কোরবানির হাটে দেশি গরু চেনার উপায়

২৮ মে মুসলিমদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ হিসেবে পরিচিত এ উৎসবকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে পশুর হাটগুলোতে জমে উঠেছে দেশি-বিদেশি নানা জাতের গরু বেচাকেনা। আমাদের দেশে কোরবানির জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় পশু হলো গরু। তবে দেশি জাতের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিগত কয়েক বছর ধরেই মূলত দেশের বাজারে এর চাহিদা বেড়েছে। সাধারণত দেশি গরু বিদেশি বা শংকর জাতের গরুর তুলনায় আকারে কিছুটা ছোট হয়ে থাকে। তবে কম চর্বিযুক্ত ও সুস্বাদু মাংস এবং সাধ্যের মধ্যে দামের কারণে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় দেশি গরুই এখন শীর্ষে অবস্থান করছে। ফলে দিনদিন চাহিদাও বাড়ছে। দেশি গরুর বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন। অনেক সময় সাধারণ ক্রেতারা বিদেশি গরুকে দেশি গরু ভেবে প্রতারিতও হন। তাই কোরবানির জন্য যদি পছন্দ দেশি গরু হয়, তবে কেনার আগে এ সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় পছন্দের গরু কিনতে গিয়ে আপনি ঠকে যেতে পারেন। জেনে নিন কোরবানির হাটে দেশি গরু চিনবেন যেভাবে: স্থানীয় দেশি জাতের গরু দেশের সব অঞ্চলে এ ধরনের গরু দেখা যায়। এরা সাধারণত আকারে ছোট হয়ে থাকে।

কোরবানির হাটে দেশি গরু চেনার উপায়

২৮ মে মুসলিমদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ হিসেবে পরিচিত এ উৎসবকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে পশুর হাটগুলোতে জমে উঠেছে দেশি-বিদেশি নানা জাতের গরু বেচাকেনা। আমাদের দেশে কোরবানির জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় পশু হলো গরু। তবে দেশি জাতের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিগত কয়েক বছর ধরেই মূলত দেশের বাজারে এর চাহিদা বেড়েছে।

সাধারণত দেশি গরু বিদেশি বা শংকর জাতের গরুর তুলনায় আকারে কিছুটা ছোট হয়ে থাকে। তবে কম চর্বিযুক্ত ও সুস্বাদু মাংস এবং সাধ্যের মধ্যে দামের কারণে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় দেশি গরুই এখন শীর্ষে অবস্থান করছে। ফলে দিনদিন চাহিদাও বাড়ছে। দেশি গরুর বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন। অনেক সময় সাধারণ ক্রেতারা বিদেশি গরুকে দেশি গরু ভেবে প্রতারিতও হন।

তাই কোরবানির জন্য যদি পছন্দ দেশি গরু হয়, তবে কেনার আগে এ সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় পছন্দের গরু কিনতে গিয়ে আপনি ঠকে যেতে পারেন। জেনে নিন কোরবানির হাটে দেশি গরু চিনবেন যেভাবে:

স্থানীয় দেশি জাতের গরু

দেশের সব অঞ্চলে এ ধরনের গরু দেখা যায়। এরা সাধারণত আকারে ছোট হয়ে থাকে। গায়ের লোম ছোট, মসৃণ ও চকচকে এবং চামড়া বেশ শক্ত প্রকৃতির। এদের কুঁজ সুগঠিত ও সুস্পষ্ট। গলার নিচের চামড়া উন্নত ও প্রসারিত থাকে। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক ষাঁড়ের ক্ষেত্রে এটি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। কান লম্বা এবং পাতার মতো ভাঁজযুক্ত। শিং সাধারণত বাঁকানো আকৃতির হয়।

গায়ের রং লাল, সাদা, কালো, ধূসর বা ছাইরঙা হতে পারে। কখনো কখনো দুই বা ততধিক রঙের মিশ্রণও দেখা যায়। কুঁজ পর্যন্ত উচ্চতা সাধারণত তিন থেকে সাড়ে তিন ফুট পর্যন্ত হয়। দেহের দৈর্ঘ অর্থাৎ সামনের পায়ের গোড়া থেকে লেজের গোড়া পর্যন্ত দূরত্ব, সাড়ে তিন ফুটের কাছাকাছি হয়ে থাকে। একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ গরুর ওজন সাধারণত ২০০ থেকে ২৫০ কেজি এবং স্ত্রী গরুর ওজন ১৫০ থেকে ২২০ কেজির মধ্যে হয়ে থাকে।

