কিশোরগঞ্জে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ১০ কেজির স্থলে ৬ থেকে ৭ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন উপকারভোগীরা। আজ সোমবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চাল বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে। চাল কম পাওয়ার প্রতিবাদে উপকারভোগীরা ইউএনও অফিসের সামনে অবস্থান নেন। অন্যদিকে, চাল কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় ইউপি সদস্যদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগও উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।জানা গেছে, ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে সরকার কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৩ হাজার ৬২৪টি দুস্থ পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়। কিন্তু চেয়ারম্যান হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী গ্রেনেট বাবু সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে ৬ কেজি করে চাল বিতরণ করছেন বলে অভিযোগ। চাল কম দেওয়ার প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান ৩ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস ও ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার এজারুল হক বগাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেন।গদা গ্রামের উপকারভোগী লালবী বেগম, হামিজা বেগম ও আবুল হোসেন জানান, চেয়ারম্যান ১০ কেজি চাল না দিয়ে ৬ থেকে ৭ কেজি করে চাল দিয়েছেন। এ

কিশোরগঞ্জে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ১০ কেজির স্থলে ৬ থেকে ৭ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন উপকারভোগীরা। আজ সোমবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চাল বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে। চাল কম পাওয়ার প্রতিবাদে উপকারভোগীরা ইউএনও অফিসের সামনে অবস্থান নেন। অন্যদিকে, চাল কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় ইউপি সদস্যদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগও উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে সরকার কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৩ হাজার ৬২৪টি দুস্থ পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়। কিন্তু চেয়ারম্যান হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী গ্রেনেট বাবু সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে ৬ কেজি করে চাল বিতরণ করছেন বলে অভিযোগ। চাল কম দেওয়ার প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান ৩ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস ও ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার এজারুল হক বগাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেন।

গদা গ্রামের উপকারভোগী লালবী বেগম, হামিজা বেগম ও আবুল হোসেন জানান, চেয়ারম্যান ১০ কেজি চাল না দিয়ে ৬ থেকে ৭ কেজি করে চাল দিয়েছেন। এ নিয়ে তারা ইউএনও অফিসের সামনে অবস্থান নিয়েছেন এবং মেম্বাররা ইউএনও’র কাছে বিচার দিয়েছেন।

৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এজারুল হক বগা জানান, চেয়ারম্যান কোনো নিয়ম-নীতি ছাড়াই গায়ের জোরে ভিজিএফ চাল বিতরণ করছেন। চাল বিতরণের সময় উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা চাল মেপে দেখা যায় কেউ ৬ কেজি আবার কাউকে ৭ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। চাল কম দেওয়ার প্রতিবাদ করলে ইউপি চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ ধাক্কাধাক্কি করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে ইউএনও স্যারের কাছে গেলে তিনি তাদের কথা না শুনে বলেন, “আমার লোক সেখানে আছে।”

৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস জানান, ভিজিএফের নীতিমালা অমান্য করেই তালিকা অনুমোদন, মাস্টাররোল ছাড়া চাল বিতরণ, দুস্থদের চাল কম দেওয়া যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে এবার। চেয়ারম্যান কর্তৃক শারীরিক লাঞ্ছিত হওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, একজন উপকারভোগীকে ৩ থেকে ৪ কেজি চাল কম দিয়ে আত্মসাতের পায়তারা করছে চেয়ারম্যান। বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতি হওয়ায় তারা ইউপি সদস্যরা বাড়ি চলে এসেছেন। তিনি শুনেছেন চাল বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার আল মিজানুর রহমান জানান, কার্ড যারা নিয়ে এসেছেন তাদের ১০ কেজি ও কার্ড ছাড়া যারা এসেছেন তাদেরকে ৬ থেকে ৭ কেজি চাল চেয়ারম্যান দিয়েছেন। কার্ডধারীদের বিতরণের বাইরে তো কোনো চাল থাকার কথা না, তাহলে কার্ড ছাড়া যাদের ৬ থেকে ৭ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে এ চালগুলো কোথা থেকে আসল – এমন প্রশ্ন করা হলে এ কর্মকর্তা জানান, চেয়ারম্যান সাহেব এর উত্তর দিতে পারবেন।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী গ্রেনেট বাবু ৫ থেকে ৬ কেজি চাল বিতরণের কথা স্বীকার করে বলেন, স্লিপ ছাড়া যারা এসেছেন তাদের মাঝে ৫ থেকে ৬ কেজি চাল বিতরণ হয়েছে। তালিকা ছাড়াই যাদের চাল দিয়েছি তারাই ইউএনও অফিসে গিয়ে অভিযোগ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লতিফুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়ার ফোনে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow