ক্যাম্পাসেই গড়ে ওঠা স্বপ্ন থেকে স্বনির্ভরতার গল্প
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এখন আর কেবল সনদ অর্জনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, এটি হয়ে উঠেছে তরুণদের স্বপ্ন নির্মাণের এক উর্বর ক্ষেত্র। এখানে প্রতিনিয়ত চলমান সৃজনশীলতা ও আত্মনির্ভরশীলতার নীরব কর্মতৎপরতা। পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকছেন নানা ক্ষুদ্র ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে। এসব উদ্যোগ শুধু তাদের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহে সহায়তা করছে না, বরং গড়ে তুলছে আত্মবিশ্বাসী ও দূরদর্শী উদ্যোক্তা মানসিকতা। বিশেষত, প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে অনেকেই এখন অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের পণ্য ও সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন দূর-দূরান্তে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের দুই শিক্ষার্থী উদ্যোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ও স্থাপনার ছবি ব্যবহার করে ‘শৈলী ছোঁয়া’র মতো একটি ব্র্যান্ড তৈরি করেছেন। যেখানে পাওয়া যায় নজরকাড়া টি-শার্ট, টোট ব্যাগ, হুডি, ঘড়ি, ছাতা ও মানিব্যাগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী পাইকারি দামে বালিশ-তোষক কিনে এনে বিক্রি করে আবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করছেন। এই বৈচিত্র্যময় উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে, তারুণ্য এখন আর শুধু চাকরির
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এখন আর কেবল সনদ অর্জনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, এটি হয়ে উঠেছে তরুণদের স্বপ্ন নির্মাণের এক উর্বর ক্ষেত্র। এখানে প্রতিনিয়ত চলমান সৃজনশীলতা ও আত্মনির্ভরশীলতার নীরব কর্মতৎপরতা। পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকছেন নানা ক্ষুদ্র ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে।
এসব উদ্যোগ শুধু তাদের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহে সহায়তা করছে না, বরং গড়ে তুলছে আত্মবিশ্বাসী ও দূরদর্শী উদ্যোক্তা মানসিকতা।
বিশেষত, প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে অনেকেই এখন অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের পণ্য ও সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন দূর-দূরান্তে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের দুই শিক্ষার্থী উদ্যোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ও স্থাপনার ছবি ব্যবহার করে ‘শৈলী ছোঁয়া’র মতো একটি ব্র্যান্ড তৈরি করেছেন। যেখানে পাওয়া যায় নজরকাড়া টি-শার্ট, টোট ব্যাগ, হুডি, ঘড়ি, ছাতা ও মানিব্যাগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী পাইকারি দামে বালিশ-তোষক কিনে এনে বিক্রি করে আবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করছেন। এই বৈচিত্র্যময় উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে, তারুণ্য এখন আর শুধু চাকরির মুখাপেক্ষী নয়, তারা নিজের ভাগ্য নিজেরাই গড়ার সাহস রাখে।
অন্যদিকে, কিছু খাবারের দোকান শিক্ষার্থীদের আড্ডার প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মুরসালিন রহমান শিখর গড়ে তুলেছেন ‘সিঙ্গাড়া হাউস’ নামে একটি দোকান, যেখানে চা, কফি, লেমনেড ও জুসের বিক্রি লেগেই থাকে।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোমিনের ‘টিএসসি ফ্লেভার হাব’ এ মেলে রং চা, চিকেন বড়া, হালিম ও ছোলা, যা ক্লাসের বিরতিতে ক্লান্তি দূর করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন তরুণ শিক্ষার্থীর হাত ধরে প্রথম গেটে অবস্থিত ‘ফ্রাইডে গেজেট’ শিক্ষার্থীদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সব ধরনের গ্যাজেটের চাহিদা মেটায়, যা পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনের জন্য অপরিহার্য।
