কেন উত্তর দিকে মাথা রেখে ঘুমানো মানা

আমাদের উপমহাদেশের অনেক পরিবারেই এখনো একটি বিষয় খুব গুরুত্ব দিয়ে মানা হয়। তা হলো ঘুমানোর সময় কখনোই উত্তর দিকে মাথা রাখা যাবে না। বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠরা এটি পরামর্শ হিসেবে নয়, প্রায় নিয়মের মতো করেই বলে থাকেন। অনেকের কাছে এটি নিছক কুসংস্কার মনে হলেও এই ধারণার পেছনে রয়েছে বাস্তুশাস্ত্রভিত্তিক চিন্তা এবং মানুষের শরীর নিয়ে দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ। এই বিশ্বাসের মূল কথা হলো সামঞ্জস্য। অর্থাৎ শরীর ও প্রকৃতির শক্তির মধ্যে ভারসাম্য রাখা। পৃথিবীর চৌম্বক শক্তি ও মানবদেহ পৃথিবী নিজেই একটি বিশাল চুম্বকের মতো কাজ করে। এর চৌম্বক শক্তির প্রবাহ উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে যায়। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, মানবদেহের মাথাকে ধরা হয় ধনাত্মক প্রান্ত এবং পাকে ধরা হয় ঋণাত্মক প্রান্ত। যখন কেউ উত্তর দিকে মাথা রেখে ঘুমায়, তখন শরীরের এই প্রাকৃতিক মেরু পৃথিবীর চৌম্বক প্রবাহের বিপরীতে অবস্থান করে। এতে শরীরের স্বাভাবিক শক্তি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এর ফল হিসেবে ঘুমে অস্থিরতা, গভীর ঘুম না হওয়া এবং মানসিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। প্রাচীনকালে বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা না থাকলেও মানুষ লক্ষ করেছিল,

কেন উত্তর দিকে মাথা রেখে ঘুমানো মানা
আমাদের উপমহাদেশের অনেক পরিবারেই এখনো একটি বিষয় খুব গুরুত্ব দিয়ে মানা হয়। তা হলো ঘুমানোর সময় কখনোই উত্তর দিকে মাথা রাখা যাবে না। বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠরা এটি পরামর্শ হিসেবে নয়, প্রায় নিয়মের মতো করেই বলে থাকেন। অনেকের কাছে এটি নিছক কুসংস্কার মনে হলেও এই ধারণার পেছনে রয়েছে বাস্তুশাস্ত্রভিত্তিক চিন্তা এবং মানুষের শরীর নিয়ে দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ। এই বিশ্বাসের মূল কথা হলো সামঞ্জস্য। অর্থাৎ শরীর ও প্রকৃতির শক্তির মধ্যে ভারসাম্য রাখা। পৃথিবীর চৌম্বক শক্তি ও মানবদেহ পৃথিবী নিজেই একটি বিশাল চুম্বকের মতো কাজ করে। এর চৌম্বক শক্তির প্রবাহ উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে যায়। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, মানবদেহের মাথাকে ধরা হয় ধনাত্মক প্রান্ত এবং পাকে ধরা হয় ঋণাত্মক প্রান্ত। যখন কেউ উত্তর দিকে মাথা রেখে ঘুমায়, তখন শরীরের এই প্রাকৃতিক মেরু পৃথিবীর চৌম্বক প্রবাহের বিপরীতে অবস্থান করে। এতে শরীরের স্বাভাবিক শক্তি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এর ফল হিসেবে ঘুমে অস্থিরতা, গভীর ঘুম না হওয়া এবং মানসিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। প্রাচীনকালে বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা না থাকলেও মানুষ লক্ষ করেছিল, পর্যাপ্ত ঘুমের পরও অনেকেই ক্লান্ত, বিরক্ত বা মনোযোগহীন বোধ করছেন। কেন মস্তিষ্ক বেশি প্রভাবিত হয় মানবদেহের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঙ্গ হলো মস্তিষ্ক। এতে রক্ত চলাচল বেশি হওয়ায় লৌহ উপাদানের উপস্থিতিও তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই মস্তিষ্ক চৌম্বক প্রভাবের প্রতি বেশি সংবেদনশীল বলে মনে করা হয়। ধারণা করা হয়, উত্তর দিকে মাথা রেখে ঘুমালে রক্ত সঞ্চালন অস্বাভাবিকভাবে মস্তিষ্কের দিকে আকৃষ্ট হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন হলে মাথাব্যথা, অস্বস্তিকর স্বপ্ন, দুশ্চিন্তা এবং মনোযোগের সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই কারণেই শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং যাদের ঘুমের সমস্যা বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই দিকনির্দেশনা আরও জোর দিয়ে বলা হয়। বাস্তুশাস্ত্রে উত্তরের প্রতীকী অর্থ শুধু শারীরিক দিক থেকেই নয়, বাস্তুশাস্ত্রে উত্তর দিকের একটি প্রতীকী ব্যাখ্যাও রয়েছে। অনেক বিশ্বাস অনুযায়ী, উত্তর দিককে স্থবিরতা ও বিশ্রামের দিক হিসেবে ধরা হয়। এটি সমাপ্তি এবং অতীতের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। বাসুশাস্ত্র অনুযায়ী, ঘুম হওয়া উচিত এমন একটি প্রক্রিয়া যা শরীর ও মনকে নতুন শক্তি দেয়। দক্ষিণ বা পূর্ব দিককে তাই বেশি উপযোগী বলা হয়, কারণ এই দিকগুলোকে পুনর্নবীকরণ ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এই কারণে উত্তর দিকে মাথা রেখে ঘুমাতে নিষেধ করা হয়, ভয়ের কারণে নয়, বরং কার্যকারিতার জন্য। মানসিক ও আবেগগত প্রভাব এই বিষয়টির একটি মানসিক দিকও রয়েছে। অনেকেই জানান, উত্তর দিকে মাথা রেখে ঘুমালে তাদের ঘুম বারবার ভেঙে যায়, স্বপ্ন বেশি হয় বা অকারণে অস্বস্তি অনুভূত হয়। তারা হয়তো এর স্পষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেন না, কিন্তু শরীর ও মন শান্ত বোধ করে না। ঘুম শুধু শারীরিক বিশ্রাম নয়, এটি মানসিক প্রক্রিয়ারও সময়। শরীর পুরোপুরি আরাম না পেলে মনও সচল থাকে। দীর্ঘদিন এমন হলে বিরক্তি, অতিরিক্ত চিন্তা এবং মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। প্রাচীন অভিজ্ঞতাভিত্তিক জ্ঞান এই বিষয়টি অনেক আগেই বুঝতে পেরেছিল। কোন দিকগুলো ঘুমের জন্য ভালো বাসুশাস্ত্র অনুযায়ী, দক্ষিণ দিকে মাথা রেখে ঘুমানো সবচেয়ে ভালো বলে ধরা হয়। এতে শরীর পৃথিবীর চৌম্বক শক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পারে এবং গভীর ও প্রশান্ত ঘুম হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। পূর্ব দিকও ভালো বলে মনে করা হয়, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও যাদের মানসিক স্বচ্ছতা দরকার তাদের জন্য। সূর্যোদয়ের দিক হওয়ায় এটি নতুন শুরুর প্রতীক। পশ্চিম দিককে নিরপেক্ষ বলা হয়। খুব ভালো না হলেও গ্রহণযোগ্য। উত্তর দিককে তবে সবচেয়ে বেশি নিরুৎসাহিত করা হয়। কুসংস্কার নয়, দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ এই নিয়মগুলো কেবল বিশ্বাস থেকে তৈরি হয়নি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষ লক্ষ করেছে, কোন অভ্যাসে শরীর সতেজ থাকে আর কোনটিতে ক্লান্তি বাড়ে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এই নীতিগুলো গড়ে উঠেছে। আজও অনেকেই উত্তর দিক বাদ দিয়ে ঘুমানোর দিক পরিবর্তন করার পর কয়েক দিনের মধ্যেই ঘুমের মানে পরিবর্তন অনুভব করেন। এটি বিশ্বাসের কারণে নয়, বরং শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার ফল। বর্তমান সময়ে ঘুমের সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। এমন অবস্থায় এই প্রাচীন পরামর্শ নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। ঘুমানোর সময় মাথার দিক বদলাতে কোনো খরচ নেই, ঝুঁকি নেই, বাড়তি কিছু করারও দরকার নেই। অনেক সময় সুস্থ থাকার জন্য বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় শুধু সামঞ্জস্যের। কখনো কখনো ভালো ঘুম শুরু হয় ওষুধ বা প্রযুক্তি দিয়ে নয়, বরং খুব সাধারণ একটি পরিবর্তন দিয়ে। যেমন ঘুমানোর সময় সঠিক দিকে মাথা রাখা। সূত্র : Times of India

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow