কেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন ট্রাম্প?
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিএনএনের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন, যাতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা বজায় থাকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যে ইরান-কে সম্ভাব্য চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব দিলেও তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বে মতবিরোধ থাকায় আলোচনায় অগ্রগতি থমকে আছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও মজুদের বিষয়টি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আরও মনে করছেন, ইরানের নেতৃত্ব বর্তমানে “গভীরভাবে বিভক্ত”। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি পরিষ্কার নির্দেশনা দিচ্ছেন কিনা, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে আলোচকরা কী অবস্থান নেবেন, তা নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সামরিক হামলা পুনরায় শুরু না করে আপাতত কূটনৈতিক পথেই এগোতে চাইছেন ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর মাধ্যমে তিনি সংঘাত পুনরায় জোরদার হওয়ার ঝুঁকি এড়িয়ে সময় নিতে চাইছেন বলে প্র
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিএনএনের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন, যাতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা বজায় থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যে ইরান-কে সম্ভাব্য চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব দিলেও তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বে মতবিরোধ থাকায় আলোচনায় অগ্রগতি থমকে আছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও মজুদের বিষয়টি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা আরও মনে করছেন, ইরানের নেতৃত্ব বর্তমানে “গভীরভাবে বিভক্ত”। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি পরিষ্কার নির্দেশনা দিচ্ছেন কিনা, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে আলোচকরা কী অবস্থান নেবেন, তা নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সামরিক হামলা পুনরায় শুরু না করে আপাতত কূটনৈতিক পথেই এগোতে চাইছেন ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর মাধ্যমে তিনি সংঘাত পুনরায় জোরদার হওয়ার ঝুঁকি এড়িয়ে সময় নিতে চাইছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে আলোচনার অন্যতম বড় বাধা হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালী। ইরান শর্ত দিয়েছে, এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে মার্কিন অবরোধ তুলে নিতে হবে, তারপরই তারা নতুন করে আলোচনায় বসবে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। দেশটির কর্মকর্তারা একদিকে ইরানকে আলোচনায় ফিরতে চাপ দিচ্ছেন, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়া হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এই অর্থনৈতিক বাস্তবতাও যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাতে উভয় পক্ষ আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী হয়।
তবে সবকিছুর পরও আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সামরিক সক্ষমতা—এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হলেও চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো সহজ হবে না।
What's Your Reaction?