‘কেন আরেকটু অপেক্ষা করলে না, বাবা?’- মেসির হৃদয়বিদারক বার্তা
বাবা আর নেই- এই সত্যটাই যেন মেনে নিতে পারছেন না লিওনেল মেসি। শৈশব থেকে ফুটবলের প্রতিটি ধাপে যিনি ছিলেন তার সবচেয়ে কাছের মানুষ, বন্ধু, অভিভাবক ও প্রতিনিধি, সেই হোর্হে মেসিকে হারিয়ে গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বাবার সঙ্গে শেষ কথাগুলো, বিশ্বকাপ নিয়ে তাদের স্বপ্ন, মাঠে মেসিকে দেখে বাবার আনন্দ- সবকিছু স্মরণ করে এক দীর্ঘ আবেগঘন বার্তায় নিজের কষ্টের কথা জানিয়েছেন মেসি। মেসি লিখেছেন, ‘বাবা, তুমি চলে গেছ- এটা আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি আর তোমাকে দেখতে পাব না, তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারব না- এটাও বিশ্বাস হচ্ছে না। আমি জানি তুমি কষ্ট পাচ্ছিলে এবং এটাই হয়তো সবচেয়ে ভালো হয়েছে; কিন্তু তুমি খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলে। আমাদের একসঙ্গে উপভোগ করার মতো আরও অনেক কিছু বাকি ছিল।’ বিশ্বকাপ নিয়েও বাবার সঙ্গে তার বিশেষ স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন মেসি। তিনি জানান, শেষ বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার জন্য হোর্হে সবসময় তাকে উৎসাহ দিতেন। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর কয়েকদিন আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। মেসির মা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, হোর্হে সুস্থ হয়ে ভ্রমণ করতে পারবেন। মেসিও বাবাকে বলেছিলেন, তারা ফাইনালে উঠবেন
বাবা আর নেই- এই সত্যটাই যেন মেনে নিতে পারছেন না লিওনেল মেসি। শৈশব থেকে ফুটবলের প্রতিটি ধাপে যিনি ছিলেন তার সবচেয়ে কাছের মানুষ, বন্ধু, অভিভাবক ও প্রতিনিধি, সেই হোর্হে মেসিকে হারিয়ে গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
বাবার সঙ্গে শেষ কথাগুলো, বিশ্বকাপ নিয়ে তাদের স্বপ্ন, মাঠে মেসিকে দেখে বাবার আনন্দ- সবকিছু স্মরণ করে এক দীর্ঘ আবেগঘন বার্তায় নিজের কষ্টের কথা জানিয়েছেন মেসি।
মেসি লিখেছেন, ‘বাবা, তুমি চলে গেছ- এটা আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি আর তোমাকে দেখতে পাব না, তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারব না- এটাও বিশ্বাস হচ্ছে না। আমি জানি তুমি কষ্ট পাচ্ছিলে এবং এটাই হয়তো সবচেয়ে ভালো হয়েছে; কিন্তু তুমি খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলে। আমাদের একসঙ্গে উপভোগ করার মতো আরও অনেক কিছু বাকি ছিল।’
বিশ্বকাপ নিয়েও বাবার সঙ্গে তার বিশেষ স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন মেসি। তিনি জানান, শেষ বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার জন্য হোর্হে সবসময় তাকে উৎসাহ দিতেন। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর কয়েকদিন আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। মেসির মা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, হোর্হে সুস্থ হয়ে ভ্রমণ করতে পারবেন। মেসিও বাবাকে বলেছিলেন, তারা ফাইনালে উঠবেন এবং বাবা অন্তত একটি ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে পারবেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। মেসি লিখেছেন, ‘আমি তোমার কাছে এসেছিলাম, কারণ যা কিছু ঘটেছিল, সে সব নিয়ে কথা বলতে পারছিলাম না। তুমি কিছুই উপভোগ করতে পারোনি। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি, কিন্তু তুমি কখনো জানতে পারোনি প্রতিটি ম্যাচ আমরা কতটা উপভোগ করেছি। আবারও তুমি ঠিক ছিলে- তোমাকে সেখানে থাকতে হতো, আমাকে খেলতে হতো।’
বাবার সঙ্গে প্রতিদিন কথা বলার অভ্যাসের কথাও স্মরণ করেছেন মেসি। নিজের ব্যস্ততার কারণে সবসময় দেখা করা সম্ভব না হলেও তাদের যোগাযোগ কখনো থামেনি।
সবচেয়ে বেশি কষ্টের জায়গাটি ফুটে উঠেছে মেসির এই কথায়, ‘আমি জানি না তোমাকে ছাড়া আমি কী করব, কিভাবে এগিয়ে যাব। আমি শুধু ফুটবল খেলেছি, আর এখন আমার অনেক সন্দেহ হচ্ছে যে আমি আর কতদিন এটি চালিয়ে যাব।’
শৈশবের দিনগুলোর স্মৃতিও ফিরে এসেছে মেসির মনে। কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরেই বাবা তাকে অনুশীলনে নিয়ে যেতেন। তার কোনো ম্যাচই হোর্হে মেসির চোখ এড়াত না। ছেলের খেলা দেখে যেমন কষ্ট পেতেন, তেমনি উপভোগও করতেন- যদিও প্রশংসা খুব একটা করতেন না।
মেসির ভাষায়, ‘তুমি ছিলে বাবা, বন্ধু এবং প্রতিনিধি। প্রতিটি মুহূর্তে তোমাকে যে মানুষটি হতে হতো, তুমি সবসময় সেটাই ছিলে। তুমি কখনো ভুল করোনি। কিছু অভিযোগ কিংবা ঝগড়া হলেও শেষ পর্যন্ত তুমি ঠিকই ছিলে। সবকিছুর শেষ কথা ছিল তোমার কথাই।’
বাবাকে হারানোর পরও তার প্রভাব নিজের সন্তানদের জীবনে বাঁচিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মেসি। তিনি বলেন, সন্তানদের যেভাবে তিনি শেখান ও বড় করেন, তার পেছনেও রয়েছে তার বাবার শিক্ষা।
শেষে বাবার উদ্দেশে মেসির হৃদয়ছোঁয়া বিদায়, ‘আমি তোমাকে অনেক মিস করব। কিন্তু তুমি সবসময় আমাদের সঙ্গে থাকবে, বিশেষ করে আমার সন্তানদের শিক্ষার মধ্যে, কারণ আমি তাদের সেভাবেই শেখাই ও বড় করি, যেভাবে তুমি আমাকে শিখিয়েছিলে। শান্তিতে থেকো এবং ওপর থেকে আমাদের দেখো, যেমনটা এখানে থাকতে করতে। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ। আমি তোমাকে ভালোবাসি, বাবা।’
আরআর/আইএইচএস
What's Your Reaction?