কিসের নেশায় গ্রিনল্যান্ড চান ট্রাম্প?

আমেরিকার পরবর্তী দখলকৃত ভূখণ্ডের নতুন নামকরণ হতে পারে ‘ট্রাম্পল্যান্ড’। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর, একবিংশ শতাব্দীতে নিজের সাম্রাজ্য বাড়াতে নতুন ভূখণ্ড খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রথম মেয়াদে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে দেখানো আগ্রহকে অনেকে ‘মশকরা’ হিসেবেই দেখেছিলেন। সব কিছু চমকে দেওয়ার নেশায় মত্ত থাকা ট্রাম্পের নজর এখন গ্রিনল্যান্ডের দিকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের গ্রিনল্যান্ড সফর নিয়ে ‘ট্রোলিং’ হলেও এখন আর কেউ হাসছে না। মঙ্গলবার ইউরোপের নেতারা দ্বীপটির সার্বভৌমত্ব ও ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই ভূখণ্ডের ওপর অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে যে প্রেসিডেন্টের হুমকিকে আর হালকাভাবে নিচ্ছে না ইউরোপ। এটা খুব একটা আশ্চর্যের বিষয়ও নয়। ভেনেজুয়েলা ‘জয়ের’ পর আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর এই প্রশাসন এখন কার্যত পুরো পশ্চিম গোলার্ধকেই ট্রাম্পের ‘জমিদারি’ বলে দাবি করছে। আর তার শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার সতর্ক বার্তা দিয়ে সোমবার সিএনএনে বলেছেন, শক্তি, বলপ্রয়োগ ও প্রবল ক্ষমতার অধিকারী যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের তথাকথিত ‘কঠোর আইন’ ম

কিসের নেশায় গ্রিনল্যান্ড চান ট্রাম্প?
আমেরিকার পরবর্তী দখলকৃত ভূখণ্ডের নতুন নামকরণ হতে পারে ‘ট্রাম্পল্যান্ড’। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর, একবিংশ শতাব্দীতে নিজের সাম্রাজ্য বাড়াতে নতুন ভূখণ্ড খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রথম মেয়াদে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে দেখানো আগ্রহকে অনেকে ‘মশকরা’ হিসেবেই দেখেছিলেন। সব কিছু চমকে দেওয়ার নেশায় মত্ত থাকা ট্রাম্পের নজর এখন গ্রিনল্যান্ডের দিকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের গ্রিনল্যান্ড সফর নিয়ে ‘ট্রোলিং’ হলেও এখন আর কেউ হাসছে না। মঙ্গলবার ইউরোপের নেতারা দ্বীপটির সার্বভৌমত্ব ও ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই ভূখণ্ডের ওপর অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে যে প্রেসিডেন্টের হুমকিকে আর হালকাভাবে নিচ্ছে না ইউরোপ। এটা খুব একটা আশ্চর্যের বিষয়ও নয়। ভেনেজুয়েলা ‘জয়ের’ পর আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর এই প্রশাসন এখন কার্যত পুরো পশ্চিম গোলার্ধকেই ট্রাম্পের ‘জমিদারি’ বলে দাবি করছে। আর তার শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার সতর্ক বার্তা দিয়ে সোমবার সিএনএনে বলেছেন, শক্তি, বলপ্রয়োগ ও প্রবল ক্ষমতার অধিকারী যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের তথাকথিত ‘কঠোর আইন’ মানে না। তবে ট্রাম্পের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই বরফে ঢাকা এই ভূখণ্ডটি দরকার। যদিও এটা শুরু থেকে অনেকের পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। আর মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস যখন আতঙ্কিত ন্যাটো মিত্রদের সামরিক শক্তি ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা দিতেও অস্বীকৃতি জানাল, তখন সেই যুক্তি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠল। একটি কৌশলগত রত্ন ভাণ্ডার ট্রাম্পের কথাটি একদম ঠিক। গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই গুরুত্ব দিন দিন আরও বাড়ছে। মধ্য আটলান্টিকে এটি বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই দ্বীপ ভয়ঙ্কর‘গ্রিনল্যান্ড এয়ার গ্যাপ’ নামেই পরিচিত ছিল। সমুদ্রের এমন এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল, যা যুদ্ধবিমানের আওতার বাইরে ছিল। নাৎসি ইউ-বোটগুলো এই এলাকাকে মিত্রশক্তির বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য এক ভয়াবহ মৃত্যুকূপে পরিণত করেছিল। ভবিষ্যতের কোনো বড় যুদ্ধে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকবে, আটলান্টিক মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর