কিশোরগঞ্জে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে বৃহৎ টিকাদান ক্যাম্পেইন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

কিশোরগঞ্জ জেলায় হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ জোরালো প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে জেলার সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, চলমান ঝুঁকি এবং আসন্ন টিকাদান ক্যাম্পেইনকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন কিশোরগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. দিদারুল ইসলাম যেখানে হাম-রুবেলার সংক্রমণ পরিস্থিতি, টিকাদানের গুরুত্ব এবং কার্যক্রম বাস্তবায়নের কৌশল স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিৎ শর্ম্মা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “হাম-রুবেলা একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে এ রোগ সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।” এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি (এস.আই.এম.ও), কিশোরগঞ্জ জেলা ডা. মো. আজিজুল হত তানজিল, কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্

কিশোরগঞ্জে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে বৃহৎ টিকাদান ক্যাম্পেইন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

কিশোরগঞ্জ জেলায় হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ জোরালো প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে জেলার সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, চলমান ঝুঁকি এবং আসন্ন টিকাদান ক্যাম্পেইনকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন কিশোরগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. দিদারুল ইসলাম যেখানে হাম-রুবেলার সংক্রমণ পরিস্থিতি, টিকাদানের গুরুত্ব এবং কার্যক্রম বাস্তবায়নের কৌশল স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিৎ শর্ম্মা।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “হাম-রুবেলা একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে এ রোগ সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি (এস.আই.এম.ও), কিশোরগঞ্জ জেলা ডা. মো. আজিজুল হত তানজিল, কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মিনহাজুর রহমান, ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, ডা. পল্লব কুমার দেবনাথসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। বক্তারা সম্মিলিতভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, আগামী ২০ এপ্রিল সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জেলার প্রতিটি নির্ধারিত কেন্দ্রে একযোগে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ ক্যাম্পেইনের আওতায় জেলার স্থায়ী ও অস্থায়ী মোট ২৭৬০টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যাতে সহজেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরাও এই সেবার আওতায় আসতে পারে।

এ কর্মসূচির মাধ্যমে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭০৫ শিশুকে টিকার আওতায় আনার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই লক্ষ্য শতভাগ অর্জন করা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত জেলায় ৩৮২ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে ১৮৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং পরীক্ষায় ১৯ জনের শরীরে হাম পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, তবুও পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানান, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর, নিরাপদ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। তারা অভিভাবকদের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি কোনো ধরনের গুজব বা ভুল তথ্যের প্রতি কান না দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই ক্যাম্পেইনকে সফল করতে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে কিশোরগঞ্জ জেলায় হাম-রুবেলা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow