ক্রিকেটার নাঈম হাসানের মানসিক অবস্থার অবনতি
চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ঘিরে আলোচনা এখনো থামেনি। ঘটনার পর তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের ক্রীড়াঙ্গন, সমর্থক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ খেলা, মাঠে ফেরা এবং মানসিক অবস্থাও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
রোববার (১৪ জুন) নাঈম হাসানের বাসভবনে আগের দিনের তুলনায় মানুষের আনাগোনা কিছুটা কম দেখা গেছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত দুই দিনে নানা শ্রেণিপেশার মানুষের ভিড়, মোবাইলকল এবং ঘটনার আলোচনা তাকে আরও চাপে ফেলেছে। বর্তমানে তিনি কিছুটা নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে চান।
নাঈমের বাবা মাহবুব আলম বলেন, সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত নাঈম এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনো হয়নি। হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনাটি তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির আলম বলেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে পরিবারও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তারা চাইছেন নাঈম দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক এবং চলমান আলোচনা ও চাপ থেকে কিছুটা দূরে থাকতে পারুক। শনিবার
চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ঘিরে আলোচনা এখনো থামেনি। ঘটনার পর তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের ক্রীড়াঙ্গন, সমর্থক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ খেলা, মাঠে ফেরা এবং মানসিক অবস্থাও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
রোববার (১৪ জুন) নাঈম হাসানের বাসভবনে আগের দিনের তুলনায় মানুষের আনাগোনা কিছুটা কম দেখা গেছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত দুই দিনে নানা শ্রেণিপেশার মানুষের ভিড়, মোবাইলকল এবং ঘটনার আলোচনা তাকে আরও চাপে ফেলেছে। বর্তমানে তিনি কিছুটা নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে চান।
নাঈমের বাবা মাহবুব আলম বলেন, সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত নাঈম এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনো হয়নি। হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনাটি তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির আলম বলেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে পরিবারও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তারা চাইছেন নাঈম দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক এবং চলমান আলোচনা ও চাপ থেকে কিছুটা দূরে থাকতে পারুক। শনিবার সকাল থেকেই তার বাসভবনে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের ক্রিকেটার, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়া সংগঠক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের যাতায়াত ছিল।
ঘটনার বিষয়ে শনিবার নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় দলের এই অফস্পিনার। তিনি অভিযোগ করেন, সিএনজিচালিত অটোরিক্সা থেকে নামার পর তাকে আবার গাড়িতে উঠতে বলা হয় এবং এরপর তার সঙ্গে অপ্রত্যাশিত আচরণ করা হয়। তিনি দাবি করেন, পুরো ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। থানায় নেওয়ার পর তার মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হলেও শুরুতে তার সঙ্গে কঠোর আচরণ করা হয়েছিল। ব্যাগ ও ব্যক্তিগত সামগ্রী তল্লাশি করে কোনো ধরনের সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
নাঈম হাসান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশি করা হলে তিনি সহযোগিতা করতেন। ভবিষ্যতে যেন কোনো সাধারণ মানুষ এমন ঘটনার শিকার না হন, সে জন্য তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা চান।
ঘটনার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নাঈম হাসানের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা মূল্যায়নে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম চট্টগ্রামে পাঠিয়েছে। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, একজন চিকিৎসক ও একজন ফিজিও নিয়ে গঠিত দল তার সম্ভাব্য শারীরিক আঘাত, মানসিক চাপ এবং খেলায় ফেরার সক্ষমতার ওপর ঘটনার প্রভাব মূল্যায়ন করছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিসিবি সভাপতির কাছে এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একজন ক্রিকেটারের জন্য মানসিক স্থিতি ও শারীরিক সক্ষমতা সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এমন ঘটনার প্রভাব তার প্রস্তুতি, পারফরম্যান্স এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের ওপরও পড়তে পারে।
এদিকে ঘটনার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে খুলশী থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির আলম খুলশী থানায় দায়ের করা মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও সোর্স সোহেলকে আসামি করেছেন। মামলায় মারধর ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, কারও অপেশাদার আচরণের দায় পুরো পুলিশ বাহিনী নেবে না। ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ও প্রশাসনিকভাবে পরবর্তী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।