কর্তৃত্বও তার হাতেই থাকবে। এর পাশাপাশি, গ্রিনল্যান্ডে ইতোমধ্যে থাকা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের আগাম ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আট দশক পর, গ্রিনল্যান্ড আক্ষরিক অর্থেই এবং ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বরফ গলতে থাকায় বিশ্বের এই প্রান্তে নতুন নৌপথ খুলে যাচ্ছে। চীন-রাশিয়াও ট্রাম্পের মতোই ভালোভাবে বোঝে, এই অঞ্চল কতটা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে ট্রাম্পের যুক্তির বড় দুর্বলতা হলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা যদি সত্যিই ঝুঁকিতে পড়ে, তাহলে গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের অবস্থান জোরদার করতে তাকে কেউই আটকাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ড ন্যাটোর একটি সদস্য দেশের আধা-স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড। এর বিশাল জনমানবশূন্য এলাকাগুলোতে সহজেই নতুন সেনাঘাঁটি ও হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা সম্ভব। প্রশাসনের শীর্ষ নেতাদের করা আক্রমণাত্মক রসিকতা ডেনমার্ক নাকি কুকুরের স্লেজ দিয়ে দ্বীপটি রক্ষা করছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও বাস্তবতা হলো, কোপেনহেগেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি চুক্তি রয়েছে, যা মার্কিন বাহিনীকে ফ্লাইট অবতরণ ও উড্ডয়ন, জাহাজ নোঙর ও বন্দর ব্যবহারসহ আবাসন সুবিধা ও অন্যান্য সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যাপক স্বাধীনতা দেয়। গ্রিনল্যান্ডে এখনো পুরোপুরি কাজে না লাগানো বিপুল পরিমাণ অফশোর তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এর টুন্ড্রা অঞ্চলের বরফ গলতে থাকায় বিরল খনিজের (রেয়ার আর্থ) ভাণ্ডারগুলোও তুলনামূলক সহজে উত্তোলনযোগ্য হয়ে উঠবে। যে খনিজগুলো ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও আধুনিক অস্ত্রব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে কাজ লাগতে পারে। যদি ট্রাম্পের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু সত্যিই রেয়ার আর্থ খনিজ হয়, তাহলে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয় পক্ষের কর্মকর্তারাই অংশীদারিত্বমূলক চুক্তির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত নেই। ট্রাম্প ক্রমেই ১৯শ শতকের সেই মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মতো হয়ে উঠছেন, যারা নতুন ভূখণ্ড দখলের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন, শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতেন এবং ইউরোপীয় সাম্রাজ্যগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। গ্রিনল্যান্ডে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ডেনমার্কের পতাকার পাশাপাশি মার্কিন পতাকাও উড়ছে। তবে বর্তমান প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি বেশি মিলে যায় মিলারের স্ত্রী কেটির চিন্তার সঙ্গে— যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো গ্রিনল্যান্ড দ্বীপটিকে মার্কিন পতাকার রঙে আচ্ছাদিত একটি ছবি পোস্ট করে ইংরেজিতে লিখেছেন, ‘সুন’ (শিগগির)।   SOON pic.twitter.com/XU6VmZxph3 — Katie Miller (@KatieMiller) January 3, 2026   একজন সাম্রাজ্যবাদী প্রেসিডেন্ট গত কয়েক দিনে বিশ্ববাস্তবতা বদলে গেছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর কার্যত দেশটি ‘চালাচ্ছে’ যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প নিজেই এর দায়িত্বে আছেন- এমন দাবি ইঙ্গিত দেয় যে তিনি কেবল মুখে মুখে সাম্রাজ্যবাদী নন; বরং বাস্তবে তা প্রয়োগ করতেও শুরু করেছেন। মঙ্গলবার দেওয়া এক ঘোষণায় বলা হয়, ভেনেজুয়েলা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সর্বোচ্চ ৫ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে। সেই বিক্রির অর্থ ট্রাম্প নিয়ন্ত্রণ করবেন, যা নাকি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে। এই ঘোষণা সেইসব আশঙ্কা জোরালো করেছে যে সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলো থেকে সম্পদ লুট করাই কি তার লক্ষ্য কিনা। ইতিহাসে নিজের নাম লেখাতে ট্রাম্প