কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই যেভাবে কমাবেন
কচু শাক বাঙালির রান্নাঘরের পরিচিত একটি শাক। পুষ্টিগুণের কারণেও এটি খাবারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। তবে কচু শাক খাওয়ার পর গলা চুলকানো বা খসখসে লাগার অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। কখনো কখনো এমন অস্বস্তি হয় যে, পরবর্তীতে কচু শাক খাওয়ার কথাই ভাবতে চান না অনেকে। এই সমস্যার পেছনে রয়েছে কচুতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান। কচু জাতীয় উদ্ভিদে ক্যালসিয়াম অক্সালেট নামের সূক্ষ্ম স্ফটিক থাকতে পারে। এগুলো দেখতে অনেকটা অতি ক্ষুদ্র সূচের মতো। কচু সঠিকভাবে পরিষ্কার ও রান্না না হলে এসব স্ফটিক মুখ ও গলার নরম টিস্যুতে সাময়িকভাবে অস্বস্তি, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে। তেঁতুল কেন ব্যবহার করা হয়? কচু রান্নার সময় তেঁতুল বা অন্য কোনো টক উপাদান ব্যবহারের প্রচলন অনেক পুরোনো। অম্লীয় উপাদান কচুর অক্সালেটের প্রভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে। এ কারণেই কচু খাওয়ার পর গলা চুলকালে অনেকেই তেঁতুলের পানি পান করার পরামর্শ দেন। কিন্তু বাড়িতে তেঁতুল না থাকলে কী করবেন? সে ক্ষেত্রে কয়েকটি সহজ উপায় সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। ভিনেগারের পানি রান্নাঘরে থাকা সাধারণ ভিনেগারও ব্যবহার করা যেতে পারে। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অল্প ভিনেগার মিশিয়
কচু শাক বাঙালির রান্নাঘরের পরিচিত একটি শাক। পুষ্টিগুণের কারণেও এটি খাবারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। তবে কচু শাক খাওয়ার পর গলা চুলকানো বা খসখসে লাগার অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। কখনো কখনো এমন অস্বস্তি হয় যে, পরবর্তীতে কচু শাক খাওয়ার কথাই ভাবতে চান না অনেকে।
এই সমস্যার পেছনে রয়েছে কচুতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান। কচু জাতীয় উদ্ভিদে ক্যালসিয়াম অক্সালেট নামের সূক্ষ্ম স্ফটিক থাকতে পারে। এগুলো দেখতে অনেকটা অতি ক্ষুদ্র সূচের মতো। কচু সঠিকভাবে পরিষ্কার ও রান্না না হলে এসব স্ফটিক মুখ ও গলার নরম টিস্যুতে সাময়িকভাবে অস্বস্তি, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে।
তেঁতুল কেন ব্যবহার করা হয়?
কচু রান্নার সময় তেঁতুল বা অন্য কোনো টক উপাদান ব্যবহারের প্রচলন অনেক পুরোনো। অম্লীয় উপাদান কচুর অক্সালেটের প্রভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে। এ কারণেই কচু খাওয়ার পর গলা চুলকালে অনেকেই তেঁতুলের পানি পান করার পরামর্শ দেন। কিন্তু বাড়িতে তেঁতুল না থাকলে কী করবেন? সে ক্ষেত্রে কয়েকটি সহজ উপায় সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।
ভিনেগারের পানি
রান্নাঘরে থাকা সাধারণ ভিনেগারও ব্যবহার করা যেতে পারে। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অল্প ভিনেগার মিশিয়ে কুলকুচি করলে গলার অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে। তবে ভিনেগার কখনোই সরাসরি পান করা উচিত নয়। বেশি পরিমাণে ভিনেগার খেলে বরং মুখ, গলা ও পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া হতে পারে।
সঠিক প্রস্তুতি ও রান্নার মাধ্যমে কচু শাকের অস্বস্তিকর প্রভাব এড়ানো যায়
মধু হতে পারে আরেক উপায়
গলা খসখসে বা শুষ্ক লাগলে এক চামচ মধু ধীরে ধীরে খাওয়া যেতে পারে। মধু গলার ওপর সাময়িকভাবে আরামদায়ক আবরণ তৈরি করে অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। চাইলে সামান্য কুসুম গরম পানির সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া যায়।
গুড় বা মিছরি
হাতের কাছে মধু বা তেঁতুল কোনোটিই না থাকলে অল্প গুড় কিংবা মিছরি মুখে রেখে ধীরে ধীরে
গলিয়ে খেতে পারেন। এতে মুখে লালা নিঃসরণ বাড়ে এবং গলার শুষ্কতা কিছুটা কমতে পারে। তবে এটি মূল কারণ দূর করার চিকিৎসা নয়, সাময়িক আরামের উপায় মাত্র।
রান্নার সময়ই সাবধানতা জরুরি
কচু শাক রান্নার আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করে পর্যাপ্ত সময় ধরে সিদ্ধ বা ভাপিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই কচু সিদ্ধ করার পর সেই পানি ফেলে দিয়ে নতুন করে রান্না করেন। রান্নার সময় তেঁতুল, লেবুর রস, আমচুর বা অন্য টক উপাদান ব্যবহার করাও প্রচলিত।
তবে শুধু গলা চুলকানো নয়, কচু খাওয়ার পর যদি গলা বা জিহ্বা ফুলে যায়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, ঠোঁট ফুলে যায়, মাথা ঘোরে কিংবা শরীরে ব্যাপক চাকা ওঠে, তাহলে বিষয়টি সাধারণ কচুর অস্বস্তি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এগুলো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ত্রিশের পর রিচ ফুড পরিমাণে কেন কম খাবেন?
পরবর্তীতে যাতে এমন সমস্যায় না পড়তে হয়, সেজন্য কচু কাটার পর ভালোভাবে লবণ ও হলুদ মেশানো পানিতে ভাপিয়ে সেই পানি ফেলে দিন। এরপর রান্না করলে গলা চুলকানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমতে পারে।

গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়
এছাড়া কচুর যেকোনো পদ রান্নার সময় পরিমাণমতো লেবুর রস, তেঁতুল বা দই ব্যবহার করা যেতে পারে। রান্নার সময় এসব অম্লীয় উপাদান কচুর অক্সালেটের প্রভাব কমাতে সহায়তা করে, ফলে খাওয়ার পর গলায় অস্বস্তি হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।
সূত্র: এনডিটিভি ফুড, হেলথলাইন
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?