কুমিরে টেনে নেওয়া কুকুরটির নমুনা সংগ্রহ

বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজারের দিঘিতে কুমির ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কুকুরটির নমুনা সংগ্রহ করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে মাজার এলাকা থেকে মাটি চাপা দেওয়া কুকুরের মরদেহ তুলে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর আগে বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে মাজারের দিঘির ঘাটের কাছে একটি অসুস্থ কুকুর শিশু ও নারীসহ কয়েকজনকে কামড় দেয়। তখন কয়েকজন কুকুরটি তাড়া করে। পরে কুকুরটি নারীদের ঘাট থেকে মূল ঘাটের দিকে আসে। সেখানে মাজারের নিরাপত্তাপ্রহরী ফোরকানকে কামড় দেয়। তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি ঘাটে পড়ে যায়। সিঁড়ি পিচ্ছিল হওয়ায় কুকুরটি আর ওপরে উঠতে পারেনি। একপর্যায়ে কুমির কুকুরটিকে ধরে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায়। এ অংশটুকু ফেসবুকে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়। ঘটনাটি অনুসন্ধানে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন, সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, কুকুরটির মাথা

কুমিরে টেনে নেওয়া কুকুরটির নমুনা সংগ্রহ

বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজারের দিঘিতে কুমির ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কুকুরটির নমুনা সংগ্রহ করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে মাজার এলাকা থেকে মাটি চাপা দেওয়া কুকুরের মরদেহ তুলে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

এর আগে বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে মাজারের দিঘির ঘাটের কাছে একটি অসুস্থ কুকুর শিশু ও নারীসহ কয়েকজনকে কামড় দেয়। তখন কয়েকজন কুকুরটি তাড়া করে। পরে কুকুরটি নারীদের ঘাট থেকে মূল ঘাটের দিকে আসে। সেখানে মাজারের নিরাপত্তাপ্রহরী ফোরকানকে কামড় দেয়। তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি ঘাটে পড়ে যায়। সিঁড়ি পিচ্ছিল হওয়ায় কুকুরটি আর ওপরে উঠতে পারেনি। একপর্যায়ে কুমির কুকুরটিকে ধরে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায়। এ অংশটুকু ফেসবুকে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়।

ঘটনাটি অনুসন্ধানে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন, সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, কুকুরটির মাথা ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল) এ পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট পেলে কুকুরটি অসুস্থ্য ছিল কিনা বা জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল কিনা তা জানা যাবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, মাজারের দিঘিতে কুমিরকে কখনওই কুকুর খেতে দেওয়া হয় না। তবে অনেক সময় ভক্তরা চান তাদের মুরগিটা কুমিরের জন্য ছুঁড়ে দিতে। ছুঁড়ে দিলে ওই মুরগিটা আবার পাড়ে চলে আসে। এ ধরণের জীবিত প্রাণী ছুঁড়ে দেওয়া কুসংস্কার। এগুলো বন্ধ করা দরকার। খাদেমসহ যারা মাজারের দেখাশুনার দায়িত্বে আছেন তাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছি, কুমিরের খাবার হিসেবে যেন জীবন্ত প্রাণী দিঘিতে না ফেলা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রাণিটির শরীরে কুমিরের আঘাত ছাড়া আর কোনো আঘাত আছে কিনা তাও দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি সবার সঙ্গে কথা বলবে এবং প্রাথমিকভাবে যা পাবে তার উপর ভিত্তি করে দ্রুতই প্রতিবেদন দেবে। সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেবো। তবে সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

নাহিদ ফরাজী/এএইচ/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow