খাগড়াছড়িতে ভাউচার বিহীন ১৬০০ টাকায় সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি
খাগড়াছড়ি জেলার বাজারগুলোতে গত সপ্তাহ থেকেই এলপিজি (লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের সংকট তীব্র হচ্ছে। সরকার প্রতিটি ১২-কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য পূর্বনির্ধারণ করলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেই মূল্য মানছেন না এবং অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগ নিয়ে অনিয়মিতভাবে অতি মূল্য বসাচ্ছেন, ফলে ভোক্তারা বাস্তবে অনেক বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ডিলাররা ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার ১৪০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে বলে ভাউচার দেখালেও বাস্তবে এর আড়ালে রয়েছে ভয়াবহ প্রতারণা।অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি পানছড়ি, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গাসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিটি সিলিন্ডার ১৬০০ টাকা করে ফ্রেশ কোম্পানির গ্যাস বিক্রি করেছেন মেসার্স রত্না ট্রেডার্স এর সুমন দে। তবে গ্যাস বিক্রির প্রধান শর্ত হচ্ছে ভাউচার ছাড়া গ্যাস নিতে হবে। যার দরুন বাধ্য হয়েই বিভিন্ন উপজেলার রিটেইলাররা অতিরিক্ত মূল্যে গ্যাস ক্রয় করছেন। ফলে উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ে গ্যাসের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সেখানে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের মূল্য ১৭০০-১৮০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।এর আগে দীঘিনালায় ১৬০০ টাকা করে গ্যাস বিক্রি করতে গ
খাগড়াছড়ি জেলার বাজারগুলোতে গত সপ্তাহ থেকেই এলপিজি (লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের সংকট তীব্র হচ্ছে। সরকার প্রতিটি ১২-কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য পূর্বনির্ধারণ করলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেই মূল্য মানছেন না এবং অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগ নিয়ে অনিয়মিতভাবে অতি মূল্য বসাচ্ছেন, ফলে ভোক্তারা বাস্তবে অনেক বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ডিলাররা ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার ১৪০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে বলে ভাউচার দেখালেও বাস্তবে এর আড়ালে রয়েছে ভয়াবহ প্রতারণা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি পানছড়ি, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গাসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিটি সিলিন্ডার ১৬০০ টাকা করে ফ্রেশ কোম্পানির গ্যাস বিক্রি করেছেন মেসার্স রত্না ট্রেডার্স এর সুমন দে। তবে গ্যাস বিক্রির প্রধান শর্ত হচ্ছে ভাউচার ছাড়া গ্যাস নিতে হবে। যার দরুন বাধ্য হয়েই বিভিন্ন উপজেলার রিটেইলাররা অতিরিক্ত মূল্যে গ্যাস ক্রয় করছেন। ফলে উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ে গ্যাসের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সেখানে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের মূল্য ১৭০০-১৮০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
এর আগে দীঘিনালায় ১৬০০ টাকা করে গ্যাস বিক্রি করতে গাড়ি পাঠিয়েছিল ফ্রেশ কোম্পানির সুমন দে। তখন দীঘিনালায় ১৪০০ টাকা করে ওমেরা গ্যাস বিক্রি হচ্ছিল। পরে অতিরিক্ত মূল্য বলায় ব্যবসায়ীদের তাড়া খেয়ে দীঘিনালা থেকে পালিয়ে আসে ফ্রেশ কোম্পানির গাড়ি।
দীঘিনালার গ্যাস ব্যবসায়ী ছৈয়দ আলম কুসুম বলেন, "গ্যাস সংকটের সুযোগ নিয়ে ১৬০০ টাকা করে ফ্রেশ কোম্পানি ডিলার রত্না ট্রেডার্স এর সুমন দে গাড়ি পাঠিয়েছিল। অথচ তখন আমরা ১৪০০-১৪২০ টাকায় ওমেরা গ্যাস বিক্রি করছিলাম। পরে ফ্রেশ গ্যাসের গাড়ি দীঘিনালা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।"
পানছড়ির পাপড়ী এন্টারপ্রাইজের মালিক সত্যজিৎ বলেন, "আমি খাগড়াছড়ি রত্না ট্রেডার্স থেকে ৪৬ পিস ফ্রেশ কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছি। তবে তারা কোনো ভাউচার দেয়নি। ভাউচার চাইলে বলছে গ্যাস দেবে না। ফলে বাধ্য হয়ে আমাদের বেশি মূল্যে গ্যাস ক্রয় করতে হয়। আমরা কম মূল্যে গ্যাস পেলে কম মূল্যে বিক্রি করতে পারতাম।"
ফ্রেশ গ্যাসের ডিলার মেসার্স রত্না ট্রেডার্স এর সুমন দে বলেন, "আমরা পাইকারি এবং খুচরা ১৪৫০ টাকা করে গ্যাস বিক্রি করি।" ভাউচার ছাড়া ১৬০০ টাকা করে গ্যাস বিক্রির কথা বললে তিনি ইনিয়েবিনিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
তবে ভিন্ন কথা বলছেন খাগড়াছড়ি টোটাল গ্যাসের ডিলার এসডি ট্রেডার্সের জিকু দে। তিনি বলেন, "আমরা ১৪০০ টাকা করে গ্যাস বিক্রি করি। এর চেয়ে বেশি মূল্যে আমরা গ্যাস বিক্রি করি না। যতক্ষণ আমার দোকানে গ্যাস আসবে ততক্ষণ গ্যাস বিক্রি করব। যারা স্টক করে এবং বেশি মূল্যে গ্যাস বিক্রি করে তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।"
বসুন্ধরার ডিলার জননী ট্রেডার্স এর মালিক শংকর নাথ বলেন, "গত মাস থেকেই বসুন্ধরা গ্যাস দিচ্ছে না কোম্পানি। সব বোতল খালি পড়ে আছে। এছাড়াও ওমেরা, আইগ্যাস সহ অন্যান্য গ্যাস আমরা ১৪০০ টাকা করে বিক্রি করছি।"
এদিকে জেলা প্রশাসনের ঝটিকা অভিযানকে লোকদেখানো অভিযান বলছেন ভোক্তারা। ভোক্তা আনিসুর রহমান বলেন, প্রশাসনের এ অভিযানে সামান্য জরিমানা করে ডিলারদের নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। তাদের জরিমানা করার পাশাপাশি আইনের মাধ্যমে তাদের শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।
তবে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অব কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ (সিআরবি) এই পরিস্থিতিকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছে এবং দাবি করছে যে, সরকারের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি হয়ে বাজারকে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে। বাজারে একটি সংগঠিত সিন্ডিকেট গঠিত হয়েছে, যারা সরকারের নির্ধারিত মূল্য অমান্য করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এই সিন্ডিকেটটি তাদের কথায় “দর বৃদ্ধি ও মুনাফা বৃদ্ধির রাজনীতিতে” লিপ্ত।
খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তফা জাবেদ কায়সার বলেন, "মোবাইল কোর্ট করে আমরা ব্যবসায়ীদের বার বার সতর্ক করেছি। অতিরিক্ত মূল্য রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানাও করা হয়েছে। এসব অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
What's Your Reaction?