদ ওই গ্রামের মৃত মজিবুর মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে (২১ জুলাই) মহিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।  নিহতের ছেলে সাইফুল ইসলাম কালবেলাকে জানান, তাদের বাড়ির সামনেই খাস জমিতে একটি ডোবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী খলিল মিয়ার সঙ্গে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকাল ১০টার দিকে খলিলের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একটি দল জমি দখল করতে আসে। এ সময় তিনি বাড়িতে না থাকায় তার বাবা হারেচ তাদের বাধা দেন।  পরে খলিল, সলেমান, রবিউল, মিজানুরসহ আরও অনেকে তার বাবাকে ধরে হাঁটু সমান কাঁদার মধ্যে গেড়ে নির্যাতন চালায়। এবং পিটিয়ে হাত-পায়ে জখম করে। এ সময় তাকে বাঁচাতে ঘরের গৃহবধূ ও নাতনিরা এগিয়ে গেলে তাদের পিটিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে।  পরে তার বৃদ্ধ বাবাকে পানিতে চুবিয়ে মৃত ভেবে মাঠে ফেলে রাখে। কিন্তু তাকেসহ আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে গেলে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি থেকে বের হতে দেয়নি খুনিরা।  কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টা বাড়িতেই আহত নারী পুরুষদের অবরুদ্ধ করে রাখে তারা। পরে স্থানীয়রা ফাঁক ফোকর দিয়ে গুরুতর আহত তার বাবা ও চার নারীকে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেও চিকিৎসা নিতে দেয়নি খুনিরা। পরে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে বরিশাল নেওয়ার আগেই বাবার মৃত্যু হয়। হামলায় গুরুতর আহত সুবর্ণা জানান, তার দাদুর মাথা মাটির মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে যখন মারছিল তখন তারা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের পিটিয়ে বেঁধে রেখে দাদুকে মেরেছে।  স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন কালবেলাকে বলেন, এমন ঘটনা এর আগে এই এলাকার মানুষ দেখেনি। তিনি বলেন, ইউপি সদস্য জসিম খন্দকারের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তার হুকুমেই এই হত্যা। এতে এলাকার প্রতিটি মানুষই আতংকিত। মহিপুর থানার ওসি মো. শামিম কালবেলাকে বলেন, এ ঘটনায় ২১ জুলাই একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আমরা আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow