কারওয়ান বাজার-তেজগাঁওয়ে চাঁদাবাজি বন্ধ করবো

তেজগাঁও, হাতিরঝিল ও শেরেবাংলা নগর নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২। সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে এই আসনে প্রার্থী ছিলেন ১৫ জন; যা এবারের নির্বাচনে দেশের যে কোনো একক আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তাদের সবাইকে পেছনে ফেলে আসটিতে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সাইফুল আলম খান মিলন। নিজ আসনে মাদক-চাঁদাবাজি বন্ধ, আগামীর পরিকল্পনা, জয় পরবর্তী প্রতিক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন সাইফুল আলম খান মিলন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মুসা আহমেদ। জাগো নিউজ: আপনাকে অভিনন্দন, কেমন আছেন? সাইফুল আলম খান মিলন: জাগো নিউজকে ধন্যবাদ। আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। জাগো নিউজ: নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। এখন আপনার প্রতিক্রিয়া কী? সাইফুল আলম খান মিলন: ঢাকা-১২ আসনে দাঁড়িপাল্লার বিজয় দলের নয়, এ বিজয় জনগণের। আমি জামায়াতে ইসলামের নয়, জনগণের এমপি হয়েছি। জনগণ যে প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমাকে ভোট দিয়েছেন, আমি তাদের আশার প্রতিফল ঘটাবো, ইনশাল্লাহ। জাগো নিউজ: আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদ

কারওয়ান বাজার-তেজগাঁওয়ে চাঁদাবাজি বন্ধ করবো

তেজগাঁও, হাতিরঝিল ও শেরেবাংলা নগর নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২। সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে এই আসনে প্রার্থী ছিলেন ১৫ জন; যা এবারের নির্বাচনে দেশের যে কোনো একক আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তাদের সবাইকে পেছনে ফেলে আসটিতে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সাইফুল আলম খান মিলন। নিজ আসনে মাদক-চাঁদাবাজি বন্ধ, আগামীর পরিকল্পনা, জয় পরবর্তী প্রতিক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন সাইফুল আলম খান মিলন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মুসা আহমেদ।

জাগো নিউজ: আপনাকে অভিনন্দন, কেমন আছেন?

সাইফুল আলম খান মিলন: জাগো নিউজকে ধন্যবাদ। আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।

জাগো নিউজ: নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। এখন আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

সাইফুল আলম খান মিলন: ঢাকা-১২ আসনে দাঁড়িপাল্লার বিজয় দলের নয়, এ বিজয় জনগণের। আমি জামায়াতে ইসলামের নয়, জনগণের এমপি হয়েছি। জনগণ যে প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমাকে ভোট দিয়েছেন, আমি তাদের আশার প্রতিফল ঘটাবো, ইনশাল্লাহ।

জাগো নিউজ: আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। তারপর ঢাকা-১২ আসনে কোন কাজটা সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেবেন?

সাইফুল আলম খান মিলন: আমি গতকাল রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে নিজ নির্বাচনি এলাকায় নাগরিক সেবামূলক কাজ শুরু করে দিয়েছি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো নির্বাচনি এলাকায় ঘুরেছি। ভোটারদের নানান সমস্যার কথা জেনেছি। এক এক করে তাদের সব সমস্যা সমাধান করা হবে।

জাগো নিউজ: কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও, ফার্মগেটে চাঁদাবাজি একটা বড় সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে কী ভূমি রাখবেন?

সাইফুল আলম খান মিলন: আমার আসনের সবচেয়ে বড় সমস্যা চাঁদাবাজি। এটা নিয়ন্ত্রণ কঠিন বটে, তবে তা অসম্ভব নয়। এই কাজে আমি প্রথমে নজর দিতে চাই। এজন্য থানা পুলিশ, গণমাধ্যম, নাগরিকদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, গতকাল কারওয়ান বাজারের সব শ্রেণির ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা চাঁদাবাজিসহ অনেক অভিযোগ জানিয়েছেন। সেখানে ফুটপাতের ওপরে অসংখ্য দোকান বসে। রাস্তার ওপর ট্রাক, পিকআপ পার্কিং করে রাখে। এ সড়কে সবসময় যানজট লেগে থাকে। এসব অবৈধ দোকান থেকে দিনে তিন শিফটে (আট ঘণ্টা করে ভাড়া) চাঁদা তেলা হয়। এখনো যদি ৫০০ দোকান থাকে এবং প্রতিটি দোকান থেকে থেকে যদি দিনে ৫০০ টাকা করেও তোলা হয়, তাহলে তো টাকার পরিমাণ অনেক বেশি। এ চাঁদার ভাগ থানায়ও যায় বলে শুনেছি।

কারওয়ান বাজারের ফুটপাত এবং সড়কে যারা হকারি করেন তারা যে খুব গরিব এটা ভাবার কোনো কারণ নেই জানিয়ে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, তাদের মধ্যে অনেক সচ্ছল ব্যক্তিও আছেন। তারা বৈধ উপায়ে ব্যবসা করতে চান। এখানে সিটি করপোরেশন মূল ভূমিকা পালন করতে পারে। হকারদের বিকল্প ব্যবস্থাপনা করার কথা ভাবছি। তাদের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ দিলে হয়তো এ সমস্যার সমাধান হতে পারে।

জাগো নিউজ: ওই চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ আপনার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জ?

সাইফুল আলম খান মিলন: চাঁদাবাজিটা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই চ্যালেঞ্জ, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা (বিএনপি-জামায়াত) যখন নির্বাচনের আগে বলেছি, আমরা একটা সুন্দর বাংলাদেশ গরবো; সেখানে কোনো অন্যায় থাকবে না; চাঁদাবাজি থাকবে না। সেটা যদি সত্যি হয় তাহলে চাঁদাবাজ যে দলেরই হোক না কেন, তাদের কন্ট্রোল করার দায়িত্ব ওই দলের। আমার কথা হলো আমি সংসদ সদস্য হিসেবে বিষয়টি তুলে ধরবো। আমি গিয়ে তো তাদের সঙ্গে মারামারি করতে পারবো না। সংশ্লষ্ট দলকে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

মাদকের বিরুদ্ধে একটা সোশ্যাল প্রেসার তৈরি করতে হবে জানিয়ে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, গত কয়েক দিন ঢাকা-১২ এর বিভিন্ন এলাকায় গেছি। সব এলাকার মায়েদের ভাষ্য, মাদকের কারণে তাদের সংসার, ছেলেমেয়েদের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। তাই এ বিষয়ে জনসচেতনতায় জনগণকে নিয়ে নাগরিক সংলাপের ব্যবস্থা করবো। একটা জাতিকে এভাবে ধ্বংস হতে দেবো না। এছাড়া ঢাকা-১২ আসনে গ্যাস, পানি সংকট রয়েছে। বর্ষায় জলাবদ্ধতাও প্রকট। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করবো।

জাগো নিউজ: সংসদ সদস্য হওয়ার পর অনেকেই জনগণের খবর নেন না। জনগণ তার সমস্যার কথা বলতে পারেন না। আপনার ক্ষেত্রেও কি এমনটাই হবে?

সাইফুল আলম খান মিলন: আমি গতকাল রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১২ আসনের পৃথক চারটি এলাকায় জনগণকে নিয়ে সভা করেছি। আমি জনবিচ্ছিন্ন হবো না। আমার তেজকুনিপাড়ার বাসা এবং মগবাজার দলীয় কার্যালয়ের (জামায়াতে ইসলামে কেন্দ্রীয় কার্যালয়) একটি কক্ষ সবসময় জনগণের জন্য ওপেন থাকবে। এ দুটি জায়গায় স্থানীয় জনগণ আমাকে সব সময় পাবেন।

সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারি বাসা নেবেন না জানিয়ে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি, সরকার সংসদ সদস্যদের জন্য যেসব ফ্ল্যাট দেয়; সেসব ফ্ল্যাট আমরা নেবো না। আমি আমার এলাকায় থাকবো। ওই ফ্ল্যাট নিলে দারোয়ানদের পাল্লায় পড়ে অনেক জনগণ এমপিদের কাছে যেতে পারেন না। আমি তেজকুনিপাড়া বাসায় সবসময় থাকবো। সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর ঢাকা-১২ আসন গড়বো, ইনশাল্লাহ।

জাগো নিউজ: জাগো নিউজকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সাইফুল আলম খান মিলন: আমার সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য জাগো নিউজকেও ধন্যবাদ।

এমএমএ/ইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow