এলেঙ্গা-যমুনা সেতু মহাসড়কে ৪ লেনের সুবিধা, যানজটমুক্ত ঈদযাত্রার আশ্বাস

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে উত্তরবঙ্গগামী ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও যানজটমুক্ত রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২’-এর আওতাধীন এলেঙ্গা হতে যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর পর্যন্ত অংশে বিশেষ ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করায় এবার যাত্রীরা চার লেনের সুবিধা পাবেন। ফলে এই মহাসড়কে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই যানবাহন স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে। সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে যমুনা সেতু এলাকায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং-এর দায়িত্বে থাকবেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও যুগ্মসচিব মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী। সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ এক বিবৃতিতে জানান, বিগত বছরগুলোতে উত্তরবঙ্গগামী মানুষের ঈদযাত্রায় এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত অংশটি ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এবার চলমান উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে নির্মিত ২ লেনের সার্ভিস সড়ক এবং বিদ্যমান ২ লেনের মূল সড়কের সফল সমন্বয় করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুরো অংশে কার্যত ৪ লেনের স

এলেঙ্গা-যমুনা সেতু মহাসড়কে ৪ লেনের সুবিধা, যানজটমুক্ত ঈদযাত্রার আশ্বাস

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে উত্তরবঙ্গগামী ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও যানজটমুক্ত রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২’-এর আওতাধীন এলেঙ্গা হতে যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর পর্যন্ত অংশে বিশেষ ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করায় এবার যাত্রীরা চার লেনের সুবিধা পাবেন। ফলে এই মহাসড়কে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই যানবাহন স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে।

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে যমুনা সেতু এলাকায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং-এর দায়িত্বে থাকবেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও যুগ্মসচিব মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী।

সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ এক বিবৃতিতে জানান, বিগত বছরগুলোতে উত্তরবঙ্গগামী মানুষের ঈদযাত্রায় এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত অংশটি ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এবার চলমান উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে নির্মিত ২ লেনের সার্ভিস সড়ক এবং বিদ্যমান ২ লেনের মূল সড়কের সফল সমন্বয় করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুরো অংশে কার্যত ৪ লেনের সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে।

উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহন : সফলভাবে নির্মিত ২ লেনের নতুন সার্ভিস সড়ক দিয়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে উত্তরবঙ্গের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

ঢাকামুখী যানবাহন : বিদ্যমান ২ লেনের মূল সড়কটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই ঢাকার অভিমুখে চলাচল করছে।

৭০০ মিটার রিজিড পেভমেন্ট : যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর থেকে ইব্রাহিমাবাদ রেল স্টেশন পর্যন্ত ২ লেন বিশিষ্ট ৭০০ মিটার রিজিড পেভমেন্ট সড়ক যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) জানান, নির্মাণাধীন এলেঙ্গা বাজার ফ্লাইওভার অংশে যেন কৃত্রিম যানজট বা গতিহ্রাস না ঘটে, সেজন্য বিশেষ নকশায় সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে। ফ্লাইওভারের উভয় পাশে দুই লেন করে সর্বমোট ৪ লেন সড়ক নিশ্চিত করায় বাজার এলাকায় স্বাভাবিক গতিতেই যানবাহন চলাচল করতে পারছে।

এছাড়া, গণপরিবহনগুলো যেন যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করিয়ে যানজটের সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য এলেঙ্গা বাজার এলাকায় উভয় লেনের জন্য পৃথক ২টি স্থায়ী বাস-বে এবং সড়কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আরও বেশ কয়েকটি বাস-বে সচল করা হয়েছে। আকস্মিক বৃষ্টিতে যেন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থাও সম্পন্ন করা হয়েছে।

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবং সেতু বিভাগের সচিবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু এলাকায় এবার বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দ্রুত টোল আদায় : সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু রাখা, দক্ষ টোল কালেক্টর নিয়োগ, মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক লেন বৃদ্ধি, নন-স্টপ ETC চালু এবং টোল বুথে পর্যাপ্ত খুচরা (ভাংতি) টাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কোরবানির পশুর গাড়িতে ছাড় : ঈদ উপলক্ষে কোরবানির পশু বহনকারী গাড়িগুলোকে ওয়েইং স্কেল মেশিন (Weighing Scale Machine)-এর আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

দুর্ঘটনা ও উদ্ধার কার্যক্রম : কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা ১টি ভারী রেকারসহ মোট ৩টি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দ্রুততম সময়ে সরিয়ে নেওয়া যায়। এছাড়া প্রতি ৩০০ মিটার পর পর সিকিউরিটি গার্ড মোতায়েন থাকবে।

জরুরি সেবা : যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি প্রয়োজনে টোলপ্লাজার পাশে সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

রাতের নিরাপত্তা : চালকদের সুবিধার্থে সড়কের সংবেদনশীল ও বাঁকযুক্ত অংশে টেকসই কংক্রিট ডিভাইডারের পাশাপাশি উচ্চ মানের রিফ্লেকটিভ স্টিকারযুক্ত বাঁশের খুঁটি দেওয়া হয়েছে, যা রাতে দূর থেকেও দৃশ্যমান হবে।

সেতু কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, বর্তমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের ফলে এবার এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত অংশে কোনো ধরনের যানজটের আশঙ্কা নেই। এবারের ঈদযাত্রা সবার জন্য আনন্দময় ও নিরাপদ হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow