এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করায় বাদীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারধর এবং জোরপূর্বক ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে মামলা করার পর বাদীর পরিবারকে সন্ত্রাসী পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে রাজশাহী মহানগরের শাহমখদুম আবাসিক এলাকার ৯ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আতঙ্কিত পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে এর আগেই অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়।
ভুক্তভোগী খাদিজা অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী আবুল হাসান ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ অবস্থায় বুধবার দুপুরে ৫-৬ জন অপরিচিত ব্যক্তি তাদের বাসার সামনে এসে চিৎকার-চেঁচামেচি, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়।
তার দাবি, রাজশাহী মহানগর পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে কর্মরত এসআই হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারধর এবং জোরপূর্বক ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা করার পর থেকেই তারা নানা ধরনের হুমকির মুখে রয়েছেন। আজ একই ধরনের ঘটনার পর আতঙ্কে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।
এ বিষয়ে এসআই কবির হোসেন বলেন, ‘টহল দল তখন
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারধর এবং জোরপূর্বক ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে মামলা করার পর বাদীর পরিবারকে সন্ত্রাসী পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে রাজশাহী মহানগরের শাহমখদুম আবাসিক এলাকার ৯ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আতঙ্কিত পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে এর আগেই অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়।
ভুক্তভোগী খাদিজা অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী আবুল হাসান ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ অবস্থায় বুধবার দুপুরে ৫-৬ জন অপরিচিত ব্যক্তি তাদের বাসার সামনে এসে চিৎকার-চেঁচামেচি, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়।
তার দাবি, রাজশাহী মহানগর পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে কর্মরত এসআই হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারধর এবং জোরপূর্বক ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা করার পর থেকেই তারা নানা ধরনের হুমকির মুখে রয়েছেন। আজ একই ধরনের ঘটনার পর আতঙ্কে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।
এ বিষয়ে এসআই কবির হোসেন বলেন, ‘টহল দল তখন সিটিহাট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রাও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে মামলার বাদী আবুল হাসান জানান, এসআই হারুন অর রশিদ তার আত্মীয়। তারা উভয়েই চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে ছেলের লেখাপড়া ও স্ত্রীর চাকরির কারণে রাজশাহীর শাহমখদুম আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন।
মামলায় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ২৮ এপ্রিল বিকেলে চা খাওয়ার কথা বলে কৌশলে আমাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই ৫/৭ জন কিশোর গ্যাংয়ের টোকাই সন্ত্রাসী ওৎ পেতে ছিল। তারা আমাকে অতর্কিতভাবে মারধর করে জোরপূর্বক আটকে রাখে এবং চাঁদা দাবি করে।
একপর্যায়ে তারা আমাকে বেধড়ক মারধর করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এরপর আমার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আমাকে দিয়ে আমার ভাড়া বাসায় ফোন করায়। আমার স্ত্রী খাদিজার কাছ থেকে আইএফআইসি ব্যাংক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২১০১৩৫৩২****-এর চেকবইয়ের তিনটি স্বাক্ষর করা চেক আনিয়ে নেয়। পরে তারা আমাকে বিসিক এলাকায় নিয়ে গিয়ে তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।
এরপর রাত প্রায় ১০টার দিকে আমাকে রাজশাহী শহরের শাহমখদুম আবাসিক এলাকায় আমার বাসায় নিয়ে যায় এবং আমাকে বাধ্য করে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২২৭১১১০০০০****-এর চেকবই নিয়ে আসতে। সেখানেও তারা আরও তিনটি ফাঁকা চেকে আমার স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। সব মিলিয়ে আটটি চেক নিজেদের দখলে নিয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় আমি তাদের বিরুদ্ধে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছি। মামলার নম্বর ১৮১ পি/২০২৬ (বোয়ালিয়া)। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২৭ জুলাই। বর্তমানে মামলার আসামি মানসিকভাবে চরম অস্থির হয়ে পড়েছে।’
আবুল হাসান বলেন, ‘আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে এসআই হারুন অর রশিদ পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হয়েও তিনি আইনের তোয়াক্কা করছেন না। আমার কাছ থেকে নেওয়া সব চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত চাই এবং তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এসআই হারুন অর রশিদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তিনি কল ব্যাক করলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘আমি ছুটিতে থাকায় বিষয়টি বিস্তারিত জানি না। এ বিষয়ে এসআই কবির হোসেন বলতে পারবেন।’
উল্লেখ্য, এসআই হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।