কাঁচামালে শুল্ক দ্বিগুণ, বাড়তে পারে প্লাস্টিক পণ্যের দাম
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্লাস্টিক শিল্পের অন্যতম প্রধান দুই কাঁচামাল পিভিসি ও পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে প্লাস্টিক খাতের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়ে বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্যের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে জাতীয় বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী এ প্রস্তাব করেন। তিনি নতুন অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত বাজেট প্রস্তাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনে বহুল ব্যবহৃত এই দুই কাঁচামালের ওপর শুল্কহার দ্বিগুণ করা হচ্ছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে স্থানীয় উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং রপ্তানিমুখী শিল্পও নতুন চাপে পড়বে। পিভিসি ও পিইটি রেজিন অত্যন্ত বহুমুখী প্লাস্টিক কাঁচামাল। গৃহস্থালি ব্যবহার্য পণ্য থেকে শুরু করে নির্মাণ খাত, প্যাকেজিং শিল্প, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন শিল্প কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমে এসব কাঁচামাল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এ কাঁচামাল দিয়ে তৈরি হয় পিভিস
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্লাস্টিক শিল্পের অন্যতম প্রধান দুই কাঁচামাল পিভিসি ও পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে প্লাস্টিক খাতের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়ে বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্যের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে জাতীয় বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী এ প্রস্তাব করেন। তিনি নতুন অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট।
জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত বাজেট প্রস্তাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনে বহুল ব্যবহৃত এই দুই কাঁচামালের ওপর শুল্কহার দ্বিগুণ করা হচ্ছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে স্থানীয় উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং রপ্তানিমুখী শিল্পও নতুন চাপে পড়বে।
পিভিসি ও পিইটি রেজিন অত্যন্ত বহুমুখী প্লাস্টিক কাঁচামাল। গৃহস্থালি ব্যবহার্য পণ্য থেকে শুরু করে নির্মাণ খাত, প্যাকেজিং শিল্প, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন শিল্প কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমে এসব কাঁচামাল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এ কাঁচামাল দিয়ে তৈরি হয় পিভিসি পাইপ, ফিটিংস, পানির ট্যাংক, দরজা-জানালা, সিলিং ও ফ্লোরিং সামগ্রী। বৈদ্যুতিক তার ও ক্যাবলের আবরণ তৈরিতেও পিভিসি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ওষুধ, ব্যাটারি ও বিভিন্ন ভোক্তা পণ্যের প্যাকেজিং, কৃত্রিম চামড়া, জুতার সোলসহ অসংখ্য পণ্য উৎপাদনে পিইটি ও পিভিসি রেজিন ব্যবহৃত হয়।
ফলে শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব শুধু প্লাস্টিক শিল্পেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং নির্মাণ, প্যাকেজিং, বিদ্যুৎ এবং ভোগ্যপণ্য খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানতে চাইলে প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি সামিম আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, এবারের বাজেটে আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। কাঁচামালের ওপর করভার বাড়ানো হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং শিল্প উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
তিনি বলেন, সরকার যখন রপ্তানি ও শিল্পায়ন বাড়ানোর কথা বলছে, তখন শিল্পের প্রধান কাঁচামালের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি উদ্যোক্তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি ও প্লাস্টিক খাতের উদ্যোক্তা মো. ইউসুফ আশরাফ বলেন, বাজেটে প্লাস্টিক খাতের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো প্রণোদনা নেই। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আমরা আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। রপ্তানি পরিস্থিতিও এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এর মধ্যে কাঁচামালের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি আমাদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করবে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের প্লাস্টিক শিল্প বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানি বাজারেও অবস্থান তৈরি করেছে। তবে অধিকাংশ কাঁচামাল আমদানিনির্ভর হওয়ায় শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি উৎপাদন ব্যয়ের ওপর পড়ে।
তারা বলছেন, কাঁচামালের শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় আমদানি ব্যয় বাড়বে। এর ফলে একদিকে উৎপাদকদের মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হবে, অন্যদিকে বাজারে বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে পাইপ, ফিটিংস, পানির ট্যাংক, প্যাকেজিং সামগ্রী, বৈদ্যুতিক তারের আবরণ, কৃত্রিম চামড়া ও জুতাসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে।
এসএম/এমএমকে
What's Your Reaction?