কালোবাজারি তেল বণ্টন নিয়ে তুমুল সংঘর্ষ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের কালোবাজারি ও অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।  বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের আল্লারদর্গায় অবস্থিত রফিক ফিলিং স্টেশনে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে নারী-পুরুষসহ ৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতরা হলেন- আপাং মন্ডল (৬৫), তার ছেলে রানা (২৩) একই এলাকার হেলাল (৬০), আমিনুদ্দিন (৭০), রাজা (৩০), রত্না খাতুন (৩০) ও শিউলী খাতুন (৩৫)। আহতদের দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রফিক ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ দিনের বেলা ইচ্ছাকৃতভাবে তেল সরবরাহ সীমিত করে রাখে। প্রতিদিন মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা তেল বিক্রি করে বাকি জ্বালানি মজুত রাখা হয়, যা পরবর্তীতে রাতের অন্ধকারে অতিরিক্ত দামে কালোবাজারে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন রাতেও একই চিত্র দেখা যায়। ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুযোগে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ ও প্রভাবশালী

কালোবাজারি তেল বণ্টন নিয়ে তুমুল সংঘর্ষ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের কালোবাজারি ও অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।  বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের আল্লারদর্গায় অবস্থিত রফিক ফিলিং স্টেশনে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে নারী-পুরুষসহ ৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতরা হলেন- আপাং মন্ডল (৬৫), তার ছেলে রানা (২৩) একই এলাকার হেলাল (৬০), আমিনুদ্দিন (৭০), রাজা (৩০), রত্না খাতুন (৩০) ও শিউলী খাতুন (৩৫)। আহতদের দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রফিক ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ দিনের বেলা ইচ্ছাকৃতভাবে তেল সরবরাহ সীমিত করে রাখে। প্রতিদিন মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা তেল বিক্রি করে বাকি জ্বালানি মজুত রাখা হয়, যা পরবর্তীতে রাতের অন্ধকারে অতিরিক্ত দামে কালোবাজারে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন রাতেও একই চিত্র দেখা যায়। ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুযোগে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ ও প্রভাবশালী একটি চক্র গোপনে মজুদকৃত তেল উত্তোলন শুরু করে। তবে তেল বণ্টন নিয়ে নিজেদের মধ্যেই বিরোধ সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যা এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে। অভিযোগ রয়েছে, ফিলিং স্টেশনটি প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম করে আসছে। গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে সাধারণ মোটরসাইকেলে সীমিত তেল দেওয়া হলেও রাতের বেলায় কালোবাজারে তেল সরবরাহ করে থাকেন। স্থানীয়দের দাবি, পুরো কার্যক্রমটি পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়েছে, যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পরবর্তীতে কালোবাজারে উচ্চমূল্যে তেল বিক্রি করা যায়। এ বিষয়ে জানতে রফিক ফিলিং স্টেশনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।  দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, রাতে তেল উত্তোলন করে কালোবাজারে বিক্রির সময় সংঘর্ষের ঘটনা শুনেছি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হওয়ার বিষয়টি জানা গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow