কালশীতে উদ্ধার করা হলো হাজার কোটি টাকার সরকারি জমি

রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে প্রায় ১৩ একর সরকারি জমি উদ্ধার করেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। দখলমুক্ত করা এই জমির বাজারমূল্য প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। গতকাল বুধবার (২০ মে) ও আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ওই জমি উদ্ধার করা হয়। মিরপুর-১১ নম্বর সেকশন সংলগ্ন কালশী রোডের পাশের বাউনিয়াবাঁধ মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি অবৈধ দখলে ছিল। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই জমি বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর অবৈধ দখলে ছিল। ফলে সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম দীর্ঘকাল বাধাগ্রস্ত হয়ে আসছিল। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সক্রিয় সহযোগিতায় গত দুদিনে সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অস্থায়ী ছাপড়া ঘর, টং দোকান, আধাপাকা টিনশেড বাড়ি এবং দ্বিতল পাকা ভবনসহ আনুমানিক ১৮০-২০০টি অবৈধ স্থাপনা সম্পূর্ণরূপে উচ্ছেদ করা হয়েছে। যদিও বুধবার ওই জমি উদ্ধার করতে গিয়ে অবৈধ দখলদারদের বাধার সম্মুখীন হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এ সময় পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলা করা হয়।   জমির পটভূমি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপ

কালশীতে উদ্ধার করা হলো হাজার কোটি টাকার সরকারি জমি

রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে প্রায় ১৩ একর সরকারি জমি উদ্ধার করেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। দখলমুক্ত করা এই জমির বাজারমূল্য প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।
 
গতকাল বুধবার (২০ মে) ও আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ওই জমি উদ্ধার করা হয়। মিরপুর-১১ নম্বর সেকশন সংলগ্ন কালশী রোডের পাশের বাউনিয়াবাঁধ মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি অবৈধ দখলে ছিল।
 
গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই জমি বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর অবৈধ দখলে ছিল। ফলে সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম দীর্ঘকাল বাধাগ্রস্ত হয়ে আসছিল। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সক্রিয় সহযোগিতায় গত দুদিনে সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অস্থায়ী ছাপড়া ঘর, টং দোকান, আধাপাকা টিনশেড বাড়ি এবং দ্বিতল পাকা ভবনসহ আনুমানিক ১৮০-২০০টি অবৈধ স্থাপনা সম্পূর্ণরূপে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
 
যদিও বুধবার ওই জমি উদ্ধার করতে গিয়ে অবৈধ দখলদারদের বাধার সম্মুখীন হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এ সময় পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলা করা হয়।  

জমির পটভূমি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধার করা জমিটি এল.এ কেস নং ৫/৭২-৭৩ এর মাধ্যমে সরকার কর্তৃক যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। জমিটি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন ‘মিরপুরস্থ ১১ নং সেকশনে বস্তিবাসীদের জন্য ৫৩৩টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের পশ্চিম পাশে অবস্থিত। যা মূলত নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তিবাসীদের জন্য নিরাপদ ও পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই এ জমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলে দখল ক্রমশ বিস্তৃত করেছিল। ফলে শুধু সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহারই বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল না, বরং সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্বিক পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নেও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল। অবৈধ স্থাপনার কারণে এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যাও দেখা দিচ্ছিল বলে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত জমি ভবিষ্যতে কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পরিকল্পিত আবাসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধাসংবলিত পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা নির্মাণ এবং জনকল্যাণমূলক অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ জমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
 
এমএমএ/এমএমকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow