খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশ-জিসিসি অংশীদারিত্ব : বিএনপির ঐতিহ্য ও উদ্যোগ

আধুনিক যুগে খাদ্য নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। বিশেষ করে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল হুমকির মুখে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ একটি উদীয়মান কৃষি শক্তি হিসেবে এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে অনন্য পরিপূরক সম্পর্ক তৈরি করছে। বাংলাদেশ আজ খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে বিশ্বের প্রধান ধান, মাছ ও সবজি উৎপাদনকারী দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। দেশের মোট পরিবারের প্রায় ৪৬.৬% কৃষি নির্ভর। উর্বর মাটি ও পানিসম্পদের প্রাচুর্য, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারের বিদেশি বিনিয়োগ-উৎসাহমূলক নীতি বাংলাদেশকে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য আদর্শ গন্তব্যে পরিণত করেছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে কৃষি রপ্তানির মূল্য ছিল ৯৮৯ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি ৩৪১.৭৩ মিলিয়ন ডলার। এদিকে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সদ্য রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়া বিএনপি সরকার গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিভিত্তিক বিনিয়োগ ও আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে।

খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশ-জিসিসি অংশীদারিত্ব : বিএনপির ঐতিহ্য ও উদ্যোগ
আধুনিক যুগে খাদ্য নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। বিশেষ করে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল হুমকির মুখে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ একটি উদীয়মান কৃষি শক্তি হিসেবে এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে অনন্য পরিপূরক সম্পর্ক তৈরি করছে। বাংলাদেশ আজ খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে বিশ্বের প্রধান ধান, মাছ ও সবজি উৎপাদনকারী দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। দেশের মোট পরিবারের প্রায় ৪৬.৬% কৃষি নির্ভর। উর্বর মাটি ও পানিসম্পদের প্রাচুর্য, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারের বিদেশি বিনিয়োগ-উৎসাহমূলক নীতি বাংলাদেশকে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য আদর্শ গন্তব্যে পরিণত করেছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে কৃষি রপ্তানির মূল্য ছিল ৯৮৯ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি ৩৪১.৭৩ মিলিয়ন ডলার। এদিকে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সদ্য রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়া বিএনপি সরকার গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিভিত্তিক বিনিয়োগ ও আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইস্তেহারেও তারেক রহমান দেশের কৃষি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দেশের খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও টেকসই করার কথা জানান। খাদ্য নিরাপত্তায় বিএনপির ঐতিহ্য ও উদ্যোগ- জিয়াউর রহমান (১৯৭৭-১৯৮১): খাল খনন, আধুনিক বীজ ও সারের ব্যবহার, গ্রাম সরকার ব্যবস্থা। বেগম খালেদা জিয়া (১৯৯১-১৯৯৬, ২০০১-২০০৬): গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, কাজের বিনিময়ে খাদ্য সহায়তা, কাঠামোগত সংস্কার। তারেক রহমান (চেয়ারম্যান, বিএনপি): ‘কৃষক কার্ড’, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, কৃষিভিত্তিক শিল্পে ১.৩ মিলিয়ন নতুন কর্মসংস্থান। জিসিসি দেশগুলোর ভূমিকা ও যৌথ উদ্যোগ উপসাগরীয় দেশগুলো খাদ্য চাহিদা মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশ থেকে বার্ষিক প্রায় ২০০-৩০০ মিলিয়ন ডলারের খাদ্য ও কৃষি পণ্য আমদানি করে। জিসিসি দেশগুলো চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ, স্মার্ট কৃষি ও সেচ প্রযুক্তি, ড্রিপ ইরিগেশন, নদী ও খাল খনন এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে সরবরাহ স্থিতিশীল করতে চায়। অর্থায়ন ও সমন্বয় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি বিনিময় সম্ভব। এই উদ্যোগ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোকে বিশ্ববাজারের ওঠানামা ও শিপিং জটিলতা থেকে রক্ষা করবে। চ্যালেঞ্জ ও সমাধান লজিস্টিক অবকাঠামো, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থাকলেও বিনিয়োগ সুরক্ষা ও উৎসাহদান চুক্তি এবং যৌথ খাদ্য নিরাপত্তা কাউন্সিলের মাধ্যমে এই বাধাগুলো অতিক্রম করা সম্ভব। লেখক : ডক্টর মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী (বিএনপি চেয়ারম্যানের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা)

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow