কোন দল জিতবে বিশ্বকাপ? পূর্বাভাস দিল সুপারকম্পিউটার

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে ফুটবলবিশ্বে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি সুপারকম্পিউটার বিশ্লেষণ। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের ম্যানেজমেন্ট স্কুলের গবেষকদের তৈরি এই মডেল জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে ইংল্যান্ড ও স্পেন—যেখানে শিরোপা জয়ের সবচেয়ে বড় ফেভারিট হিসেবে এগিয়ে রাখা হয়েছে স্পেনকে। গবেষকদের দাবি, উন্নত মেশিন লার্নিংভিত্তিক এই সিস্টেম খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা, দলের সমন্বয়, ইনজুরি পরিস্থিতি, ফিটনেস এবং প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণসহ একাধিক ভেরিয়েবল ব্যবহার করে ফলাফল পূর্বাভাস দেয়। এক হাজার সিমুলেশন চালিয়ে প্রতিটি দলের সম্ভাব্য পথ, নকআউট পর্বে অগ্রগতি এবং শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ২৬.১ শতাংশ, যা তালিকার শীর্ষে। এরপর রয়েছে ইংল্যান্ড ১৭ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে। ফ্রান্সের সম্ভাবনা ১৩.৫ শতাংশ, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ১২.৪ শতাংশ এবং পর্তুগালের ১০.৬ শতাংশ। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইংল্যান্ড গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে উঠতে পারে। শেষ ষোলোতে তা

কোন দল জিতবে বিশ্বকাপ? পূর্বাভাস দিল সুপারকম্পিউটার
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে ফুটবলবিশ্বে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি সুপারকম্পিউটার বিশ্লেষণ। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের ম্যানেজমেন্ট স্কুলের গবেষকদের তৈরি এই মডেল জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে ইংল্যান্ড ও স্পেন—যেখানে শিরোপা জয়ের সবচেয়ে বড় ফেভারিট হিসেবে এগিয়ে রাখা হয়েছে স্পেনকে। গবেষকদের দাবি, উন্নত মেশিন লার্নিংভিত্তিক এই সিস্টেম খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা, দলের সমন্বয়, ইনজুরি পরিস্থিতি, ফিটনেস এবং প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণসহ একাধিক ভেরিয়েবল ব্যবহার করে ফলাফল পূর্বাভাস দেয়। এক হাজার সিমুলেশন চালিয়ে প্রতিটি দলের সম্ভাব্য পথ, নকআউট পর্বে অগ্রগতি এবং শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ২৬.১ শতাংশ, যা তালিকার শীর্ষে। এরপর রয়েছে ইংল্যান্ড ১৭ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে। ফ্রান্সের সম্ভাবনা ১৩.৫ শতাংশ, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ১২.৪ শতাংশ এবং পর্তুগালের ১০.৬ শতাংশ। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইংল্যান্ড গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে উঠতে পারে। শেষ ষোলোতে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে ডিআর কঙ্গো ও মেক্সিকোর নাম উঠে এসেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল এবং সেমিফাইনালে পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখানো হয়েছে। স্কটল্যান্ডের ক্ষেত্রেও পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, তারা গ্রুপে তৃতীয় স্থানে থাকতে পারে এবং শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা ১১.৮ শতাংশ। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমান সম্ভাবনায় এগিয়ে রয়েছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারজাবাল। সিমুলেশন অনুযায়ী দুজনই গড়ে ৫.২টি করে গোল করতে পারেন। গবেষণার সহ-প্রধান ড. বেঞ্জামিন হোমস জানান, ইউরো ২০২৪-এর পর মডেলটি আরও উন্নত করা হয়েছে। এতে এখন ইনজুরি, নিষেধাজ্ঞা, ম্যাচের কৌশল, আবহাওয়া এবং ভৌগোলিক বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তিনটি স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, বাজিকরদের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিল রেখে স্পেনই ফেভারিট অবস্থানে রয়েছে। তবে নরওয়ে এখানে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে উঠে এসেছে, যার শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৩.৬ শতাংশ। অন্য একটি পৃথক গবেষণায় ইনসব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষণেও স্পেনকে সামান্য ব্যবধানে ফেভারিট হিসেবে দেখানো হয়েছে। সেখানে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও জার্মানি কাছাকাছি অবস্থানে থাকলেও স্পেন এগিয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টুর্নামেন্টে ফেভারিট দলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা সাধারণত সীমিত থাকে, ফলে অপ্রত্যাশিত কোনো দলও বড় সাফল্য পেতে পারে। সব মিলিয়ে সুপারকম্পিউটারের এই পূর্বাভাস বিশ্বকাপের আগে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—প্রযুক্তির হিসাব কি মাঠের বাস্তবতাকে ধরতে পারবে, নাকি আবারও ফুটবলই প্রমাণ করবে শেষ কথা খেলা নিজেই?

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow