খেলায় হার-জিত নিয়ে উত্তেজিত হবেন না: মুফতি মেন্‌ক

ড. মুফতি ইসমাইল ইবনে মুসা মেনক, যিনি মুফতি মেনক নামে বেশি পরিচিত, হলেন একজন মুসলিম শিক্ষাবিদ, ইসলাম প্রচারক ও বক্তা। তিনি বর্তমানে জিম্বাবুয়ের প্রধান মুফতি। ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে জর্ডানের রয়্যাল আল আল-বাইত ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক থট তাকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ মুসলমানের অন্যতম হিসাবে ঘোষণা করে। সম্প্রতি জুমাপূর্ব আলোচনায় যে কোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্টির গুরুত্ব প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি খেলায় হার-জিত নিয়ে উত্তিজিত হতে ও বিবাদে জড়িয়ে পড়তে নিষেধ করেন। যে দলই জিতুক ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে শান্ত থাকার পরামর্শ দেন। ১৭ জুলাই ২০২৬ ইউটিউবে তার ভেরিভায়েড ইউটিউব চ্যানেলে `Why Did Allah Do This?\' শিরোনামে ওই বক্তব্যের ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তার বক্তব্যের সারাংশ তুলে ধরছি। মুফতি মেনক বলেন, “আপনার যা কিছু প্রয়োজন, আল্লাহর কাছে চান। জান্নাত চান, রিজিক চান, সুস্থতা চান, বিয়ে করতে চান কিংবা চাকরি চান—সবকিছুর জন্য একমাত্র আল্লাহর দরজায় কড়া নাড়ুন, আপনি তা পেয়ে যাবেন। আর তিনি যদি আপনার কোনো চাওয়া পূরণ করতে বিলম্ব করেন, তবে বুঝতে হবে এর পেছনে অবশ্যই কোনো

খেলায় হার-জিত নিয়ে উত্তেজিত হবেন না: মুফতি মেন্‌ক

ড. মুফতি ইসমাইল ইবনে মুসা মেনক, যিনি মুফতি মেনক নামে বেশি পরিচিত, হলেন একজন মুসলিম শিক্ষাবিদ, ইসলাম প্রচারক ও বক্তা। তিনি বর্তমানে জিম্বাবুয়ের প্রধান মুফতি। ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে জর্ডানের রয়্যাল আল আল-বাইত ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক থট তাকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ মুসলমানের অন্যতম হিসাবে ঘোষণা করে।

সম্প্রতি জুমাপূর্ব আলোচনায় যে কোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্টির গুরুত্ব প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি খেলায় হার-জিত নিয়ে উত্তিজিত হতে ও বিবাদে জড়িয়ে পড়তে নিষেধ করেন। যে দলই জিতুক ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে শান্ত থাকার পরামর্শ দেন। ১৭ জুলাই ২০২৬ ইউটিউবে তার ভেরিভায়েড ইউটিউব চ্যানেলে `Why Did Allah Do This?' শিরোনামে ওই বক্তব্যের ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তার বক্তব্যের সারাংশ তুলে ধরছি।

মুফতি মেনক বলেন,

“আপনার যা কিছু প্রয়োজন, আল্লাহর কাছে চান। জান্নাত চান, রিজিক চান, সুস্থতা চান, বিয়ে করতে চান কিংবা চাকরি চান—সবকিছুর জন্য একমাত্র আল্লাহর দরজায় কড়া নাড়ুন, আপনি তা পেয়ে যাবেন। আর তিনি যদি আপনার কোনো চাওয়া পূরণ করতে বিলম্ব করেন, তবে বুঝতে হবে এর পেছনে অবশ্যই কোনো সুন্দর কারণ বা কল্যাণ লুকিয়ে আছে যা আপনি এ মুহূর্তে জানেন না। আল্লাহ হয়তো পরবর্তীতে আপনাকে জানিয়ে দেবেন যে কেন তিনি এটি বিলম্বিত করেছিলেন। বাস্তবতা হলো, আল্লাহর সাথে যদি আপনার সম্পর্ক এমন গভীর হয়, তবে আপনি যে কোনো পরিস্থিতিতে সর্বদা আল্লাহর কৃতজ্ঞতাই আদায় করবেন।

আরবিতে একটি সুন্দর প্রবাদ আছে, যার অর্থ হলো—প্রত্যেক বিলম্বের মধ্যেই কোনো না কোনো কল্যাণ নিহিত থাকে। এমন কিছু ভালো বিষয় সেখানে লুকিয়ে থাকে যা আপনার জানা থাকে না। ধরুন, আপনি আপনার ফ্লাইটটি মিস করেছেন, এমন পরিস্থিতিতে একজন মুমিন হিসেবে শুধু বলুন, 'আলহামদুলিল্লাহ'। সাধারণত মানুষ এমন সময়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে অত্যন্ত বাজে শব্দ ব্যবহার করে, যা আপনারা ভালো করেই জানেন। কিন্তু আমরা যেহেতু মুমিন, তাই আমরা কেবল বলব আলহামদুলিল্লাহ।

ধরা যাক, আপনি খেলায় হেরে গেছেন কিংবা আপনার পছন্দের দল হেরে গেছে, এমন পরিস্থিতিতেও বলুন মাশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ (অর্থাৎ আল্লাহ যা চেয়েছেন তাই হয়েছে, সব প্রশংসা আল্লাহর)। আপনি কি তা বলতে পারেন? সবাই হয়তো কোনো একটি নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে-ই জিতুক বা হারুক, শুধু আলহামদুলিল্লাহ বলুন। কারণ এটি কোনো বড় ব্যাপার নয়, এটি কেবলই একটি খেলা। মানুষ হিসেবে খেলায় আমাদের মধ্যে উত্তেজনা আসতেই পারে, কিন্তু সেই উত্তেজনাকে কখনো পারস্পরিক ঘৃণা বা দাঙ্গা-হাঙ্গামার পর্যায়ে নিয়ে যাবেন না। দল সমর্থন করার কারণে একে অপরের প্রতি রেগে যাবেন না। আর দল হেরে যাওয়ার পর কখনো বলবেন না যে, আল্লাহ কেন তাদের হারালেন? ভাই, তারা আসলে ওইদিন ভালো খেলতে পারেনি বা ভালো দল ছিল না, এটুকুই।

জীবনে যা-ই ঘটুক না কেন, আল্লাহকে কখনোই দোষ দেবেন না, বরং তা মেনে নিন। কোনো প্রকৃত মুমিনের জীবনে আসলে নেতিবাচক বা খারাপ বলতে কিছুই ঘটে না।

একজন প্রকৃত মুমিনের সব কাজই অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ও চমৎকার। যখন তার জীবনে ভালো কিছু ঘটে, সে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, যা তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। আর যখন তার জীবনে কোনো নেতিবাচক বা কষ্টের কিছু ঘটে, তখন সে ধৈর্য ধারণ করে, যা তার জন্য আরও বেশি কল্যাণকর ও উত্তম প্রমাণিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি হয়তো তোমাকে কেবল তোমার এই ধৈর্যের কারণেই অগণিত পুরস্কারে ভূষিত করব।

যারা জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তাদের জন্য হিসাবহীন পুরস্কার রেখে দিয়েছেন। তিনি আপনার ভেতরের সমস্ত সংগ্রাম ও কষ্ট সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানেন। আল্লাহ আমাদের সবার পথকে সহজ করে দিন, আমাদের কল্যাণের দরজাগুলো খুলে দিন এবং আমাদের ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় কল্যাণ দান করুন, আমিন।”

ওএফএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow