কোরবানির পর আড়তে টানা কাজ করে ঢুলুঢুলু চামড়া শ্রমিকরা
রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগের পোস্তা। জনাকীর্ণ এই এলাকায় সাধারণত সারাবছরই থাকে কর্মব্যস্ততা। কিন্তু আজ শুক্রবার (২৯ মে) ভোরে পোস্তার চামড়ার আড়ত পট্টির দৃশ্য ছিল ভিন্ন। একটি বন্ধ থাকা ব্যাংকের সামনে রাখা কাঠের বেঞ্চ ও তার নিচে মাটিতে বিছানো প্লাস্টিকের ওপর আট-দশজন ব্যক্তিকে বেঘোরে ঘুমাতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে যারা জেগে ছিলেন ঘুমের ঘোরে তাদের চোখও যেন লেগে আসছিল। ভীষণ ক্লান্তিতে আচ্ছন্ন এক শ্রমিককে দেখা যায় বেঞ্চে বসেই ঝিমিয়ে পড়তে। ঈদুল আজহার পশু কোরবানির পর চামড়ার আড়তে আসতে ধাকে কাঁচা চামড়া। এসব চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে ক্লান্ত অনেকে। কৌতূহলবশত কাছে গিয়ে পরিচয় জানতে চাইলে জানা যায়, তারা মূলত পেশাদার চামড়া শ্রমিক। দিনাজপুর থেকে একসঙ্গে ৩০ জনের একটি দল চামড়ার আড়তে কাজ করার চুক্তিতে এসেছেন। ঈদের দিন বিকেল থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত টানা ১৫ ঘণ্টা বিরতিহীনভাবে চামড়ায় লবণ লাগানোর কাজ করেছেন তারা। এই অমানুষিক পরিশ্রমের পর বিশ্রামের সুযোগ না মেলায় আড়তের সামনেই যে যেভাবে পেরেছেন ঘুমিয়ে পড়েছেন। দলের সর্দার (দলনেতা) নাসিম মিয়া জানান, প্রতিবছরই মৌসুমী কাজের জন্য তিনি দিনাজপু
রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগের পোস্তা। জনাকীর্ণ এই এলাকায় সাধারণত সারাবছরই থাকে কর্মব্যস্ততা। কিন্তু আজ শুক্রবার (২৯ মে) ভোরে পোস্তার চামড়ার আড়ত পট্টির দৃশ্য ছিল ভিন্ন। একটি বন্ধ থাকা ব্যাংকের সামনে রাখা কাঠের বেঞ্চ ও তার নিচে মাটিতে বিছানো প্লাস্টিকের ওপর আট-দশজন ব্যক্তিকে বেঘোরে ঘুমাতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে যারা জেগে ছিলেন ঘুমের ঘোরে তাদের চোখও যেন লেগে আসছিল। ভীষণ ক্লান্তিতে আচ্ছন্ন এক শ্রমিককে দেখা যায় বেঞ্চে বসেই ঝিমিয়ে পড়তে।
ঈদুল আজহার পশু কোরবানির পর চামড়ার আড়তে আসতে ধাকে কাঁচা চামড়া। এসব চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে ক্লান্ত অনেকে।
কৌতূহলবশত কাছে গিয়ে পরিচয় জানতে চাইলে জানা যায়, তারা মূলত পেশাদার চামড়া শ্রমিক। দিনাজপুর থেকে একসঙ্গে ৩০ জনের একটি দল চামড়ার আড়তে কাজ করার চুক্তিতে এসেছেন। ঈদের দিন বিকেল থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত টানা ১৫ ঘণ্টা বিরতিহীনভাবে চামড়ায় লবণ লাগানোর কাজ করেছেন তারা। এই অমানুষিক পরিশ্রমের পর বিশ্রামের সুযোগ না মেলায় আড়তের সামনেই যে যেভাবে পেরেছেন ঘুমিয়ে পড়েছেন।
দলের সর্দার (দলনেতা) নাসিম মিয়া জানান, প্রতিবছরই মৌসুমী কাজের জন্য তিনি দিনাজপুর থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসেন। আড়তদারদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি চামড়ায় লবণ লাগানোর জন্য তারা ৭০ টাকা হারে মজুরি নির্ধারণ করেছেন।
কাজের পারিশ্রমিক সম্পর্কে এক শ্রমিক জানান, আড়তদারের সঙ্গে তাদের এখনো হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত হয়নি। তবে কাজ শেষে একেকজন শ্রমিক কমপক্ষে দুই থেকে তিন হাজার টাকা মজুরি পাবেন বলে আশা করছেন।
ঈদের আনন্দকে দূরে ঠেলে জীবিকার তাগিদে এই শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম ও ক্লান্ত শরীর যেন পোস্তার আড়ত পট্টির ভিন্ন এক বাস্তবতার গল্প বলে দিচ্ছে।
এমইউ/এসএনআর
What's Your Reaction?