যে কতটা আগ্রহী, তা স্পষ্ট। তিনি নিশ্চয়ই নিজেকে প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসনের কাতারে দেখতে চাইবেন- যিনি ১৮০৩ সালে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারে লুইজিয়ানা কিনে যুক্তরাষ্ট্রের আয়তন প্রায় দ্বিগুণ করেছিলেন। অথবা তার প্রশাসনের এক ঐতিহাসিক ‘নায়ক’ প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ম্যাকিনলির মতো— যিনি ১৮৯৮ সালে হাওয়াই দখল করেছিলেন। ট্রাম্প সম্ভবত এখানেও এক ধাপ এগিয়ে নতুন বরফে ঢাকা বিশাল মার্কিন ভূখণ্ডটির নাম নিজের নামেই রাখতে চাইবেন। এখনো ভাবতে অবাক লাগে, বিশ্ব ধীরে ধীরে ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ডের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। অতীতে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ যে ছিল না, তা নয়। কিন্তু প্রায় সবাই ভেবেছিল ন্যাটোর জন্য বিপদ আসবে মস্কো বা বেইজিং থেকে— জোটের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটির কাছ থেকে নয়। ট্রাম্পের আগ্রাসী ভাষা সত্ত্বেও, এখনই কোনো সামরিক অভিযানের স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। তাহলে ন্যাটো মিত্রদের দিকে মার্কিন সেনাদের অস্ত্র তাক করার মতো অবিশ্বাস্য দৃশ্য বিশ্ববাসী দেখতে পেত। তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইনপ্রণেতাদের বলেছেন— ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কিনতে চান। যদিও দ্বীপটির মালিকানায় থাকা ডেনমার্ক বারবার স্পষ্ট করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। তবু সময়টা অস্থির। ট্রাম্প এরপর কী করবেন কেউই নিশ্চিত নয়। তার প্রথম মেয়াদের মতো তাকে ঘিরে রাখার মতো মানুষও প্রায় নেই। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যে সেনাপ্রধানকে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন পতাকা গেড়ে দিতে মেরিন সেনা পাঠানোর আদেশ থেকে বিরত রাখতে পারবেন এমনটা কল্পনা করাও কঠিন। সাবেক ন্যাটো সর্বাধিনায়ক অ্যাডমিরাল (অব.) জেমস স্ট্যাভরিডিস মঙ্গলবার সিএনএনের জেক ট্যাপারকে বলেন, আমি ডেনমার্কের বাসিন্দাদের ভালোই চিনি। তারা শক্ত মানুষ। মার্কিন বাহিনীর বিরোধিতায় সেখানে তারা সামরিক শক্তি মোতায়েন করলে আমি অবাক হব না। এটা ন্যাটো শেষ হয়ে যাওয়ার মতো বিষয়। কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে। মঙ্গলবারই ছিল ট্রাম্পের নির্বাচনী পরাজয় উল্টে দিতে তার সমর্থকদের ক্যাপিটল হামলার পাঁচ বছর পূর্তি। সেদিন হোয়াইট হাউসের সরকারি ওয়েবসাইট কার্যত একটি প্রচারযন্ত্রে পরিণত হয় যেখানে ডেমোক্র্যাট ও ক্যাপিটল পুলিশের ওপর দোষ চাপানো হয় সেই ম্যাগা উন্মত্ত জনতার, যারা পুলিশ সদস্যদের মারধর করেছিল এবং কংগ্রেস ভবন কলঙ্কিত করেছিল। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি মঙ্গলবার সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সিএনএনের কেসি হান্টকে তিনি বলেন, আমি নিজেও এক বছর বা ছয় মাস আগে গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা শুনে ভেবেছিলাম, এটা ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি। কিন্তু এখন সত্যিই ভাবতে হয় প্রেসিডেন্টের মাথার ভেতর আসলে কী চলছে। ইউরোপে ক্রমেই উদ্বেগ বাড়ছে ইউরোপের উদ্বেগ বাড়ছে। মঙ্গলবার ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের নেতারা ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেদেরিকসেনের সঙ্গে এক যৌথ ঘোষণায় বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড তার জনগণেরই।’ একই দিন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানান, আগামী মাসে তিনি গ্রিনল্যান্ডে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাবেন। কানাডার সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের একটি ছোট স্থলসীমান্ত ও বিস্তৃত সামুদ্রিক সীমা রয়েছে। কার্নির সঙ্গে ট্রাম্পের আগেও টানাপোড়েন হয়েছে। ট্রাম্প যদি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার দাবি তুলে লাখো কানাডীয়কে ক্ষুব্ধ না করতেন, তাহলে গত বছরের নির্বাচনে রক্ষণশীল নেতা পিয়েরে পলিয়েভ সম্ভবত জয়ী হতেন। