কালবৈশাখীর তাণ্ডবে পাঁচদিন ধরে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ১০ গ্রাম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়নে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। পাঁচ দিনেও মেরামত না হওয়ায় অন্ধকারে রয়েছে অন্তত ১০টি গ্রাম। এতে অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা। ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সোমবার (১৮ মে) রাত আড়াইটার দিকে শুরু হয়ে ভোর ৪টা পর্যন্ত উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে এই ক্ষয়-ক্ষতি হয়। জানা গেছে, প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা কালবৈশাখী ঝড়ের এই তাণ্ডবে পৌরশহরসহ উপজেলার তারাপুর, দহবন্দ, শান্তিরাম, সোনারায়, বামনডাঙ্গা, বেলকা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ পড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়াসহ উপড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিও। ফলে পৌরসভাসহ অন্তত ২০টি গ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। রাতেই পৌরশহর এবং পরদিন আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলেও এখন পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ রয়েছে অন্তত ১০টি গ্রামে। এদিকে ঝড়ে সুন্দরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পৌরসভাসহ পুরো উপজেলায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে ২২টি। ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে ১০টি। এছাড়া গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যায় প্রায় ২০০ জায়গায়। গ্রাহকদের মিটার ক্ষতিগ্রস্
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়নে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। পাঁচ দিনেও মেরামত না হওয়ায় অন্ধকারে রয়েছে অন্তত ১০টি গ্রাম। এতে অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা। ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
সোমবার (১৮ মে) রাত আড়াইটার দিকে শুরু হয়ে ভোর ৪টা পর্যন্ত উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে এই ক্ষয়-ক্ষতি হয়।
জানা গেছে, প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা কালবৈশাখী ঝড়ের এই তাণ্ডবে পৌরশহরসহ উপজেলার তারাপুর, দহবন্দ, শান্তিরাম, সোনারায়, বামনডাঙ্গা, বেলকা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ পড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়াসহ উপড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিও। ফলে পৌরসভাসহ অন্তত ২০টি গ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। রাতেই পৌরশহর এবং পরদিন আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলেও এখন পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ রয়েছে অন্তত ১০টি গ্রামে।
এদিকে ঝড়ে সুন্দরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পৌরসভাসহ পুরো উপজেলায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে ২২টি। ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে ১০টি। এছাড়া গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যায় প্রায় ২০০ জায়গায়। গ্রাহকদের মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২০০টি। খুঁটি হেলে গেছে অর্ধশতাধিক। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২১টি টিম দিন-রাত কাজ করে এখন পর্যন্ত মাত্র ১১টি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
চার দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। বিশেষত যারা অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা বিপদে পড়েছেন সবচেয়ে বেশি।
তারা বলছেন, ৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারি চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে গাড়ি চালাতে না পারায় আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
অটো-চালক হারুন মিয়া বলেন, ‘কয়েকদিন থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় গাড়ি বের করতে পারছি না। সামনে ঈদ। কামাই না করলে বউ-বাচ্চা নিয়ে ক্যামনে ঈদ করমো।’
অন্যদিকে এসএসসি পরীক্ষা চলমান থাকায় পড়াশোনা নিয়ে বিপদে পড়েছে পরীক্ষার্থীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় বাধ্য হয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে তাদের।
পরীক্ষার্থী স্নেহা আরোহী জানায়, পরীক্ষা চলাকালীন বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশুনা ব্যাহত হচ্ছে। মোমবাতি জ্বালিয়ে বেশিক্ষণ পড়া যায় না।
সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) ডিজিএম মো. আব্দুল বারী বলেন, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় সব এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন করার জন্য ২১টি টিম কাজ করছে দিন-রাত। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগে সংযোগ চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সব গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
আনোয়ার আল শামীম/এফএ/এএসএম
What's Your Reaction?