কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, নিহত ২১
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। সোমবারের এ ভূমিকম্পে বিভিন্ন শহরে ভবন ধসে পড়ে এবং ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। পেরেইরার মেয়র মরিসিও সালাজার জানিয়েছেন, শুধু শহরটিতেই অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মানিজালেসের মেয়র হোর্হে এদুয়ার্দো রোহাস জানান, সেখানে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং ৩২টির বেশি ভবন পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ লিকেজের খবরও পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের পর শহরটিতে সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। চোকো বিভাগের রাজধানী কিবদোতে প্রাথমিকভাবে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেখানে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় ১২টা ৩৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সান হোসে দেল পালমার শহরের প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। শক্তিশালী ভূমিকম্প হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন, ওয়াশিংটন ও আলাস্কা উপকূলে কোনো সুনামির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়ে
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। সোমবারের এ ভূমিকম্পে বিভিন্ন শহরে ভবন ধসে পড়ে এবং ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
পেরেইরার মেয়র মরিসিও সালাজার জানিয়েছেন, শুধু শহরটিতেই অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মানিজালেসের মেয়র হোর্হে এদুয়ার্দো রোহাস জানান, সেখানে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং ৩২টির বেশি ভবন পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ লিকেজের খবরও পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের পর শহরটিতে সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
চোকো বিভাগের রাজধানী কিবদোতে প্রাথমিকভাবে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেখানে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় ১২টা ৩৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সান হোসে দেল পালমার শহরের প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার।
শক্তিশালী ভূমিকম্প হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন, ওয়াশিংটন ও আলাস্কা উপকূলে কোনো সুনামির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশেও সুনামির আশঙ্কা নাকচ করা হয়েছে। কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলেও সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পে কলম্বিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যালির আলফোনসো বোনিয়া আরাগন বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর পুরাসে আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই ছড়িয়ে পড়ায় পোপায়ান বিমানবন্দরের কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে।
এর আগে পেরেইরা, মানিজালেস, কিবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেনতুরার বিমানবন্দরেও কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।
ভূমিকম্পের প্রায় ৪৪ মিনিট পর সান হোসে দেল পালমারের প্রায় ১৬ কিলোমিটার পশ্চিমে ৫ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হয়।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা ভূমিকম্পের পর জরুরি উদ্ধার তৎপরতা বাড়াতে ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত কমান্ড পোস্ট গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালকের কাছে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চেয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে এবং সরকারের উদ্ধার তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করতে তিনি পেরেইরায় যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
চোকো বিভাগের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কোরদোবা কুরি জানিয়েছেন, কিবদোতে ব্যাপক কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
কিবদোর দমকলকর্মীরা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ভেতরে কয়েকজন আটকা পড়েছেন। ক্যালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানিয়েছেন, শহরটিতে অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মানুষ আটকা পড়েছেন।
মানিজালেসেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে শহরের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালের একটি প্রধান টাওয়ারের কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মূল ভবনের দিকে হেলে পড়তে দেখা গেছে।
মেদেলিনের মেয়র ফেদেরিকো গুতিয়েরেস জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে শহরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলগুলো কাজ করছে।
রাজধানী বোগোতায় ভূমিকম্পের সময় জরুরি সাইরেন বেজে ওঠে। আতঙ্কে হাজারো বাসিন্দা ও অফিসকর্মী ভবন ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
কলম্বিয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি চলতি শতকে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
What's Your Reaction?