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপের ভূ-কৌশলগত প্রভাব হবে বিপুল। ফ্রেদেরিকসেন আগেই সতর্ক করেছেন, বলপ্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা হলে তা সঙ্গে সঙ্গেই ন্যাটো ও তার পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তাকে ধ্বংস করবে। যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে পশ্চিমা নিরাপত্তার ভিত্তি। ইউরোপের কোনো ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্ককে গভীরভাবে ভেঙে দেবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইউরোপে বিদ্বেষও তীব্র হবে। ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় দুর্বল হতে পারে। কিন্তু icasualties.org-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে আফগানিস্তানে ৪৩ ও ইরাকে ৭ ডেনমার্কের সেনা নিহত হয়েছেন। যা ৬০ লাখ মানুষের দেশে মাথাপিছু হিসাবে যা অত্যন্ত বেশি। এভাবে অপমানিত বন্ধুরা পরেরবার আমেরিকার ডাকে সাড়া নাও দিতে পারে। তবু হোয়াইট হাউস ক্ষমতা প্রয়োগ করছে, কারণ তাদের তা করার সামর্থ্য আছে। ইউরোপের প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা ট্রাম্পকে এক ধাপ এগিয়ে রেখেছে। কথাটা অবাস্তব শোনালেও সত্য। পরিস্থিতি খারাপ হলে ইউরোপীয় বা ডেনিশ বাহিনীর পক্ষে মার্কিন সেনাদের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করার কোনো সম্ভাবনা নেই।  মিলার বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে যাবে না। কয়েক দিন ধরে কূটনৈতিক দোলাচলের পর মঙ্গলবার গ্রিনল্যান্ডবাসীর পক্ষে ইউরোপের শক্ত অবস্থান আসে। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্পকে বিরক্ত না করে কীভাবে অবস্থান নেওয়া যায় সে চেষ্টাই করছিলেন ইউরোপীয় নেতারা। বেশির ভাগই মাদুরোর নিন্দা করেছেন, সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মানার প্রয়োজনের কথা বলেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্র ওই অভিযানে লঙ্ঘন করেছে। ইউরোপের প্রতিরক্ষা প্রয়োজনের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাজুক অবস্থান গত বছরও স্পষ্ট হয়েছিল। ট্রাম্প যখন ইইউর উপর শুল্ক আরোপ করে, জবাবে পাল্টা শুল্ক চাপানোর দিকে যায়নি সংস্থাটি। ট্রাম্পের ন্যাটোবিরোধী বক্তব্যের কারণেও কেউ নিশ্চিত নয়, তিনি হঠাৎ করে বিশ্বের সবচেয়ে সফল সামরিক জোটটি ছেড়ে দেবেন কিনা। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার এই ভারসাম্যহীনতা ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্কের সাথে ‘আর্ট অব দ্য ডিল’ ধরনের দরকষাকষির সুবিধা দিয়েছে। এদিকে লুইজিয়ানা রাজ্যের রিপাবলিকান গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে (যে রাজ্য একসময় যুক্তরাষ্ট্র কিনেছিল) গ্রিনল্যান্ডে নিজের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ট্রাম্প। তবু গ্রিনল্যান্ড কেনা হয়তো ট্রাম্পের পক্ষেও অতিরিক্ত বোঝা হয়ে যাবে। এমন পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুমোদন এবং জটিল আলোচনা ও চুক্তির প্রয়োজন হতে পারে। আর যদি বিক্রির প্রশ্ন ওঠেও, তবে এর দাম কত হবে? মার্কিন আইনপ্রণেতারা কি সত্যিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ কিনতে করদাতাদের শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে রাজি হবেন? যখন তাদের ভোটাররা স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থান ও নিত্যপণ্যের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন? কিছু মার্কিন বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, পশ্চিমা বিশ্ব ধ্বংসের আগেই ট্রাম্পের এই দম্ভ ঠান্ডা হবে। সিএনএনের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক অ্যাডমিরাল জেমস স্ট্যাভরিডিস বলেন, চলুন, বিষয়টাকে সর্বনাশা পরিণতির দিকে ঠেলে দিই না। আমরা ইউরোপীয়দের সঙ্গে কাজ করতে পারি, দশকের পর দশক তা করেছি। এটা কূটনীতি, সামরিক সম্পৃক্ততা ও অর্থনীতির মাধ্যমেই করা দরকার। কিন্তু ভেনেজুয়েলাকে অপমান করার পর যে হোয়াইট হাউস আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে, সেখানে এমন সংযম এখন খুব একটা চল নেই। সূত্র : সিএনএন

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow