খানাখন্দে ভরা মহাসড়ক, দুর্ঘটনা এড়াতে লাল পতাকা
হাইওয়ে পুলিশ দুষছে সড়ক ও জনপদ বিভাগকে সড়ক ও জনপদ বিভাগের দাবি মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করছেন তারা স্থানীয়দের অভিযোগ সড়কের কাজ মানসম্মত না হওয়াই এই দুর্দশা দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই-সীতাকুণ্ড অংশ এখন খানাখন্দে ভরে উঠেছে। চলতি মৌসুমে ভারী বর্ষণে সড়কের পিচ উঠে তৈরি হয়েছে শত শত ছোট-বড় গর্ত। দুর্ঘটনা ঠেকাতে বাড়বকুণ্ড এলাকায় মহাসড়কের মধ্যে স্থানীয়রা গর্তে লাল পতাকা টাঙালেও প্রতিদিনই দুর্ভোগ, যানজট ও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন হাজারো যাত্রী ও চালক। সরজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের মিরসরাই-সীতাকুণ্ড অংশে উভয় লেনে অজস্র ছোট-বড় গর্ত। কিন্তু বাড়বকুণ্ড এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে বড় বড় গর্ত দেখা গেছে। ওই স্থানের শুধু ২০০ গজের মধ্যে ঢাকামুখী লেনে প্রায় অর্ধশত গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কের মধ্যে সৃষ্ট একটি গর্তে স্থানীয়রা লাল নিশান উড়িয়ে দিয়েছে। যাতে বুঝতে সহজ হয় এখানে বড় গর্ত আছে। আরও দেখা যায়, উপজেলার বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের ওজন স্কেল এলাকায় মহাসড়কের পিচ ঢালাই অনেকটা উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্
- হাইওয়ে পুলিশ দুষছে সড়ক ও জনপদ বিভাগকে
- সড়ক ও জনপদ বিভাগের দাবি মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করছেন তারা
- স্থানীয়দের অভিযোগ সড়কের কাজ মানসম্মত না হওয়াই এই দুর্দশা
দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই-সীতাকুণ্ড অংশ এখন খানাখন্দে ভরে উঠেছে। চলতি মৌসুমে ভারী বর্ষণে সড়কের পিচ উঠে তৈরি হয়েছে শত শত ছোট-বড় গর্ত।
দুর্ঘটনা ঠেকাতে বাড়বকুণ্ড এলাকায় মহাসড়কের মধ্যে স্থানীয়রা গর্তে লাল পতাকা টাঙালেও প্রতিদিনই দুর্ভোগ, যানজট ও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন হাজারো যাত্রী ও চালক।
সরজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের মিরসরাই-সীতাকুণ্ড অংশে উভয় লেনে অজস্র ছোট-বড় গর্ত। কিন্তু বাড়বকুণ্ড এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে বড় বড় গর্ত দেখা গেছে। ওই স্থানের শুধু ২০০ গজের মধ্যে ঢাকামুখী লেনে প্রায় অর্ধশত গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কের মধ্যে সৃষ্ট একটি গর্তে স্থানীয়রা লাল নিশান উড়িয়ে দিয়েছে। যাতে বুঝতে সহজ হয় এখানে বড় গর্ত আছে।
আরও দেখা যায়, উপজেলার বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের ওজন স্কেল এলাকায় মহাসড়কের পিচ ঢালাই অনেকটা উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। গর্তগুলোকে ইট-বালু দিয়ে মেরামত করে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ জায়গায় ইটগুলো ভেঙে খোয়াতে পরিণত হয়েছে। ওই ইটের খোয়া গুলো গাড়ি চলার সময় টায়ারের নিচে পড়লে সেগুলো তীব্র গতিতে মানুষের শরীরে, গাড়িতে ও বিভিন্ন জায়গায় উড়ে গিয়ে পড়ছে। এতে অনেকেই আহত ও গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও মিরসরাইয়ের বড়দারোগাহাট, নিজামপুর, বড়তাকিয়া, মিঠাছরা এলাকায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারী বর্ষণ হলেও মহাসড়কের উপর দিয়ে পানি গড়িয়ে যায়নি তারপরও মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে উঠে গেছে পিচ ঢালাই। রাস্তা সংস্কার বা নির্মাণের সময় নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের কারণেই এসব খানাখন্দ হচ্ছে।
উপজেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সড়কে খানাখন্দ হয়েছে এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

গাড়ি চালকরা জানান, গর্তে পড়ে গাড়ির স্প্রিং ভেঙে যায়, স্টেয়ারিংয়ের সঙ্গে যে জয়েন্ট থাকে সেটি ভেঙে যায়। রাস্তা খারাপ হওয়ায় গাড়ি অনেক সময় খাদে পড়ে যায়। ফলে দ্রুতগতির যানবাহনের চালকদের জন্য সড়কটি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুতগতির যানবাহনের চালকরা কিছুটা ধীর গতিতে যান চালাতে বাধ্য হচ্ছে। তাই অনেক জায়গায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
পিকআপ চালক ইমাম হোসেন বলেন, সড়কের সিটি গেইট থেকে মিরসরাই পর্যন্ত একটু পর পর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকমতো গাড়ি চালানো যায় না। গাড়ি গর্তে পড়ে গেলেও পেছনে গাড়ি থাকার কারণে ব্রেক করা ঝুঁকিপূর্ণ। এতে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
মোহাম্মদ জানে আলম নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, সড়কের সংস্কার ও নির্মাণের ক্ষেত্রে নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার করার কারণে অল্প বৃষ্টিতেই সড়কের পিচ ঢালাই উঠে যাচ্ছে। এই স্থানে গত কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি গাড়ি দুর্ঘটনায় কবলিত হয়েছে। দ্রুত যদি সড়ক সংস্কার না করে তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে এই গর্তগুলোতে পড়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে।
স্থানীয় আরেক যুবক মো. সিরাজুল ইসলাম মুন্না বলেন, বর্ষা এলেই এই স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার গাড়ি ও যাত্রীরা যেন বিপদ থেকে রক্ষা পায় তাই বিপদ সংকেত হিসেবে এখানে খুঁটির মধ্যে লাল পতাকা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
মো. হাসান নামের এক রিকশাচালক বলেন, এই সড়ক দিয়ে চলাচল এখন দায় হয়ে পড়েছে। পেটের দায়ে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করে আসতে হয়।
কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আফসার বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। সড়কে গাড়ি চলছে অনেকটা ধীর গতিতে। সড়ক ও জনপদ বিভাগকে জানালেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি। মঙ্গলবার সারাদিন রোদ ছিল। তারা চাইলে দ্রুত সড়কের মেরামতের কাজ করতে পারতো।
সীতাকুণ্ড সড়ক ও জনপদ উপবিভাগীয় কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে সড়কে বহু জায়গায় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে৷ সেসব জায়গায় সংস্কার করা হচ্ছে কিন্তু ভারি বৃষ্টির ফলে তা টিকছেনা। বৃষ্টি বন্ধ হলে ফের সংস্কার কাজ শুরু হবে
এম মাঈন উদ্দিন/এসজেডএইচ/জেআইএম
What's Your Reaction?

