কোচ টুখেলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘গোপনে অভিযোগ’ তিন ইংলিশ তারকার

৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে। অনেকে ইংল্যান্ডের জয়ই দেখে ফেলেছিলেন; কিন্তু শেষ মুহূর্তের ঝড়ে ইংল্যান্ডের সাজানো বাগান এলোমেলো করে দিলেন লিওনেল মেসি অ্যান্ড কোং। ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেলো আর্জেন্টিনা। তবে ইংল্যান্ডের এই হারের পেছনে কোচ টমাস টুখেলের ভুল কৌশলকেই দায়ী করছেন অনেকে। শেষ মুহূর্তে ৫জন ডিফেন্ডার নামিয়ে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক খেলতে গিয়েই সর্বনাশটা ঘটিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেলের এই কৌশল নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে তিনজন সিনিয়র ফুটবলার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। গোল করার পরই দলটির ছন্দ ভেঙে পড়ে। ৮৫তম মিনিটে প্রথমে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান, এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন। এই হারের পর টুখেল ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। কারণ, তিনি ১-০ গোলের লিড ধরে রাখার লক্ষ্যে তিনটি রক্ষণাত্মক পরিবর্তন করেন এবং চার জনের বদলে পাঁচ জন ডিফেন্ডারের রক্ষণভাগে নিয়ে যান। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায

কোচ টুখেলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘গোপনে অভিযোগ’ তিন ইংলিশ তারকার

৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে। অনেকে ইংল্যান্ডের জয়ই দেখে ফেলেছিলেন; কিন্তু শেষ মুহূর্তের ঝড়ে ইংল্যান্ডের সাজানো বাগান এলোমেলো করে দিলেন লিওনেল মেসি অ্যান্ড কোং। ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেলো আর্জেন্টিনা।

তবে ইংল্যান্ডের এই হারের পেছনে কোচ টমাস টুখেলের ভুল কৌশলকেই দায়ী করছেন অনেকে। শেষ মুহূর্তে ৫জন ডিফেন্ডার নামিয়ে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক খেলতে গিয়েই সর্বনাশটা ঘটিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেলের এই কৌশল নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে তিনজন সিনিয়র ফুটবলার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। গোল করার পরই দলটির ছন্দ ভেঙে পড়ে। ৮৫তম মিনিটে প্রথমে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান, এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন।

এই হারের পর টুখেল ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। কারণ, তিনি ১-০ গোলের লিড ধরে রাখার লক্ষ্যে তিনটি রক্ষণাত্মক পরিবর্তন করেন এবং চার জনের বদলে পাঁচ জন ডিফেন্ডারের রক্ষণভাগে নিয়ে যান।

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েন রুনি অভিযোগ করেন, টুখেলের এই সিদ্ধান্তই দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে। তার দাবি, কোচের পরিবর্তনগুলো খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দিয়েছে।

তবে ম্যাচ শেষে টুখেল নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেন। তার মতে, আক্রমণাত্মক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনলেও আর্জেন্টিনাকে থামানো যেত না।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের অন্তত তিনজন সিনিয়র খেলোয়াড় দ্বিতীয়ার্ধে দলের খেলার ধরন নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের বিশ্বাস, টুখেলের পরিবর্তনগুলো দলের রক্ষণাত্মক মানসিকতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কয়েকজন খেলোয়াড়ের মতে, ইংল্যান্ডের আরও বেশি আক্রমণাত্মকভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার স্বাধীনতা থাকা উচিত ছিল, যাতে আর্জেন্টিনার ধারাবাহিক আক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হতো।

অন্যদিকে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, দ্বিতীয়ার্ধে দলের আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করতে বুকায়ো সাকা কিংবা ননি মাদুয়েকেকে মাঠে না নামানোর টুখেলের সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনা শিবিরও বিস্মিত হয়েছিল।

ইংল্যান্ডের রক্ষণাত্মক পরিবর্তন দেখে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি আরও আক্রমণাত্মক কৌশল নেন। তিনি লেফট ব্যাক নিকোলাস তালিয়াফিকোর বদলে লাউতারো মার্তিনেজকে মাঠে নামান, যিনি পরে জয়সূচক গোলটি করেন।

এদিকে টুখেল স্বীকার করেছেন, ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল বলের দখল ধরে রাখতে না পারা। তার মতে, দ্বিতীয়ার্ধে যে ধস নেমেছিল, তা বিশ্বের কোনো কৌশল দিয়েই ঠেকানো সম্ভব হতো না।

টুখেল বলেন, ‘আমার মনে হয় বলের দখল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্পেন, আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের মতো বল নিয়ন্ত্রণ করে ম্যাচ পরিচালনা করার সংস্কৃতি হয়তো আমাদের নেই। এটাও আমাদের বড় একটি সমস্যা।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে কোনো কৌশলেই সক্রিয় থাকা, প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা এবং দ্বৈরথে জেতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি। আমার মনে হয়, তখন বিশ্বের কোনো কৌশলই আমাদের সাহায্য করতে পারত না, কারণ আমরা খুবই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলাম। আমরা যথেষ্ট শারীরিক লড়াই করতে পারিনি। প্রতিপক্ষের দৌড় থামাতে পারিনি এবং তাদের ক্রসও ছিল দুর্দান্ত।’

টুখেল আরও বলেন, ‘আমরা গোল করার পরই ম্যাচের গতি পুরোপুরি বদলে যায়। বলের দখল ও সুযোগ- দুই ক্ষেত্রেই আমরা পিছিয়ে পড়ি। পাঁচ ডিফেন্ডারের রক্ষণ সাজিয়ে আমি দলকে আরও রক্ষণাত্মক করতে চাইনি, বরং উইঙ্গারদের চাপে রাখতে এবং চার ডিফেন্ডারের মাঝের ফাঁকগুলো এড়াতে চেয়েছিলাম।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমরা সবাইকে আরও সক্রিয় হতে উৎসাহ দিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা লড়াই করতে পারিনি। আমাদের আবার বলের দখল ফিরিয়ে আনতে হতো। তা না হলে প্রতিপক্ষের চাপ ভাঙা বা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।’

আরএএইচইউএল/আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow