কত টাকা চুক্তিতে খুন করা হয় বিএনপি নেতাকে
যশোরের বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ। হত্যা মিশনে থাকা শাহীন কাজী নামে আরও একজনকে আটকের পর এই তথ্য জানা গেছে। শাহীন কাজী (২৫) যশোর শহরের রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার কিসলু কাজীর ছেলে। বর্তমানে তিনি শহরের লোন অফিসপাড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির বিপরীতে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। শাহীন মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন। বিচারক আছাদুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় শাহীনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী (নিহতের জামাই) বাসেদ আলী পরশ ও তার সহযোগী আসাবুল ইসলাম সাগর রিমান্ডে থাকাকালে শাহীন কাজীর নাম উল্লেখ করেন। পরে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া মূল শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুক আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও শাহীন কাজীর নাম প্রকাশ করেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই অলক কুমার দে সোমবার (১২ জানুযারি) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে লোন অফিসপাড়া থেকে তাকে আটক করেন। যদিও তার স্বজনরা জানিয়েছেন, সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিক
যশোরের বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ। হত্যা মিশনে থাকা শাহীন কাজী নামে আরও একজনকে আটকের পর এই তথ্য জানা গেছে।
শাহীন কাজী (২৫) যশোর শহরের রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার কিসলু কাজীর ছেলে। বর্তমানে তিনি শহরের লোন অফিসপাড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির বিপরীতে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
শাহীন মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন। বিচারক আছাদুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় শাহীনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী (নিহতের জামাই) বাসেদ আলী পরশ ও তার সহযোগী আসাবুল ইসলাম সাগর রিমান্ডে থাকাকালে শাহীন কাজীর নাম উল্লেখ করেন। পরে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া মূল শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুক আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও শাহীন কাজীর নাম প্রকাশ করেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই অলক কুমার দে সোমবার (১২ জানুযারি) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে লোন অফিসপাড়া থেকে তাকে আটক করেন। যদিও তার স্বজনরা জানিয়েছেন, সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ডিবি পুলিশ বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে যায় শাহীনকে।
ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে হত্যার জন্য ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকা চুক্তি করেন নিহতের জামাই আবেদ আলী পরশ। হত্যার কারণ হলো, শ্বশুর আলমগীর হোসেনের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ। আর শ্বশুরের অনুপস্থিতিতে তার বিপুল সম্পদের মালিক হবেন পরশ।
এ লক্ষ্যে এর আগেও ভাড়াটিয়াদের মাধ্যমে একবার হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু সেবার গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। আলমগীর হোসেনও বুঝতেও পারেননি যে তাকে গুলি করা হয়েছিল। এবার যেন লক্ষ্যভ্রষ্ট না হয়, সে কারণে আটঘাট বেঁধে নামে সন্ত্রাসীরা। ঘটনার দিন, অর্থাৎ ৩ জানুয়ারি বিকেলে তারা যশোর শহরের শংকরপুর মেডিকেল কলেজের মাঠে মিটিংয়ে বসেন। আলমগীরকে চেনানো, তার পিছু নেওয়া, গুলি কে করবে এবং কোন পথ দিয়ে যাবে- সবকিছু মিটিংয়ে বসে পরিকল্পনা করা হয়।
সূত্র জানিয়েছে, আলমগীর হোসেনকে খুন করতে খরচ ধরা হয় ১৫ লাখ টাকা। এই পুরো খরচ বহন করবেন পরশ। প্রথম দিন দেওয়া হবে পাঁচ লাখ টাকা। বিকেলে পরশ এক লাখ টাকা এবং একটি পিস্তল তুলে দেন মিশুকের হাতে। বাকি চার লাখ টাকা শংকরপুরের প্রিন্সের কাছ থেকে ধার হিসেবে নেবেন পরশ।
প্রিন্সের শাশুড়ি সম্প্রতি একটি জমি বিক্রি করেছেন। তার কাছে নগদ বেশ কিছু টাকা রয়েছে। প্রিন্সের কাজ তার শাশুড়ির কাছ থেকে ওই টাকা নিয়ে পরশের হাতে দেওয়া। হত্যাকাণ্ডের পর রাতে পরশ ওই টাকা ভাগাভাগি করে সবাইকে দেবেন। বাকি দশ লাখ টাকা সুবিধামতো সময়ে দেওয়া হবে বলে পরশ জানান। আর অস্ত্রটি পরশের নিজের। কিছুদিনের জন্য অস্ত্রটি সন্ত্রাসী ভাইপো রাকিবকে ধার দেন পরশ। হত্যাকাণ্ডের পর ফের রাকিবের কাছেই চলে যায় অস্ত্রটি।
সূত্র জানিয়েছে, বিকেলে মিটিংয়ে পরশ, আশাবুল ইসলাম সাগর, শাহীন কাজী, বেজপাড়ার অমি, শংকরপুরে রাকিব ওরফে ভাইপো রাকিবসহ ১০/১২ জন ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম মোটরসাইকেলে থাকবে অমিত ও শুটার মিশুক। পরের মোটরসাইকেলে থাকবে আরও দুইজন এবং তৃতীয় মোটরসাইকেলে থাকবে তিনজন। অভিযানে নামবে মোট সাতজন।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে আলমগীর হোসেন যখন মোটরসাইকেল চালিয়ে শংকরপুর বটতলা হয়ে ইসহাক সড়কে ঢোকেন, সে সময় তিন মোটরসাইকেল তার কিছু নেয়। ইসহাক সড়কে ঢুকতে আলমগীর হোসেন একটি দোকানে কিছু সময়ের জন্য দাঁড়ান। তারাও দাঁড়িয়ে যায়। একটি মোটরসাইকেল আগে চলে যায়। আলমগীর হোসেন যখন সাবেক কাউন্সিলর নয়নের অফিসের কাছাকাছি পৌঁছান, সেই সময়ে চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি করেন মিশুক। এরপর চারজনে দুটি মোটরসাইকেলে দ্রুত চলে যায় গোলপাতা মসজিদের দিকে। আর শাহীন গাজীকে বহন করা তৃতীয় মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থল থেকে ঘুরিয়ে ফের বটতলার দিকে চলে যায়।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শাহীন কাজী এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। ভাড়াটে খুনি ও পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে সমন্বয় এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তথ্য রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই অলোক কুমার দে জানিয়েছেন, শাহীন কাজী আটক হওয়ার পর বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যার মূল মোটিভ উদ্ধার করা গেছে। এখন পুলিশের কাছে পরিষ্কার ওই হত্যামিশনে কারা ছিল। পুলিশ বাকি পলাতক আসামিদের আটকের চেষ্টা করছে। তবে, হত্যার জন্য যে ১৫ লাখ টাকা চুক্তি হয়েছিল এটা ঠিক।
প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের জামাই পরশ, সহযোগী সাগর, মূল শুটার ত্রিদিব ওরফে মিশুক এবং সর্বশেষ শাহীন কাজী মিলিয়ে মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে।
What's Your Reaction?