রেড চিটাগাং ক্যাটল

এ ধরনের গরু প্রধানত চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাওয়া যায়। এদের গায়ের রং সাধারণত লালচে হয়ে থাকে। পাশাপাশি মুখমণ্ডল, চোখের পাতা, খুর এবং লেজের প্রান্তেও লালচে আভা লক্ষ্য করা যায়। এ গরুর দেহ তুলনামূলকভাবে ছোট আকৃতির। কুঁজ পর্যন্ত উচ্চতা সাধারণত সাড়ে তিন ফুটের মতো হয় এবং দেহের দৈর্ঘ সাড়ে তিন থেকে চার ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ গরুর ওজন সাধারণত ২৫০ থেকে ৪০০ কেজি এবং স্ত্রী গরুর ওজন ১৫০ থেকে ২৩০ কেজির মধ্যে হয়ে থাকে।

পাবনা ক্যাটল

এ জাতের গরু প্রধানত পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বেশি দেখা যায়। সাধারণত এদের গায়ের রং লাল, ধূসর (ছাইরঙা) অথবা এ দুই রঙের মিশ্রণে হয়ে থাকে। পুরুষ গরুর ক্ষেত্রে রং তুলনামূলক গাঢ় ধূসর থেকে সাদাটে ধূসর পর্যন্ত বিভিন্ন শেডের হতে পারে। মুখমণ্ডল, চোখের পাতা, শিং এবং লেজের প্রান্ত সাধারণত কালো রঙের হয়ে থাকে। এদের দেহ বেশ লম্বাটে প্রকৃতির। দেহের দৈর্ঘ সাড়ে পাঁচ ফুট এবং কুঁজ পর্যন্ত উচ্চতা চার ফুট হয়ে থাকে। একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ গরুর ওজন সাধারণত ৩৫০ থেকে ৪০০ কেজি এবং স্ত্রী গরুর ওজন ২৫০ থেকে ২৮০ কেজির মধ্যে হয়ে থাকে।

নর্থ বেঙ্গল গ্রে

উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় নর্থ বেঙ্গল গ্রে জাতের গরু দেখা যায়। এদের গায়ের রং সাধারণত সাদা অথবা গাঢ় ধূসর ও সাদার মাঝামাঝি বিভিন্ন শেডের হয়ে থাকে। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ গরুর ঘাড়ে ছাইরঙা ছোপ দেখা যায়। মুখমণ্ডল, চোখের পাতা ও খুর সাধারণত কালো রঙের হলেও লেজের প্রান্ত সাদা হয়ে থাকে। এ জাতের গরুর শিং ছোট থেকে মাঝারি আকারের হয় এবং শিং ভেতরের দিকে বাঁকানো থাকে। একটি পূর্ণবয়স্ক গরুর উচ্চতা সাধারণত তিন ফুটের কিছু বেশি এবং দেহের দৈর্ঘ সাড়ে তিন ফুটের কাছাকাছি হয়ে থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ গরুর ওজন সাধারণত ৩০০ থেকে ৩৫০ কেজি এবং স্ত্রী গরুর ওজন ২০০ থেকে ২৫০ কেজির মধ্যে হয়ে থাকে।

মুন্সীগঞ্জ ক্যাটল বা মীরকাদিমের গরু

মুন্সীগঞ্জ ক্যাটল প্রধানত মুন্সীগঞ্জ জেলার মীরকাদিম উপজেলায় পাওয়া যায়। এ জাতের গরু সাধারণত ‘মীরকাদিমের গরু’ নামে পরিচিত। মুন্সীগঞ্জ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায়ও এ গরুর দেখা মেলে। মীরকাদিম জাতের গরুর গায়ের রং মূলত সাদা। তবে দেহের বিভিন্ন স্থানে হালকা গোলাপি আভা লক্ষ্য করা যায়। শিং, চোখের পাতা, খুর এবং লেজের প্রান্ত গোলাপি অথবা গোলাপি ও কালো রঙের মিশ্রণে হয়ে থাকে। একটি পূর্ণবয়স্ক গরুর উচ্চতা সাধারণত ৩ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ গরুর ওজন ২৫০ থেকে ৩৫০ কেজি এবং স্ত্রী গরুর ওজন ২০০ থেকে ২৮০ কেজির মধ্যে হয়ে থাকে।

এসব বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে যে কোনো ক্রেতা কোরবানির হাটে সহজেই দেশি জাতের গরু শনাক্ত করতে পারবেন। সম্ভব হলে হাটে যাওয়ার সময় একজন পশুচিকিৎসক কিংবা অভিজ্ঞ পশুপালনকারীকে সঙ্গে নিতে পারেন।

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow