কক্সবাজারে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ পুরো জেলায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত যৌথবাহিনীর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে রামু ক্যান্টনমেন্টের ১০ পদাতিক ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে পর্যাপ্তসংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নয়, সব ভোটকেন্দ্রকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। কোনো দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে যেন দ্রুত সেখানে পৌঁছানো যায়, সে জন্য একাধিকবার রিহার্সাল সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে যে কোনো পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম থাকবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর বলেন, অতীতের যে কোনো নির্বাচনের তুলনায় এবার সেনাবাহিনীর মোতায়েন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পগুলোতে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে চেকপয়েন্ট, ফেন্সিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামতও সম্পন্ন হয়েছে। ক্যাম্পের আশপাশে সেনাবাহিনী, এপিবিএনসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে।
তানভীর আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গারা যেন কোনোভাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুপতা বলেন, গত ৩ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে মোট ৪৬টি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, ডাকাত দলের সদস্য, কিশোর গ্যাং, চোরাকারবারি ও বিভিন্ন মামলার আসামিসহ মোট ৫৯ জন অপরাধী এবং ১ হাজার ১৪৯ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে ৬টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১১৪টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, ৮ হাজার ৪৫০ পিস ইয়াবা, ২ হাজার ৩১১ লিটার দেশীয় মদ এবং ৪৯ লিটার বিয়ারসহ বিভিন্ন নাশকতা সৃষ্টিকারী সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন র্যাব-১৫ এর সিনিয়র এএসপি মো. ফারুক, বিজিবি রামু সেক্টরের মেজর নাজমুস সাকিব, জি-২ (ইন্ট) মেজর ওমর ফারুক এবং কক্সবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার।