কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী

স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় ছোটপর্দার অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়ার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন জাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জামিন আবেদনে আসামিপক্ষ দাবি করে, ঘটনাটির সঙ্গে জাহের আলভীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রেমের বিয়েকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও প্রতিহিংসা থেকে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এছাড়া মামলার এজাহারেও তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়। আরও পড়ুন কী হবে জাহের আলভীর, ‘প্ররোচনার’ প্রমাণ কি মিলবে আবেদনে আরও বলা হয়, মামলাটি দায়েরের সময় জাহের আলভী নাটকের শুটিংয়ের কাজে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নেপালে অবস্থান করছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টিও আদালতের নজরে আনা হয়। আসামিপক্ষ জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অ্যাজমা ব্রঙ্কাই

কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী

স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় ছোটপর্দার অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়ার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন জাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামিন আবেদনে আসামিপক্ষ দাবি করে, ঘটনাটির সঙ্গে জাহের আলভীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রেমের বিয়েকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও প্রতিহিংসা থেকে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এছাড়া মামলার এজাহারেও তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, মামলাটি দায়েরের সময় জাহের আলভী নাটকের শুটিংয়ের কাজে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নেপালে অবস্থান করছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টিও আদালতের নজরে আনা হয়।

আসামিপক্ষ জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অ্যাজমা ব্রঙ্কাইটিসে ভুগছেন। গত ১৩ জুন হঠাৎ অ্যাজমার তীব্র আক্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

তাদের দাবি, বর্তমান শারীরিক অবস্থায় তাকে কারাগারে রাখা হলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে ন্যায়বিচারের স্বার্থে জামিন দেওয়া প্রয়োজন।

শুনানিতে জাহের আলভীর পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ একাধিক আইনজীবী অংশ নেন। অন্যদিকে বাদীপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরদিন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের মানসিক নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।

২০১০ সালে জাহের আলভী ও আফরা ইবনাত ইকরার বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলেও রয়েছে। একই মামলায় গত ৪ জুন আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি।

এমডিএএ/ইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow