কালীগঞ্জে নির্বাচনের হাওয়া: জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। সারা দেশের ন্যায় এখানেও প্রার্থীদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত কালীগঞ্জ (গাজীপুর-৫) আসনে মোট আটজন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তবে নির্বাচনী মাঠে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে জামায়াত জোট ও সমমনা দলগুলোর একক প্রার্থী ইস্যুটি।কালীগঞ্জে মূলত জামায়াত ও তার শরিক দলগুলোর মধ্য থেকে তিনজন প্রভাবশালী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁরা হলেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. খায়রুল হাসান, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আতাউর রহমান এবং খেলাফতে মজলিসের রুহুল আমিন। তবে এই তিনজনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কে টিকে থাকবেন এবং কে হবেন জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী, তা নিয়ে এখনো কাটেনি ধোঁয়াশা।সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে নির্বাচনী লড়াইকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করতে হলে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। ভোটা

কালীগঞ্জে নির্বাচনের হাওয়া: জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। সারা দেশের ন্যায় এখানেও প্রার্থীদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত কালীগঞ্জ (গাজীপুর-৫) আসনে মোট আটজন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তবে নির্বাচনী মাঠে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে জামায়াত জোট ও সমমনা দলগুলোর একক প্রার্থী ইস্যুটি।

কালীগঞ্জে মূলত জামায়াত ও তার শরিক দলগুলোর মধ্য থেকে তিনজন প্রভাবশালী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁরা হলেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. খায়রুল হাসান, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আতাউর রহমান এবং খেলাফতে মজলিসের রুহুল আমিন। তবে এই তিনজনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কে টিকে থাকবেন এবং কে হবেন জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী, তা নিয়ে এখনো কাটেনি ধোঁয়াশা।

সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে নির্বাচনী লড়াইকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করতে হলে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। ভোটারদের একটি বড় অংশের মতে, বিএনপির মতো বড় দলের প্রার্থীর মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী একটি বড় ফ্যাক্টর। সাধারণ ভোটাররা আশঙ্কা করছেন, যদি জামায়াত ও তার শরিকদের মধ্যে একক ও শক্তিশালী প্রার্থী না থাকে, তবে নির্বাচন অনেকটা একতরফা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের স্বার্থে ভোটাররা এই জোটে একজন বলিষ্ঠ প্রার্থীর প্রত্যাশা করছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কালীগঞ্জ উপজেলা আমির আফতাব উদ্দিন জানান, জোটের একক প্রার্থী কে হবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় আমাদের প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যেহেতু আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে, তাই আমরা সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করব। কেন্দ্র থেকে চূড়ান্ত যে সিদ্ধান্ত আসবে, আমরা সেটিই মেনে নেব। যদি কোনো বিশেষ নির্দেশনা না আসে, তবে আমাদের প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত থাকবেন।”

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। কেন্দ্রের নির্দেশ মেনেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। এখন কেন্দ্র যদি চায় আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি, তবে আমি মাঠে থাকব। আর যদি কেন্দ্র অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেয় বা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়, তবে আমি সেটিও পালন করব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৮ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনেই পরিষ্কার হবে কালীগঞ্জের নির্বাচনী সমীকরণ। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কী সমঝোতায় পৌঁছায়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই আসনের ভোটের প্রকৃত আমেজ। আপাতত প্রার্থী এবং ভোটার—সব পক্ষই তাকিয়ে আছে কেন্দ্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow