কিছু মানুষ কেন ক্ষুধা পেলে রেগে যান
খিদে পেলে মেজাজ খারাপ হওয়া আমাদের অনেকের কাছেই পরিচিত অভিজ্ঞতা। ইংরেজিতে একে এখন বলা হয় ‘হ্যাংরি’, অর্থাৎ ক্ষুধার কারণে খিটখিটে বা বিরক্ত হয়ে পড়া। শব্দটি তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও অনুভূতিটি খুব পুরোনো। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন কেউ কেউ খুব অল্প সময়েই রেগে যান বা মন খারাপ করে ফেলেন, আর কেউ কেউ তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকতে পারেন?
এ বিষয়টি বোঝার জন্য গবেষকরা সম্প্রতি একটি গবেষণা করেন। এতে ৯০ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ককে এক মাস ধরে বিশেষ একটি যন্ত্র পরতে দেওয়া হয়, যা শরীরের গ্লুকোজ বা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরিমাপ করে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের দিনে এক থেকে দুইবার স্মার্টফোনে জানাতে বলা হয় তারা কতটা ক্ষুধার্ত বোধ করছেন এবং সেই মুহূর্তে তাদের মেজাজ কেমন।
গ্লুকোজ আমাদের শরীর ও মস্তিষ্কের প্রধান শক্তির উৎস। সাধারণত মনে করা হয়, রক্তে শর্করার মাত্রা কমলেই মানুষের মেজাজ খারাপ হয়। কিন্তু গবেষণার ফলাফল এখানেই চমক দিয়েছে।
গবেষকেরা দেখেছেন, শুধু গ্লুকোজ কমে গেলেই মানুষের মন খারাপ হচ্ছে না। বরং মানুষ যখন নিজে অনুভব করছে যে সে ক্ষুধার্ত, তখনই মেজাজ বেশি খারাপ হচ্ছে। অর্থাৎ শরীরের শক্তির অবস্থার সঙ্গে মনের
খিদে পেলে মেজাজ খারাপ হওয়া আমাদের অনেকের কাছেই পরিচিত অভিজ্ঞতা। ইংরেজিতে একে এখন বলা হয় ‘হ্যাংরি’, অর্থাৎ ক্ষুধার কারণে খিটখিটে বা বিরক্ত হয়ে পড়া। শব্দটি তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও অনুভূতিটি খুব পুরোনো। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন কেউ কেউ খুব অল্প সময়েই রেগে যান বা মন খারাপ করে ফেলেন, আর কেউ কেউ তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকতে পারেন?
এ বিষয়টি বোঝার জন্য গবেষকরা সম্প্রতি একটি গবেষণা করেন। এতে ৯০ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ককে এক মাস ধরে বিশেষ একটি যন্ত্র পরতে দেওয়া হয়, যা শরীরের গ্লুকোজ বা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরিমাপ করে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের দিনে এক থেকে দুইবার স্মার্টফোনে জানাতে বলা হয় তারা কতটা ক্ষুধার্ত বোধ করছেন এবং সেই মুহূর্তে তাদের মেজাজ কেমন।
গ্লুকোজ আমাদের শরীর ও মস্তিষ্কের প্রধান শক্তির উৎস। সাধারণত মনে করা হয়, রক্তে শর্করার মাত্রা কমলেই মানুষের মেজাজ খারাপ হয়। কিন্তু গবেষণার ফলাফল এখানেই চমক দিয়েছে।
গবেষকেরা দেখেছেন, শুধু গ্লুকোজ কমে গেলেই মানুষের মন খারাপ হচ্ছে না। বরং মানুষ যখন নিজে অনুভব করছে যে সে ক্ষুধার্ত, তখনই মেজাজ বেশি খারাপ হচ্ছে। অর্থাৎ শরীরের শক্তির অবস্থার সঙ্গে মনের অবস্থার মাঝখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক ধাপ রয়েছে।
এ ধাপটিকে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘ইন্টারোসেপশন’। এর অর্থ হলো, নিজের শরীরের ভেতরের সংকেতগুলো কতটা ভালোভাবে আমরা বুঝতে পারছি। যেমন, কখন ক্ষুধা লাগছে, কখন শক্তি কমে যাচ্ছে, বা কখন বিশ্রাম দরকার।
গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ইন্টারোসেপশন বা নিজের শরীর বোঝার ক্ষমতা বেশি, তাদের মেজাজের ওঠানামা তুলনামূলকভাবে কম। তারা ক্ষুধা অনুভব করলেও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। এতে তারা হঠাৎ রেগে যাওয়া বা খারাপ সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পান।
মানুষের মস্তিষ্কে ক্ষুধার সংকেত প্রথমে তৈরি হয় হাইপোথ্যালামাস নামের একটি অংশে। পরে এই সংকেত ইনসুলা নামের অংশে পৌঁছে, যা অনুভূতি ও আবেগের সঙ্গে জড়িত। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ঠিকভাবে বুঝতে পারলেই মানুষ নিজের মেজাজ সামলাতে পারে।
হঠাৎ মেজাজ খারাপ হলে এর প্রভাব পড়ে পরিবার, বন্ধু এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর। এতে তাড়াহুড়া করে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। অনেক সময় মানুষ তখন তাত্ক্ষণিক শক্তি পাওয়ার জন্য অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকেও ঝুঁকে পড়ে।
শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পষ্ট। ছোট শিশুরা শরীরের সংকেত ঠিকভাবে বুঝতে শেখে ধীরে ধীরে। চারপাশের খেলাধুলা বা ব্যস্ততায় তারা ক্ষুধা বা তৃষ্ণা ভুলে যায়। ফলে হঠাৎ করেই কান্না বা রাগ দেখা দেয়। অনেক প্রাপ্তবয়স্কও আজকের দ্রুতগতির ও ডিজিটাল জীবনে একই সমস্যায় পড়েন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত খাবারের সময় মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে হঠাৎ করেই খিদে ও মেজাজ খারাপ একসঙ্গে দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও শারীরিক পরিশ্রম শরীরের শক্তির ব্যবহার ও ক্ষুধা বোঝার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
খিদে লাগলে মেজাজ খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। তবে সবাই একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান না। গবেষণা বলছে, যারা নিজের শরীরের সংকেত ভালোভাবে বুঝতে পারেন, তারা ক্ষুধার মধ্যেও তুলনামূলক শান্ত থাকতে পারেন। নিয়মিত খাবার, শরীরের দিকে মনোযোগ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন আমাদের ‘হ্যাংরি’ হয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। নিজের শরীরকে বুঝতে শেখা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক সুস্থতার জন্যও সমানভাবে জরুরি।
সূত্র : NDTV