এর বিপরীত পাশে অন্য দুই শিক্ষার্থী ছোট পরিসরে স্থাপন করেছেন ‘ভার্সিটি স্পোর্টস’ নামে একটি নতুন দোকান, যা খেলাধুলা প্রেমীদের জন্য নিয়ে আসে জার্সি, গেঞ্জি, ট্রফি, মেডেলসহ খেলার বিভিন্ন সরঞ্জাম।
এদিকে, অনলাইনে খাবারের অর্ডার নিয়ে ‘সুস্বাদু কিচেন’ এর বিরিয়ানি, মোরগ পোলাও, খিচুড়ির মতো নিয়মিত মিল সার্ভিস এবং ‘স্বর্ণি কিচেন’ এ বিরিয়ানি, পোলাও ছাড়াও নানা নাশতা আইটেম পাওয়া যায়, যা ক্যাম্পাসের ডাইনিং ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এ ছাড়াও, কিছু শিক্ষার্থী হোমমেড কেক তৈরি করে অনলাইন পেজের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছেন। অনেকে রিসেল পদ্ধতিতে বিভিন্ন পাইকার ও ডিলার থেকে পণ্য নিয়ে বিক্রি করছেন। এই ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো শুধু শিক্ষার্থীদের আয়ের উৎস নয়, বরং ক্যাম্পাসের সামগ্রিক জীবনযাত্রাকে আরও গতিময় ও সহজ করেছে।
‘ভার্সিটি স্পোর্টস’ এর প্রতিষ্ঠাতা জিকরুল হাসান নিশাত বলেন, ভার্সিটির পড়াশোনার পাশাপাশি শখের বশে আমি শুরু করেছি ‘ভার্সিটি স্পোর্টস অ্যান্ড এক্সপোর্ট ক্লথিং’। খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা ও উদ্যোক্তা মানসিকতা আমাকে ভার্সিটির ক্রীড়াপ্রেমী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে, যা আমার ব্যবসায়ও বড় সহায়ক ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে মাঠ সংস্কারের কারণে সাড়া কিছুটা কমে গেলেও আমি আশাবাদী, ভবিষ্যতে আগের মতোই সবার ভালোবাসা ও সমর্থন পাব।
‘শৈলী ছোঁয়া’র প্রতিষ্ঠাতা রাকিবুল হাসান জানান, আমার ব্যবসার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল স্বনির্ভর হওয়া। এই ভাবনা থেকেই উদ্যোগ শুরু। আমাদের ব্র্যান্ডের নাম ‘শিল্পের বুনন’, যা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। বর্তমানে আমরা কাস্টমাইজড টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট, ঘড়ি, ছাতা সহ নানা পণ্য বিক্রি করি। ভবিষ্যতে আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে আউটলেট স্থাপন করা। আমার পরামর্শ হলো, ছাত্র অবস্থায় অযথা সময় নষ্ট না করে নিজেকে তৈরি করুন এবং কিছু একটা করার চেষ্টা করুন।
শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প এক নতুন সমাজের প্রতিচ্ছবি। তারা কঠোর অধ্যবসায়ের সঙ্গে নিজেদের শিক্ষাজীবন ও ব্যবসা, উভয়কেই সমানভাবে সামলে নিচ্ছে। প্রতিটি ছোট দোকান, প্রতিটি অনলাইন অর্ডার এবং প্রতিটি সফল লেনদেন তাদের শেখাচ্ছে ঝুঁকি গ্রহণ, সময় ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহক সন্তুষ্টির গুরুত্ব।
তাদের এই কর্মস্পৃহা প্রমাণ করে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ সমাজ কেবল ডিগ্রি অর্জনের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং তারা ব্যবহারিক জ্ঞান, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের এক চমৎকার সমন্বয় ঘটাচ্ছে। এই আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী তারুণ্যই ভবিষ্যতের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাদের হাত ধরেই বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও ব্যবহারিক উদ্যোগ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
What's Your Reaction?