খুলনায় সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনার শীর্ষে সুজানা জলি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সংরক্ষিত নারী আসন। জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ। এর মধ্যে খুলনা থেকে সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন রাজপথের লড়াকু নেত্রী ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মুখ সুজানা জলি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপির হাইকমান্ড, দীর্ঘদিনের ত্যাগী, রাজপথের সক্রিয় কর্মী, শিক্ষিত এবং অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তির নেত্রীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই মানদণ্ডে খুলনায় বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি সুজানা জলি। খুলনার খালিশপুরের মেয়ে সুজানা জলি বর্তমানে নগরীর গল্লামারী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তাকে ও তার পরিবারকে পোহাতে হয়েছে নানা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। তা সত্ত্বেও দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি এই নেত্রী। ছাত্ররাজনীতি করা এই নারীর রাজনৈতিক জীবনে রয়েছে

খুলনায় সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনার শীর্ষে সুজানা জলি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সংরক্ষিত নারী আসন। জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ। এর মধ্যে খুলনা থেকে সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন রাজপথের লড়াকু নেত্রী ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মুখ সুজানা জলি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপির হাইকমান্ড, দীর্ঘদিনের ত্যাগী, রাজপথের সক্রিয় কর্মী, শিক্ষিত এবং অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তির নেত্রীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই মানদণ্ডে খুলনায় বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি সুজানা জলি। খুলনার খালিশপুরের মেয়ে সুজানা জলি বর্তমানে নগরীর গল্লামারী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তাকে ও তার পরিবারকে পোহাতে হয়েছে নানা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। তা সত্ত্বেও দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি এই নেত্রী। ছাত্ররাজনীতি করা এই নারীর রাজনৈতিক জীবনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। নব্বইয়ের দশকে খুলনার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তার। এরপর ২০১৬ সালে জেলা মহিলা দলের সদস্য হন। বর্তমানে তিনি জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপির রাজনীতির পাশাপাশি সুজানা জলির রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সামাজিক ও ধর্মীয় পরিচয়ও তাকে দৌড়ে এগিয়ে রাখছে। তিনি বর্তমানে খুলনা মহানগর খ্রিস্টান ঐক্যফ্রন্টের সভাপতি এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগর সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি খুলনা সম্মিলিত নারী অধিকার ফোরাম ও ইয়ং উইমেন অ্যাসোসিয়েশনের মতো সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন শিক্ষিত নারী নেত্রীর পাশাপাশি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকায় সুজানা জলির মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। মনোনয়ন প্রসঙ্গে সুজানা জলি বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের অনুসারী। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় রাজপথে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। দল যদি আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করে, তবে আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে খুলনার মানুষের সেবা করতে চাই। বিশেষ করে নারীদের অধিকার আদায় এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে আমি কাজ করে যাব।’ খুলনার তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝেও সুজানা জলিকে নিয়ে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে কার হাতে ওঠে খুলনার এই সংরক্ষিত আসনের টিকিট। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জোটগতভাবে বিএনপি পেতে পারে ৩৬টি আসন। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১২টি, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি আসন পেতে পারেন। আগামী ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তবে এর আগেই খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow