কালেমা পড়ে আত্মহত্যা করলে তার পরিণাম কী হবে?

প্রশ্ন: কেউ যদি কালেমা পড়ে আত্মহত্যা করে, তার পরিণাম কী হবে? সে কি জান্নাতে যাবে নাকি জাহান্নামে যাবে? উত্তর: ইসলামে আত্মহত্যা মহাপাপ, তবে এটি কুফর নয়। কেউ যদি কালেমা পড়ে আত্মহত্যা করে, এর মানে হলো, সে কালেমা পড়ার পর একটি গুরুতর পাপ করে মারা গেছে। তার ব্যাপারে আমরা এই বিশ্বাস রাখতে পারি যে, সে যেহেতু জীবনের শেষ মুহূর্তে কালেমা পড়েছে, তাই সে ইমানের ওপর মৃত্যুবরণ করেছে। কিন্তু এর পাশাপাশি তার জীবনের শেষ কাজ ছিল আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতা, আল্লাহ তাআলার নির্দেশ লঙ্ঘন করার মাধ্যমেই তার মৃত্যু হয়েছে। সুতরাং ‍মুমিন হওয়ার কারণে ওই ব্যক্তি চিরজাহান্নামী হবে না, জান্নাত লাভ করবে, কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘনের শাস্তিও তাকে ভোগ করতে হবে। পবিত্র কোরআনে আত্মহত্যা করতে নিষেধ করে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা নিজেরা নিজদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর অত্যন্ত দয়াময়। (সুরা নিসা: ২৯) আত্মহত্যা অন্যান্য কবিরা গুনাহ বা বড় পাপসমূহের চেয়ে বেশি ভয়াবহ এ কারণে যে এ পাপে আল্লাহর ওপর ভরসাহীনতা এবং আল্লাহর রহমত থেকে নৈরাশ্য প্রকাশ পায় যা কাফের বা অবিশ্বাসীদের বৈশিষ্ট্য এবং আত্মহত্যাকারী এই পাপ থেকে ফিরে আসা

কালেমা পড়ে আত্মহত্যা করলে তার পরিণাম কী হবে?

প্রশ্ন: কেউ যদি কালেমা পড়ে আত্মহত্যা করে, তার পরিণাম কী হবে? সে কি জান্নাতে যাবে নাকি জাহান্নামে যাবে?

উত্তর: ইসলামে আত্মহত্যা মহাপাপ, তবে এটি কুফর নয়। কেউ যদি কালেমা পড়ে আত্মহত্যা করে, এর মানে হলো, সে কালেমা পড়ার পর একটি গুরুতর পাপ করে মারা গেছে। তার ব্যাপারে আমরা এই বিশ্বাস রাখতে পারি যে, সে যেহেতু জীবনের শেষ মুহূর্তে কালেমা পড়েছে, তাই সে ইমানের ওপর মৃত্যুবরণ করেছে। কিন্তু এর পাশাপাশি তার জীবনের শেষ কাজ ছিল আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতা, আল্লাহ তাআলার নির্দেশ লঙ্ঘন করার মাধ্যমেই তার মৃত্যু হয়েছে। সুতরাং ‍মুমিন হওয়ার কারণে ওই ব্যক্তি চিরজাহান্নামী হবে না, জান্নাত লাভ করবে, কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘনের শাস্তিও তাকে ভোগ করতে হবে।

পবিত্র কোরআনে আত্মহত্যা করতে নিষেধ করে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা নিজেরা নিজদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর অত্যন্ত দয়াময়। (সুরা নিসা: ২৯)

আত্মহত্যা অন্যান্য কবিরা গুনাহ বা বড় পাপসমূহের চেয়ে বেশি ভয়াবহ এ কারণে যে এ পাপে আল্লাহর ওপর ভরসাহীনতা এবং আল্লাহর রহমত থেকে নৈরাশ্য প্রকাশ পায় যা কাফের বা অবিশ্বাসীদের বৈশিষ্ট্য এবং আত্মহত্যাকারী এই পাপ থেকে ফিরে আসার, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার কোনো সুযোগ পায় না।

বিভিন্ন হাদিসে আত্মহত্যার কঠোর শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যাক্তি কোন ধারাল অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে অস্ত্র তার হাতে থাকবে, জাহান্নামের মধ্যে সে অস্ত্র দিয়ে সে তার পেটে আঘাত করতে থাকবে, এভাবে সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যাক্তি বিষপানে আত্নহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে অবস্থান করে ওই বিষ পান করতে থাকবে, এভাবে সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যাক্তি নিজেকে পাহাড় থেকে নিক্ষেপ করে আত্নহত্যা করবে, সে ব্যাক্তি সব সময় পাহাড় থেকে নিচে গড়িয়ে জাহান্নামের আগুনে পতিত হতে থাকবে, এভাবে সে ব্যাক্তি সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। (সহিহ মুসলিম: ১০৯)

হাসান বসরি (রহ.) বলেন, জুনদুব (রা.) এ মসজিদে আমাদের একটি হাদিস শুনিয়েছেন, আর তা আমরা ভুলে যাইনি এবং আমরা এ আশঙ্কাও করিনা যে জুনদুব (রা.) নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামে মিথ্যা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তির শরীরে জখম ছিল, সে আত্মহত্যা করল। তখন আল্লাহ্ তাআলা বললেন, আমার বান্দা তার প্রাণ নিয়ে আমার সাথে তাড়াহুড়া করেছে। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম। (সহিহ বুখারি: ১৩৬৪)

এই হাদিসগুলো থেকে স্পষ্টই বোঝা যায় আত্যহত্যা মহাপাপ বা অনেক বড় গুনাহ। এ গুনাহের কারণে আখেরাতে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

ওএফএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow