ক্রিপ্টো থেকে ট্রাম্পের এক বছরে আয় শত কোটি ডলার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর শুধু ক্রিপ্টোকারেন্সি-সম্পর্কিত ব্যবসা থেকেই ১০০ কোটির (১ বিলিয়ন) ডলারের বেশি আয় করেছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত তার আর্থিক সম্পদ ও আয়ের ঘোষণাপত্রে (ফিন্যান্সিয়াল ডিসক্লোজার) এমন তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিকতা বিষয়ক সরকারি দপ্তর ৯২৭ পৃষ্ঠার এ নথি প্রকাশ করেছে। এতে তার মিম কয়েন, পরিবারের সমর্থিত ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য ব্যবসা থেকে বিপুল আয়ের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের তিন দিন আগে চালু করা ‘$TRUMP’ মিম কয়েনের ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের রয়্যালটি বাবদ ট্রাম্প ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছেন। মিম কয়েন সাধারণত প্রচলিত অর্থে লেনদেনের জন্য নয়; বরং স্মারক বা ইন্টারনেটনির্ভর ডিজিটাল সম্পদ হিসেবে পরিচিত। চালুর পর একদিনের মধ্যেই টোকেনটির দাম সর্বোচ্চ ৭৪ দশমিক ২৪ ডলারে উঠলেও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এর মূল্য নেমে আসে ১ দশমিক ৬৭ ডলারে। আর্থিক নথিতে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও তার পরিবারের সমর্থিত ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল’-এর টোকেন বিক্রি থেকে তিনি ৫০ কোটির
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর শুধু ক্রিপ্টোকারেন্সি-সম্পর্কিত ব্যবসা থেকেই ১০০ কোটির (১ বিলিয়ন) ডলারের বেশি আয় করেছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত তার আর্থিক সম্পদ ও আয়ের ঘোষণাপত্রে (ফিন্যান্সিয়াল ডিসক্লোজার) এমন তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিকতা বিষয়ক সরকারি দপ্তর ৯২৭ পৃষ্ঠার এ নথি প্রকাশ করেছে। এতে তার মিম কয়েন, পরিবারের সমর্থিত ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য ব্যবসা থেকে বিপুল আয়ের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের তিন দিন আগে চালু করা ‘$TRUMP’ মিম কয়েনের ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের রয়্যালটি বাবদ ট্রাম্প ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছেন। মিম কয়েন সাধারণত প্রচলিত অর্থে লেনদেনের জন্য নয়; বরং স্মারক বা ইন্টারনেটনির্ভর ডিজিটাল সম্পদ হিসেবে পরিচিত। চালুর পর একদিনের মধ্যেই টোকেনটির দাম সর্বোচ্চ ৭৪ দশমিক ২৪ ডলারে উঠলেও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এর মূল্য নেমে আসে ১ দশমিক ৬৭ ডলারে।
আর্থিক নথিতে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও তার পরিবারের সমর্থিত ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল’-এর টোকেন বিক্রি থেকে তিনি ৫০ কোটির বেশি ডলার আয় করেছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণকারী কোম্পানির শেয়ার বিক্রি থেকে প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং ‘স্টেবলকয়েন হোল্ডকো লিমিটেড কোম্পানি’র শেয়ার বিক্রি থেকে আরও ১৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় হয়েছে।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল’। এর সহপ্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্প, তার ছেলে এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ছেলে জ্যাক ও অ্যালেক্স উইটকফ।
প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম পণ্য ‘USD1’ নামে একটি স্টেবলকয়েন, যার মূল্য প্রতি কয়েনে ১ মার্কিন ডলারের সঙ্গে স্থির রাখা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ‘$WLF’ টোকেনও বাজারজাত করে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসব টোকেন বিক্রির নিট আয়ের ৭৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানটির কাছে যায়।
গত বছর প্রতিষ্ঠানটি আলোচনায় আসে, যখন আবুধাবি সরকারের মালিকানাধীন একটি সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ‘USD1’ স্টেবলকয়েন ব্যবহার করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে বহুবিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করে। পরে বাইন্যান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাও আর্থিক অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পর ট্রাম্পের কাছ থেকে ক্ষমা পান। তবে এই ক্ষমা ও ক্রিপ্টো লেনদেনের মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘আমি জানিই না তিনি কে।’
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে কোনো স্বার্থের সংঘাত নেই। তার মতে, ডেমোক্র্যাটরা দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভিযোগ তুলে এলেও ট্রাম্প সব সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বার্থে কাজ করেছেন।
প্রকাশিত নথি বলছে, ট্রাম্পের ক্রিপ্টো-সম্পর্কিত আয় তার দীর্ঘদিনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসার আয়কেও ছাড়িয়ে গেছে। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে তিনি প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং ডোরাল গলফ ক্লাব থেকে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছেন। এছাড়া ফ্লোরিডার জুপিটার, নিউ জার্সির বেডমিনস্টার এবং স্কটল্যান্ডের টার্নবেরি গলফ ক্লাব থেকেও প্রতিটি ক্ষেত্রে ৩ কোটির বেশি ডলার আয় হয়েছে।
নথিতে ট্রাম্পের নাম ব্যবহার করে পরিচালিত বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকেও আয়ের তথ্য রয়েছে। ‘ট্রাম্প ওয়াচেস’ থেকে তিনি ৪৭ লাখ ডলার রয়্যালটি পেয়েছেন। এছাড়া ট্রাম্প ব্র্যান্ডের স্নিকার, সুগন্ধি ও গিটার বিক্রি থেকেও আয় হয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক ‘ট্রাম্প রেস্টুরেন্টস লিমিটেড কোম্পানি’ খাদ্য ও পানীয় বিক্রি করে প্রায় ২৯ লাখ ডলার আয় করেছে।
ট্রাম্পের বই থেকেও উল্লেখযোগ্য রয়্যালটি এসেছে। এর মধ্যে ‘সেইভ আমেরিকা’ বই থেকে প্রায় ১৯ লাখ ডলার আয় হয়েছে। এছাড়া ‘দ্য আর্ট অব দ্য ডিল’, ‘লেটারস টু ট্রাম্প’, ‘অ্যা এমএজিএ জার্নি’ এবং সংগীতশিল্পী লি গ্রিনউডের সঙ্গে প্রকাশিত বাইবেলের বিশেষ সংস্করণ থেকেও তিনি রয়্যালটি পেয়েছেন।
প্রকাশনায় ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, ‘মেলানিয়া’ শিরোনামের চলচ্চিত্র-সংক্রান্ত চুক্তি থেকে তিনি ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি নিট আয় করেছেন। এছাড়া এনএফটি ও অন্যান্য সংগ্রহযোগ্য সামগ্রী বিক্রি থেকে প্রায় ৬০ লাখ ডলার এবং আত্মজীবনী থেকেও অতিরিক্ত আয় হয়েছে।
ট্রাম্প প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের করা কয়েকটি মামলার সমঝোতার অর্থও প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে এবিসির কাছ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার, সিবিএস ব্রডকাস্টিং ও সিবিএস ইন্টারেকটিভের কাছ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার, মেটার কাছ থেকে ২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, ইউটিউবের কাছ থেকে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং এক্সের কাছ থেকে ৮০ লাখ ডলার পাওয়ার তথ্য রয়েছে। তবে এসব অর্থের বড় অংশ ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি ও ‘ট্রাস্ট ফর দ্য ন্যাশনাল মল’-এ দেওয়া হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্প তা গ্রহণ করেননি।
এদিকে আর্থিক ঘোষণাপত্রে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতের রায়জনিত দায়ও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের দায়ের করা দেওয়ানি জালিয়াতি মামলার আর্থিক জরিমানা এবং লেখিকা ই. জিন ক্যারলের করা যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় ক্ষতিপূরণের রায় রয়েছে। ট্রাম্প এসব অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছেন।
তবে গত বছর আপিল আদালতের একটি বেঞ্চ দেওয়ানি জালিয়াতি মামলায় তার প্রায় ৫২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জরিমানা ও সুদ পরিশোধের আদেশকে অতিরিক্ত বলে উল্লেখ করে সেই আর্থিক দণ্ড বাতিল করে। যদিও মামলায় আর্থিক দণ্ড ছাড়াও অন্যান্য শাস্তি বহাল রাখা হয়। অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ই. জিন ক্যারলের মামলার জুরি রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের করা আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এদিকে এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের প্রধান উপ-প্রেস সচিব আনা কেলি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বা তার পরিবারের সদস্যরা কখনোই স্বার্থের সংঘাতে জড়াননি, ভবিষ্যতেও জড়াবেন না। ট্রাম্প গর্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানীতে রূপান্তর করেছেন।’
What's Your Reaction?