খাগড়াছড়িতে তৈমাতাই ও পিলাক খাল খননে কাটবে নাব্য সংকট
পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তৈমাতাই ও পিলাক খাল পুনঃখননের উদ্যোগে নতুন আশার আলো দেখছেন স্থানীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। দীর্ঘ কয়েক দশকের নাব্যতা সংকট, জলাবদ্ধতা ও সেচ সমস্যা কাটিয়ে নতুন করে সম্ভাবনার স্বপ্ন বুনছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের অবহেলা, খনন ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গুইমারার ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ তৈমাতাই খাল এবং ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পিলাক খাল মৃতপ্রায় জলাশয়ে পরিণত হয়েছিল। নাব্য সংকটের কারণে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছিল, অন্যদিকে কমছিল কৃষি উৎপাদন; যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল পরিবেশের ভারসাম্যের ওপর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই খাল দুটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি সেচ সুবিধা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মৃতপ্রায় তৈমাতাই ও পিলাক খাল পুনঃখননের ফলে খালের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে। এতে উজান থেকে নেমে আসা বর্ষার পানি সহজে নিষ্কাশন হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা নির্বিঘ্ন
পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তৈমাতাই ও পিলাক খাল পুনঃখননের উদ্যোগে নতুন আশার আলো দেখছেন স্থানীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। দীর্ঘ কয়েক দশকের নাব্যতা সংকট, জলাবদ্ধতা ও সেচ সমস্যা কাটিয়ে নতুন করে সম্ভাবনার স্বপ্ন বুনছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের অবহেলা, খনন ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গুইমারার ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ তৈমাতাই খাল এবং ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পিলাক খাল মৃতপ্রায় জলাশয়ে পরিণত হয়েছিল। নাব্য সংকটের কারণে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছিল, অন্যদিকে কমছিল কৃষি উৎপাদন; যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল পরিবেশের ভারসাম্যের ওপর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই খাল দুটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি সেচ সুবিধা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মৃতপ্রায় তৈমাতাই ও পিলাক খাল পুনঃখননের ফলে খালের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে। এতে উজান থেকে নেমে আসা বর্ষার পানি সহজে নিষ্কাশন হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা নির্বিঘ্নে সেচের পানি পাবেন। পাশাপাশি এই খাল দুটিকে কেন্দ্র করে জীববৈচিত্র্যও রক্ষা পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় গুইমারার এই খাল খনন কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সরকারের এই জনমুখী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে গুইমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্মল নারায়ণ ত্রিপুরা খাল দুটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই খাল পুনঃখনন স্থানীয় প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
গুইমারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় গুইমারার তৈমাতাই ও পিলাক খাল খননে মোট ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ (৬ কিমি তৈমাতাই ও ৭ কিমি পিলাক) এই খনন কাজের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং স্থানীয় জনগণের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে।
তিনি আরও জানান, ভরাট হয়ে হারিয়ে যেতে বসা এই খাল দুটি খনন শেষে পরিবেশের সুরক্ষায় এর দুই পাড়ে ফলজ, বনজ ও ওষধি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ বনায়ন গড়ে তোলা হবে।
গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিশকাতুল তামান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই মহতী উদ্যোগের অংশ হিসেবে পিলাক ও তৈমাতাই খাল খনন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পেরে আমরা গর্বিত। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্গম জনপদের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার অবসান ঘটবে, নতুন নতুন কৃষি জমি চাষের আওতায় আসবে এবং সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।
ইউএনও আরও জানান, আগামী ২০ মে তৈমাতাই ও পিলাক খাল খনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। ইতোমধ্যে উদ্বোধনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে গুইমারা উপজেলা প্রশাসন।