ক্যাম্পাসে গাছ কাটার জায়গাকে ‘ক্রাইম সিন’ ঘোষণা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এলোপাতাড়িভাবে গাছ কাটার স্থান ও কাটা গাছের গুঁড়ি ঘিরে লাল ফিতা টানিয়ে ‘ক্রাইম সিন’ লিখে এলাকা ঘিরে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে গাছ কাটার প্রতিবাদের তৃতীয় দিনে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। তারা গাছ কাটার ঘটনাকে ‘গাছ হত্যা’ এবং ঘটনাস্থলকে ‘অপরাধস্থল’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতীকীভাবে এলাকা ঘিরে রাখেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা একটি সংবাদ সম্মেলনও করেন। সেখানে গাছ কাটার আগে ও পরে সংঘটিত অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতসহ দুই দফা দাবি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী খোকন ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাস বন্ধের দিন মসজিদ প্রাঙ্গণে ঠিকাদারকে দিয়ে যেভাবে গাছ কাটা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং অপরাধমূলক কার্যক্রম। এ ঘটনার যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে কোনো ধরনের আলামত যেন কেউ অপসারণ করতে না পারে এজন্য লাল ফিতা দিয়ে ‘ক্রাইম সিন’ হিসেবে ঘিরে রাখা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অপরাধকে ঢাকতে একের পর এক যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তা সব ম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এলোপাতাড়িভাবে গাছ কাটার স্থান ও কাটা গাছের গুঁড়ি ঘিরে লাল ফিতা টানিয়ে ‘ক্রাইম সিন’ লিখে এলাকা ঘিরে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে গাছ কাটার প্রতিবাদের তৃতীয় দিনে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। তারা গাছ কাটার ঘটনাকে ‘গাছ হত্যা’ এবং ঘটনাস্থলকে ‘অপরাধস্থল’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতীকীভাবে এলাকা ঘিরে রাখেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা একটি সংবাদ সম্মেলনও করেন। সেখানে গাছ কাটার আগে ও পরে সংঘটিত অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতসহ দুই দফা দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী খোকন ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাস বন্ধের দিন মসজিদ প্রাঙ্গণে ঠিকাদারকে দিয়ে যেভাবে গাছ কাটা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং অপরাধমূলক কার্যক্রম। এ ঘটনার যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে কোনো ধরনের আলামত যেন কেউ অপসারণ করতে না পারে এজন্য লাল ফিতা দিয়ে ‘ক্রাইম সিন’ হিসেবে ঘিরে রাখা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অপরাধকে ঢাকতে একের পর এক যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তা সব মিথ্যা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন বিবৃতি আসলে আমরা তাদের প্রতি আস্থা হারাই। এ ঘটনার জবাব দিতে না পারলে এই প্রশাসনের ওপর আমরা আস্থা রাখতে পারব না।
পরে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ভয়েসের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাকিব সরকার। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দুই দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি জোরদার করার কথা ঘোষণা করেছেন, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিধি-নিয়ম উপেক্ষা করে প্রহসনমূলকভাবে নির্বিচারে গাছ কর্তনকে আমরা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, পরিবেশবিরোধী এবং দায়িত্বহীন সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করি। বৃক্ষ সংরক্ষণ ও কর্তন সংক্রান্ত বিধিমালা এর ধারা ৯ এর (১) নিয়ম মেনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গাছ কর্তন করেনি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিধি-বিধান অনুসরণ না করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে না জানিয়ে নির্বিচারে ও প্রহসনমূলকভাবে গাছ কাটা হয়েছে।
তাদের দাবি, গাছ কাটার ক্ষেত্রে টেন্ডার বা নিলাম প্রক্রিয়াও নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়নি। টেন্ডার ও নিলাম প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের অসংগতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কোনো ব্যক্তি টেন্ডার বা নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারেন না। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারী মোখলেশকে গাছ কাটার কাজ টেন্ডার/নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্টতই নিয়মবহির্ভূত।
এ ছাড়া গাছ কাটার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মসজিদ কমিটির ইমামের নাম ব্যবহার করে একটি মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি অসম্মানজনক এবং নিন্দনীয়।
এ সময় দুই দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- গাছ কাটার আগে ও পরে সংঘটিত অনিয়ম ও প্রহসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ-মসজিদ কমিটি, ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন, স্টেট দপ্তর, জনসংযোগ ও বহিরাঙ্গন দপ্তরসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নিয়ে একটি উন্মুক্ত সাধারণ বৈঠক আয়োজন করতে হবে। উক্ত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে সব পক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও দায়িত্বের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে তাকে সংশ্লিষ্ট পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের প্রাঙ্গণের গাছ কর্তনের জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে গত বুধবার সকাল থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের আম, মেহগনিসহ অন্যান্য প্রজাতির গাছ এলোপাতাড়িভাবে কাটা শুরু করেন ঠিকাদারের নিয়োজিত কর্মচারীরা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে এসে প্রতিবাদ করেন। এ সময় গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়ে সেখানে অবস্থান নেন সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনা নিয়ে তিনদিন থেকে টানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।
What's Your Reaction?