কাজী ফার্মসের নাম ভাঙিয়ে অভিনব প্রতারণা, গ্রেফতার ২

যশোরে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছেন সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিমের সদস্যরা। উদ্ধার করা হয়েছে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাত করা গমের ভুসি বিক্রির ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা, ৭৭ বস্তা গমের ভুসি এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন, ৫১টি সিমকার্ড, দুটি ল্যাপটপ, একটি মোটরসাইকেল ও সোনার গহনা। এ ঘটনায় বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাসুম খান। গ্রেফতাররা হলেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার নটাবাড়িয়া গ্রামের নুরু মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম এবং একই উপজেলার দোদারিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে খালেক সরদার। তাদের মধ্যে মনিরুলকে যশোরের নাজির শংকরপুর এবং খালেককে পুরাতন কসবা এলাকা থেকে আটক করা হয়। আরও পড়ুন এসএসসি / যশোর বোর্ডের শীর্ষে খুলনা, তলানিতে কুষ্টিয়া পরে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পাবনার পুটে বাজারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে এই চক্রের আরেক সহযোগী আবুল বাসারকে আটক করতে গেলে তিনি পালিয়ে যান। তবে সেখান থেকে খোয়া যাওয়া মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই যশোরের কাজী ফার্মস লিমিটেডের

কাজী ফার্মসের নাম ভাঙিয়ে অভিনব প্রতারণা, গ্রেফতার ২

যশোরে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছেন সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিমের সদস্যরা। উদ্ধার করা হয়েছে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাত করা গমের ভুসি বিক্রির ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা, ৭৭ বস্তা গমের ভুসি এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন, ৫১টি সিমকার্ড, দুটি ল্যাপটপ, একটি মোটরসাইকেল ও সোনার গহনা।

এ ঘটনায় বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাসুম খান।

গ্রেফতাররা হলেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার নটাবাড়িয়া গ্রামের নুরু মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম এবং একই উপজেলার দোদারিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে খালেক সরদার। তাদের মধ্যে মনিরুলকে যশোরের নাজির শংকরপুর এবং খালেককে পুরাতন কসবা এলাকা থেকে আটক করা হয়।

পরে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পাবনার পুটে বাজারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে এই চক্রের আরেক সহযোগী আবুল বাসারকে আটক করতে গেলে তিনি পালিয়ে যান। তবে সেখান থেকে খোয়া যাওয়া মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই যশোরের কাজী ফার্মস লিমিটেডের ম্যানেজার ও পরিচালক পরিচয়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা চুয়াডাঙ্গার মেসার্স আর এস ইন্টারন্যাশনালের মালিক মানিক কুমার আগরওয়ালকে ফোন করেন। তারা প্রতিকেজি ৩২ টাকা দরে মোট ৭৫ মেট্রিক টন গমের ভুসি কেনার জন্য চুক্তি করেন। পরে ২২ ও ২৫ জুলাই দুই দফায় পাঁচটি ট্রাকে করে চাহিদা অনুযায়ী গমের ভুসি সরবরাহ করা হয়। এরপর প্রতারক চক্রের কথামতো ট্রাকভাড়া, তথাকথিত সিকিউরিটি মানি এবং ভ্যাটের নামে বিভিন্ন বিকাশ নম্বর ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের চুয়াডাঙ্গা শাখার একটি হিসাবে কয়েক দফায় টাকা পাঠানো হয়।

৩১ জুলাই প্রতারক চক্রটি পুনরায় ৩০ হাজার টাকা ধার চাইলে ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হয়। ২ আগস্ট ওই ব্যবসায়ী যশোর সদর উপজেলার শানতলা এলাকায় অবস্থিত কাজী ফার্মস লিমিটেডের অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটি থেকে গমের ভুসির কোনো অর্ডার দেওয়া হয়নি এবং ভুয়া পরিচালক পরিচয়ে প্রতারণা করা হয়েছে।

পরে ট্রাকচালকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, প্রতারক চক্রটি চুড়ামনকাঠি বাজারসংলগ্ন কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সামনের পাকা সড়কে ট্রাক থেকে মালামাল আনলোড করে নিয়ে গেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ২৫৬ টাকার মালামাল আত্মসাত করা হয়। পরে তারা বিষয়টি যশোর জেলা পুলিশকে জানান।

যশোর জেলা পুলিশের সাইবার টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে দুই প্রতারককে গ্রেফতার করে। এসময় খোয়া যাওয়া মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের অপর সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মিলন রহমান/এসআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow