কুমিল্লা বিসিকে তৈরি হচ্ছিল অবৈধ ওষুধ, মালিক আটক
কুমিল্লা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরীতে অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ উৎপাদনের অভিযোগে ‘মর্ডান ড্রাগ’ নামে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে মালিক জুবায়ের ইসলামকে আটক করেছে প্রশাসন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ, কাঁচামাল, প্যাকেজিং সামগ্রী ও উৎপাদন যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইয়াজ খানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, এনএসআই ও জেলা পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির নামে মাত্র দুটি ওষুধ উৎপাদনের সরকারি অনুমোদন থাকলেও কারখানাটিতে অন্তত ২১ ধরনের ওষুধ তৈরি করা হচ্ছিল। এসব ওষুধ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিলারদের মাধ্যমে বাজারজাত করা হতো। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, কোনো অনুমোদিত টেকনিশিয়ান বা দক্ষ কারিগরি তত্ত্বাবধান ছাড়াই সেখানে ওষুধ উৎপাদন চলছিল, যা বিদ্যমান ওষুধ উৎপাদন নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইয়াজ খান বলেন, অভিযানে অনুমো
কুমিল্লা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরীতে অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ উৎপাদনের অভিযোগে ‘মর্ডান ড্রাগ’ নামে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে মালিক জুবায়ের ইসলামকে আটক করেছে প্রশাসন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ, কাঁচামাল, প্যাকেজিং সামগ্রী ও উৎপাদন যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইয়াজ খানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, এনএসআই ও জেলা পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির নামে মাত্র দুটি ওষুধ উৎপাদনের সরকারি অনুমোদন থাকলেও কারখানাটিতে অন্তত ২১ ধরনের ওষুধ তৈরি করা হচ্ছিল। এসব ওষুধ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিলারদের মাধ্যমে বাজারজাত করা হতো।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, কোনো অনুমোদিত টেকনিশিয়ান বা দক্ষ কারিগরি তত্ত্বাবধান ছাড়াই সেখানে ওষুধ উৎপাদন চলছিল, যা বিদ্যমান ওষুধ উৎপাদন নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইয়াজ খান বলেন, অভিযানে অনুমোদনহীন বিপুল পরিমাণ ওষুধ, কাঁচামাল, প্যাকেজিং সামগ্রী ও উৎপাদন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা আলামত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কুমিল্লা কার্যালয়ের অফিস সহকারী শাহ আলম সরকার জানান, জব্দ করা ২১ ধরনের ওষুধের একটিরও বৈধ উৎপাদন অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া কয়েকটি বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে ওষুধ উৎপাদনের প্রমাণও পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, বিশেষ করে শিশুদের জন্য তৈরি কিছু ওষুধের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এসব ওষুধ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে কারখানার মালিক জুবায়ের ইসলাম স্বীকার করেন, তাদের কয়েকটি ওষুধ উৎপাদনের অনুমোদন থাকলেও অন্তত ১৫ ধরনের ওষুধ তৈরির কোনো সরকারি অনুমতি ছিল না। বাজারের চাহিদার কথা বিবেচনা করেই সেসব ওষুধ উৎপাদন করা হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা হাসান মাহমুদ, এনএসআই কর্মকর্তা, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করা অবৈধ ও অনুমোদনহীন ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
What's Your Reaction?