এসি ছাড়াই নগর ঠান্ডা করার নতুন পথ, বাঁচবে বিদ্যুৎ খরচ
নগরের ভেতরে বন বা ঘন সবুজ এলাকা গড়ে তোলা গেলে নগর তাপমাত্রা অনেকাংশে কমবে। তবে এর জন্য প্রকৃতি ও মানুষের চাহিদা দুটোই বুঝে পরিকল্পনা করতে হবে। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ে গবেষক ধনপাল গোবিন্দরাজুলু তার এক গবেষণায় বলেন, ভারতের দ্রুত নগরায়নের ফলে শহরগুলোতে তাপমাত্রা বাড়ছে। বিশেষ করে চেন্নাইয়ের মতো শহরে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ খরচ হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্রে। পরিকল্পিত নগর বন বাড়ানো গেলে এ বিদ্যুৎচাহিদা কমানো সম্ভব। চেন্নাই শহরে বর্তমানে প্রায় ২৬ বর্গমাইল এলাকায় গাছ ও সবুজ আছে। এর বড় অংশই একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। তবে শহরের আশপাশে আরও প্রায় ৯ বর্গমাইল জমি রয়েছে, যা নগর বন গড়ে তোলার জন্য উপযোগী। কোয়েম্বাটোর ও তিরুচিরাপল্লির মতো অন্যান্য ভারতীয় শহরেও এমন সম্ভাবনা আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী, শহরে প্রতি নাগরিকের জন্য অন্তত ৯ বর্গমিটার সবুজ জায়গা থাকা উচিত। শহরের মোট এলাকার অন্তত ৩০ শতাংশ গাছপালা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ভারতের বেশিরভ
নগরের ভেতরে বন বা ঘন সবুজ এলাকা গড়ে তোলা গেলে নগর তাপমাত্রা অনেকাংশে কমবে। তবে এর জন্য প্রকৃতি ও মানুষের চাহিদা দুটোই বুঝে পরিকল্পনা করতে হবে। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ে গবেষক ধনপাল গোবিন্দরাজুলু তার এক গবেষণায় বলেন, ভারতের দ্রুত নগরায়নের ফলে শহরগুলোতে তাপমাত্রা বাড়ছে। বিশেষ করে চেন্নাইয়ের মতো শহরে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ খরচ হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্রে। পরিকল্পিত নগর বন বাড়ানো গেলে এ বিদ্যুৎচাহিদা কমানো সম্ভব।
চেন্নাই শহরে বর্তমানে প্রায় ২৬ বর্গমাইল এলাকায় গাছ ও সবুজ আছে। এর বড় অংশই একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। তবে শহরের আশপাশে আরও প্রায় ৯ বর্গমাইল জমি রয়েছে, যা নগর বন গড়ে তোলার জন্য উপযোগী। কোয়েম্বাটোর ও তিরুচিরাপল্লির মতো অন্যান্য ভারতীয় শহরেও এমন সম্ভাবনা আছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী, শহরে প্রতি নাগরিকের জন্য অন্তত ৯ বর্গমিটার সবুজ জায়গা থাকা উচিত। শহরের মোট এলাকার অন্তত ৩০ শতাংশ গাছপালা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ভারতের বেশিরভাগ শহর এই মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি।
তবে গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, শুধু শহর ঠান্ডা করার জন্য গাছ লাগালেই সমস্যার সমাধান হবে না। চেন্নাইয়ের মতো গরম ও পানির সংকটপূর্ণ শহরে কিছু ক্ষেত্রে গাছ উল্টো তাপ ধরে রাখতে পারে। এ ছাড়া সব গাছই বন্যপ্রাণীর জন্য উপযোগী নয়। বিশেষ করে বিদেশি প্রজাতির গাছ পাখি ও কীটপতঙ্গের উপকারে কম আসে।
গবেষকরা আরও বলেন, অনেক সময় নগর এলাকায় থাকা খোলা জমি বা ঘাসভূমিকে অব্যবহৃত জমি ধরে নিয়ে সেখানে গাছ লাগানো হয়। অথচ এসব জমি দরিদ্র মানুষের পশুচারণ ও জ্বালানি সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এতে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর বন পরিকল্পনায় স্থানীয় প্রজাতির গাছ, বন্যপ্রাণীর চলাচলের পথ এবং মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে। রাস্তার ধারে বা খালের পাশে গাছ লাগিয়ে শহরের সবুজ এলাকাগুলোকে সংযুক্ত করা যেতে পারে।
গবেষকরা মনে করেন, বৃক্ষরোপন বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ঠিকভাবে নগর পরিবেশ নকশা করতে হবে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সহনশীল, বাসযোগ্য ও সবুজ শহর নির্মাণ সম্ভব হবে। তথ্যসূত্র : দ্য কনভারসেশন
What's Your Reaction?