কোরবানির ব্যস্ততার আগে সেরে ফেলুন এই বাজার

ঈদুল আজহা মানেই ত্যাগের মহিমা, পারিবারিক আনন্দ আর ব্যস্ততায় ভরা কয়েকটি দিন। তবে এই আনন্দের মাঝেই অনেকের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। কোরবানির পশু কেনা থেকে শুরু করে মসলা, রান্নার উপকরণ, সংরক্ষণের ব্যবস্থা-সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। বিশেষ করে ঈদের আগের দুই-তিন দিনে বাজারে মানুষের ভিড়, যানজট আর পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই একটু পরিকল্পনা করে আগেভাগে কিছু প্রয়োজনীয় বাজার সেরে ফেলতে পারলে কোরবানির দিনগুলো অনেকটাই স্বস্তিতে কাটানো সম্ভব। এতে যেমন সময় বাঁচে, তেমনি অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তাও কমে যায়। মসলা ও শুকনো উপকরণ আগে কিনুন কোরবানির ঈদে রান্নার প্রধান আকর্ষণই হলো বিভিন্ন ধরনের মাংসের পদ। কোরমা, কালাভুনা, রেজালা, কাবাব কিংবা ভুনা-সবকিছুর জন্য প্রয়োজন নানা ধরনের মসলা। ঈদের আগের দিন এসব কিনতে গেলে অনেক সময় পছন্দমতো মান পাওয়া যায় না।সতাই আগেই কিনে রাখতে পারেন-জিরা, ধনে, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, মরিচ গুঁড়া, হলুদ, গরম মসলা, ঘি, সরিষার তেল, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ-রসুন-আদা। শুকনো মসলা আগে কিনে রাখলে দামও তুলনামূলক কম থাকে। ফ্রিজিং ও

কোরবানির ব্যস্ততার আগে সেরে ফেলুন এই বাজার

ঈদুল আজহা মানেই ত্যাগের মহিমা, পারিবারিক আনন্দ আর ব্যস্ততায় ভরা কয়েকটি দিন। তবে এই আনন্দের মাঝেই অনেকের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা।

কোরবানির পশু কেনা থেকে শুরু করে মসলা, রান্নার উপকরণ, সংরক্ষণের ব্যবস্থা-সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। বিশেষ করে ঈদের আগের দুই-তিন দিনে বাজারে মানুষের ভিড়, যানজট আর পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই একটু পরিকল্পনা করে আগেভাগে কিছু প্রয়োজনীয় বাজার সেরে ফেলতে পারলে কোরবানির দিনগুলো অনেকটাই স্বস্তিতে কাটানো সম্ভব। এতে যেমন সময় বাঁচে, তেমনি অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তাও কমে যায়।

মসলা ও শুকনো উপকরণ আগে কিনুন

কোরবানির ঈদে রান্নার প্রধান আকর্ষণই হলো বিভিন্ন ধরনের মাংসের পদ। কোরমা, কালাভুনা, রেজালা, কাবাব কিংবা ভুনা-সবকিছুর জন্য প্রয়োজন নানা ধরনের মসলা। ঈদের আগের দিন এসব কিনতে গেলে অনেক সময় পছন্দমতো মান পাওয়া যায় না।সতাই আগেই কিনে রাখতে পারেন-জিরা, ধনে, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, মরিচ গুঁড়া, হলুদ, গরম মসলা, ঘি, সরিষার তেল, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ-রসুন-আদা। শুকনো মসলা আগে কিনে রাখলে দামও তুলনামূলক কম থাকে।

ফ্রিজিং ও সংরক্ষণের সরঞ্জাম রাখুন প্রস্তুত

কোরবানির মাংস সংরক্ষণ এখন বড় একটি বিষয়। অনেকেই শেষ মুহূর্তে পলিথিন, বক্স বা ফয়েল পেপার খুঁজে পান না। তাই আগেই কিনে রাখতে পারেন- ফুড গ্রেড পলিব্যাগ, জিপলক ব্যাগ, প্লাস্টিক বা স্টিলের কনটেইনার, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, মার্কার বা লেবেল স্টিকার। মাংস আলাদা ভাগে সংরক্ষণ করলে পরে ব্যবহার করাও সহজ হয়।

আরও পড়ুন:

রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় জিনিস আগেই কিনে রাখুন

ঈদের সময় হঠাৎ করে গ্যাস লাইটার, ছুরি কিংবা কাটিং বোর্ডের প্রয়োজন পড়ে। তখন দোকান বন্ধ বা অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ঝামেলায় পড়তে হয়। যা আগে কিনে রাখতে পারেন- ধারালো ছুরি, কাটিং বোর্ড, গ্যাস লাইটার বা ম্যাচ, বড় হাঁড়ি বা ডেকচি, ডিসপোজেবল গ্লাভস, টিস্যু ও পরিষ্কার কাপড়। একই সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপকরণ ভুলবেন না। কোরবানির পর বাড়ি পরিষ্কার রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রক্ত বা বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার না করলে দুর্গন্ধ ও জীবাণুর ঝুঁকি বাড়ে।

আগে থেকেই সংগ্রহে রাখতে পারেন

  • ব্লিচিং পাউডার
  • জীবাণুনাশক স্প্রে
  • ফিনাইল বা ফ্লোর ক্লিনার
  • ময়লার ব্যাগ
  • ব্রাশ ও মোপ

এগুলো থাকলে কোরবানির পরপরই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

অতিথি আপ্যায়নের বাজার আগে করুন

ঈদের সময় আত্মীয়স্বজন ও অতিথির আনাগোনা থাকে বেশি। তাই নাস্তা ও পানীয়র কিছু প্রস্তুতি আগে রাখলে হঠাৎ অস্বস্তিতে পড়তে হয় না। আগেই কিনে রাখতে পারেন- সেমাই, চিনি, দুধ, কোমল পানীয়, বিস্কুট, চানাচুর, চা-কফি, আইসক্রিম বা ডেজার্ট উপকরণ।

শিশুদের প্রয়োজনীয় জিনিসও তালিকায় রাখুন

পরিবারে শিশু থাকলে তাদের জন্য কিছু আলাদা প্রস্তুতি দরকার হয়। ঈদের ব্যস্ততায় যেন তাদের প্রয়োজন উপেক্ষিত না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। যেমন- নতুন পোশাক ও জুতা, টিস্যু ও ওয়েট ওয়াইপস, হালকা খাবার ও জুস, প্রয়োজনীয় ওষুধ।

বাজেট করে বাজার করুন

কোরবানির সময় অনেকেই আবেগে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কিনে ফেলেন। এতে পরে আর্থিক চাপ তৈরি হয়। তাই বাজারে যাওয়ার আগে একটি তালিকা তৈরি করুন। কোন জিনিস কতটুকু লাগবে, সেটি ঠিক করে নিলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমবে। চাইলে বাজারকে তিন ভাগে ভাগ করতে পারেন। যেমন- জরুরি, প্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত। এতে হিসাব রাখা সহজ হবে।

অনলাইন কেনাকাটাও হতে পারে ভালো সমাধান

বর্তমানে অনেকেই অনলাইনে বাজার করছেন। এতে সময় যেমন বাঁচে, তেমনি ভিড়ও এড়ানো যায়। বিশেষ করে ভারী বা বেশি পরিমাণ পণ্য অনলাইনে অর্ডার করলে বাড়তি ঝামেলা কমে। তবে অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ডেলিভারির সময় ও পণ্যের মান যাচাই করা জরুরি।

পরিকল্পিত প্রস্তুতিই এনে দেয় স্বস্তি

কোরবানির ঈদ শুধু পশু কোরবানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পরিবার, আত্মীয়তা ও আনন্দ ভাগাভাগিরও সময়। তাই শেষ মুহূর্তের অস্থিরতা এড়িয়ে যদি একটু পরিকল্পনা করে আগেভাগে বাজার করা যায়, তাহলে ঈদের আনন্দ আরও স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে। একটি ছোট তালিকা, সামান্য পরিকল্পনা আর সময়মতো কেনাকাটাই কোরবানির ব্যস্ততাকে অনেক সহজ করে দিতে পারে।

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow