কোস্টারিকা-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন
বাংলাদেশ ও কোস্টারিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট রোদ্রিগো চাভেস রব্লেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। এসময় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সান হোসের ন্যাশনাল থিয়েটার হলে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় কোস্টারিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রদূত। কোস্টারিকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর সাম্প্রতিক সফর ও ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সাক্ষাৎকালে তিনি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। প্রেসিডেন্ট চাভেস বিশ্বব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকায় তার সফরের কথা স্মরণ করেন এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্ম
বাংলাদেশ ও কোস্টারিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট রোদ্রিগো চাভেস রব্লেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। এসময় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সান হোসের ন্যাশনাল থিয়েটার হলে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় কোস্টারিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রদূত।
কোস্টারিকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর সাম্প্রতিক সফর ও ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে তিনি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
প্রেসিডেন্ট চাভেস বিশ্বব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকায় তার সফরের কথা স্মরণ করেন এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমর্থন প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত মুশফিক প্রেসিডেন্টের আন্তরিক অভ্যর্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী কোস্টারিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মেরি মুনিভে আংগারমুলারের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। কোস্টারিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তাকে গার্ড অব অনারসহ রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। এ সময় বাংলাদেশ ও কোস্টারিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
পরিচয়পত্র পেশের পর ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত দুদেশের মধ্যে ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা যোগাযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও ওষুধ শিল্পে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জলবায়ু অভিযোজন খাতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রস্তাব দেন এবং কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মেরি মুনিভে আংগারমুলার বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে কোস্টারিকার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং নির্বাচনকালীন ভ্রান্ত তথ্য মোকাবিলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
একই দিনে রাষ্ট্রদূত মুশফিক কোস্টারিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরনোল্ডো আন্দ্রে টিনোকোর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ থেকে আমদানি বৃদ্ধি এবং কোস্টারিকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশি জনশক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় রাষ্ট্রদূত ২০৩১-৩২ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতায় কোস্টারিকার সমর্থন কামনা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সফরকালে রাষ্ট্রদূত সান হোসেতে অবস্থিত মেডিগ্রেই নামের একটি ওষুধ উৎপাদন, বিপণন ও বিতরণ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিকমানের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি সান হোসেতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন।
What's Your Reaction?