ঔষধি গাছে ভরপুর শেকৃবির মেডিসিনাল গার্ডেন

দারুচিনি, এলাচি, রক্তচন্দন এরকম বহু ঔষধি গাছ চোখে পড়বে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) মেডিসিনাল গার্ডেনে। অনেকে এসব ভেষজ উদ্ভিদকে মসলা জাতীয় খাবার মনে করলেও ঔষধি গুণ অনেক বেশি এসব গাছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানের বিস্তৃতি ও গবেষণার উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছে এই গার্ডেন। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (সাউরেস) প্রকল্পের অর্থায়নে ফার্মাকোলজি অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের তৈরি এই গার্ডেনে বর্তমানে ঔষধি গুণসম্পন্ন প্রায় ৪১ প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও পরিচর্যা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও মেডিসিনাল গার্ডেনটিকে অত্যন্ত কার্যকর একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের গবেষণার আগ্রহও বাড়িয়ে দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিনাল গার্ডেন তৈরির মাধ্যমে ঔষধি গাছ সম্পর্কে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ বেড়েছে। বেড়েছে ল্যাবে কাজের সুযোগও।  অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের শিক্ষার্থী ইলহাম রসুল বলেন, ‘কোর্সগুলোতে ঔষধি গাছ সম্পর্কে পড়লেও বাস্তবে সেগুলো কেমন, কোন অংশে কী ধরনের গুণাগুণ আছে তা বুঝতে অনেক সময় সমস্যা হতো। ম

ঔষধি গাছে ভরপুর শেকৃবির মেডিসিনাল গার্ডেন

দারুচিনি, এলাচি, রক্তচন্দন এরকম বহু ঔষধি গাছ চোখে পড়বে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) মেডিসিনাল গার্ডেনে। অনেকে এসব ভেষজ উদ্ভিদকে মসলা জাতীয় খাবার মনে করলেও ঔষধি গুণ অনেক বেশি এসব গাছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানের বিস্তৃতি ও গবেষণার উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছে এই গার্ডেন।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (সাউরেস) প্রকল্পের অর্থায়নে ফার্মাকোলজি অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের তৈরি এই গার্ডেনে বর্তমানে ঔষধি গুণসম্পন্ন প্রায় ৪১ প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও পরিচর্যা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরাও মেডিসিনাল গার্ডেনটিকে অত্যন্ত কার্যকর একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের গবেষণার আগ্রহও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিনাল গার্ডেন তৈরির মাধ্যমে ঔষধি গাছ সম্পর্কে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ বেড়েছে। বেড়েছে ল্যাবে কাজের সুযোগও। 

অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের শিক্ষার্থী ইলহাম রসুল বলেন, ‘কোর্সগুলোতে ঔষধি গাছ সম্পর্কে পড়লেও বাস্তবে সেগুলো কেমন, কোন অংশে কী ধরনের গুণাগুণ আছে তা বুঝতে অনেক সময় সমস্যা হতো। মেডিসিনাল গার্ডেনটি তৈরি হওয়ায় আমরা সরাসরি গাছগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারছি, যা আমাদের পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণার আগ্রহও বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

একই অনুষদের আরেক শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান মিদুল বলেন, ‘একজন ভেটেরিনারি শিক্ষার্থী হিসেবে ঔষধি উদ্ভিদ সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগে এ জ্ঞান বই ও লেকচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মেডিসিনাল গার্ডেন প্রতিষ্ঠার ফলে এখন আমরা বিভিন্ন ঔষধি উদ্ভিদ সরাসরি দেখে, চিনে এবং তাদের ব্যবহার ও চিকিৎসাগত গুরুত্ব হাতে-কলমে শিখতে পারছি। এমন প্রত্যক্ষভাবে শেখার সুযোগ দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও সীমিত।’

‘এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে আমি বাসক পাতা ব্যবহার করে এর কার্যকারিতা অনুভব করেছি। সব মিলিয়ে, মেডিসিনাল গার্ডেন আমাদের একাডেমিক ও ব্যবহারিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’ যোগ করেন রাকিবুল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের অন্য আরেক শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিনাল গার্ডেন স্থাপনের ফলে উদ্ভিদ শনাক্তকরণ সহজ হয়েছে এবং ব্যবহারিক জ্ঞানও বেড়েছে। পাশাপাশি প্রাণিস্বাস্থ্যে ভেষজ ওষুধের ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের বাস্তব ধারণা তৈরি হচ্ছে। আমরা মনে করি, এই উদ্যোগ ভেটেরিনারি শিক্ষাকে আরও কার্যকর ও গবেষণামুখী করে তুলবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের শিক্ষক মো. সাকিল ইসলাম বলেন, ‘ঔষধি গাছ মানবসভ্যতার অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক চিকিৎসার উৎস। আধুনিক অনেক ওষুধের ভিত্তিই এসেছে এসব উদ্ভিদ থেকে। আমাদের ঔষধি বৃক্ষের বাগানে থাকা গাছগুলোতে নানা ধরনের জৈব সক্রিয় উপাদান রয়েছে, যেগুলো রোগ প্রতিরোধ, প্রদাহ কমানো, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও টক্সিসিটি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে যদি এসব গাছ থেকে অ্যালকোহলিক বা অ্যাকোয়াস এক্সট্রাক্ট প্রস্তুত করে বৈজ্ঞানিক ট্রায়ালের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়, তাহলে তা নতুন প্রাকৃতিক ওষুধ উদ্ভাবনে এবং নিরাপদ চিকিৎসা বিকাশে বড় অবদান রাখতে পারবে বলে আমি মনে করি।’

এই বিষয়ে একই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শরীফা জাহান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত ঔষধি বাগানটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ঔষধি গুণাবলি সম্পন্ন গাছগুলো সম্পর্কে জানতে পারবে, যা তাদের বইয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি প্রকৃতি শিখনেও আগ্রহী করে গড়ে তুলবে। এছাড়াও বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন রোগের জন্য কার্যকরী চিকিৎসা খুঁজে পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ছে। এখানে আমাদের ঔষধি গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রকৃতির মাঝে এমন অনেক গাছ রয়েছে যেগুলোর মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, এন্টিভাইরাল, এন্টি ফাঙ্গাল প্রভাব রয়েছে, যা বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হওয়া এ ঔষধি বাগানটি ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য এক দারুণ গবেষণাক্ষেত্র হিসেবে কাজ করতে পারে। গাছগুলো থেকে আমরা নতুন নতুন উপাদান সংগ্রহ করে নতুন ওষুধের উপাদান খুঁজে বের করতে পারি, যা আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।’

সাইদ আহম্মদ/এসএনআর/এমএমএআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow