গণতন্ত্রের দুয়ার খোলার উৎসব
গত কয়েক দিনের সংশয়, শঙ্কা আর উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশজুড়ে শুরু হয়েছে গণতন্ত্রের দুয়ার খোলার মহোৎসব। ঘুচতে যাচ্ছে বিগত তিন সংসদ নির্বাচনে ভোট না দিতে পারার দুঃখ। এরই মধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ব্যালটসহ সব ধরনের নির্বাচনী মালপত্র কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে। ভোটের সার্বিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন গতকাল সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই নির্বাচনে ভোটদান আমাদের শুধু নাগরিক অধিকারই নয়, বরং দায়িত্ব। আমি আশা করি, আপনারা সবাই সচেতনভাবে এ দায়িত্ব পালন করবেন। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান—শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার্থে সবাই দায়িত্বশীল ও যত্নবান হবেন।’ ভিন্নমত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি স্বাভাবিক বিষয় উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘এ বিষয়টি স্মরণে রেখে আপনারা উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসবেন, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিণত
গত কয়েক দিনের সংশয়, শঙ্কা আর উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশজুড়ে শুরু হয়েছে গণতন্ত্রের দুয়ার খোলার মহোৎসব। ঘুচতে যাচ্ছে বিগত তিন সংসদ নির্বাচনে ভোট না দিতে পারার দুঃখ। এরই মধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ব্যালটসহ সব ধরনের নির্বাচনী মালপত্র কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে।
ভোটের সার্বিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন গতকাল সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই নির্বাচনে ভোটদান আমাদের শুধু নাগরিক অধিকারই নয়, বরং দায়িত্ব। আমি আশা করি, আপনারা সবাই সচেতনভাবে এ দায়িত্ব পালন করবেন। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান—শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার্থে সবাই দায়িত্বশীল ও যত্নবান হবেন।’
ভিন্নমত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি স্বাভাবিক বিষয় উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘এ বিষয়টি স্মরণে রেখে আপনারা উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসবেন, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে জয়-পরাজয়কে মেনে নেবেন।’
এবারের ভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। সেজন্য ভোট দিতে অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামে ছুটে গেছেন। ফলে অনেকটাই ফাঁকা রাজধানী ঢাকা যেন এক অচেনা শহরে রূপ নিয়েছে। এর আগে দেশে তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এবারই প্রথম একই দিনে সংসদ ও গণভোট হচ্ছে। এবার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীর আচরণবিধিমালায়ও আনা হয়েছে বেশকিছু পরিবর্তন। সব মিলিয়ে অন্যরকম এক ভোটে মেতেছে দেশ।
তরুণদের আন্দোলন কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গণঅভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় শক্তির নাম ‘তরুণ ভোটার’। নারী ভোটারের গুরুত্বও বেশ। তাদের জন্য এটি কেবল একটি সিল মারা নয়, বরং দেশের আগামীর রূপরেখা ঠিক করার অধিকার।
সংসদ ও গণভোটের বিষয়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. আব্দুল আলীম কালবেলাকে বলেন, গণভোট এবং সংসদ নির্বাচন একই দিনে বাংলাদেশ প্রথম হচ্ছে। এটি সারা দুনিয়াতেই বিরল।
এই নির্বাচনে নতুনত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, এতকাল আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি বা অন্য দলের প্রতিযোগিতা দেখতাম। জামায়াত সাধারণত বিএনপির সঙ্গে থাকত। এবার আমরা একটা নতুন ডাইমেনশন দেখতে পাচ্ছি। এখানে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। এটা নতুন জিনিস। আবার আরেকটি বিষয়, এবার প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ভোটার রয়েছে, যারা প্রথমবার ভোট দেবে। এটি ভোটের ফলে প্রভাব ফেলবে।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, ভোটের পরিবেশে প্রথম দিকে যে সহিংসতাগুলো হচ্ছিল, এখন একটু কমেছে। ধীরে ধীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় ভোটের দিন কী রকম হয়।
তিনি বলেন, সরকারে যে উপদেষ্টারা আছেন, তাদের কারোরই কোনো পলিটিক্যাল অ্যাম্বিশন নেই। তারা কেউ আর রাজনীতিতে আসবেন না, আসতে চানও না। রাজনৈতিক দল ও জনগণেরও ভূমিকা রয়েছে। সরকার এবং নির্বাচন কমিশন সক্ষমতা অনুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এতদিন পর একটা ভালো নির্বাচন পেতে যাচ্ছি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব,) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। ভোটের দিন অপ্রীতিকর কিছু ঘটবে না, এমনটা বলে যায় না। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
ভোটের সার্বিক বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আমরা চাই একটা আনন্দমুখর পরিস্থিতিতে নির্বাচন হোক। ভোট নিয়ে কোনো শঙ্কাই নেই। মিছিল, মিটিং, বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য নির্বাচনেরই একটা অংশ। এখনো এটা শালীনতার পর্যায়ে আছে। আমরা মারাত্মক কোনো খবর পাইনি। গোয়েন্দা নজরদারি ভালোভাবেই আছে।
এবার নির্বাচনে যা কিছু নতুন
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে ভোটাররা সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোটে নিজেদের মতামত দেবেন। এই গণভোটের মাধ্যমে আগামীর রাষ্ট্র সংস্কারের গতিপথ নির্ধারিত হবে। একই দিন সংসদ ও গণভোট হওয়ার কারণে ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধন করে এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যার ফলে দেয়ালে পোস্টার সাঁটানোর সেই চিরচেনা দৃশ্য এবার অনুপস্থিত ছিল। প্রার্থীরা লিফলেট, ব্যানার এবং ডিজিটাল স্ক্রিনের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এবার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীরা প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরেছেন। গতকাল সকাল সোয়া ৯টা পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্নি দেশে ব্যালট পৌঁছেছে ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি। ব্যালট গ্রহণ করেছেন ৫ লাখ ২৮ হাজার ৫৭৯ জন। ভোট দিয়েছেন ৫ লাখ ১৫ হাজার ৬১৯ জন। ভোট দিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে জমা দেওয়া হয়েছে ৫ লাখ ৭ হাজার ৩২৭টি। ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছেছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ১৮৫টি। রিটার্নিং অফিসার ব্যালট গ্রহণ করেছেন ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৬টি।
দলের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবার ভোটের মাঠে নেই। কোনো নিবন্ধিত দল জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও নিজস্ব দলীয় প্রতীকে ভোট করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে বড় দলের প্রতীকের ছায়াতলে অন্য দলের প্রার্থীদের নির্বাচন করার দীর্ঘদিনের সুযোগ বন্ধ হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বাতিল করা হয়েছে।
প্রতিবারের মতো এবারও ভোটার স্লিপ বিতরণ করা যাবে। এতে প্রার্থীর নাম ও প্রতীকের ছবি ব্যবহার করা যাবে। আগে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম ও প্রতীকের ছবি ব্যবহার করা যেত না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এর অপব্যবহার করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকলে তাকে ‘না’ ভোটের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। ‘না’ ভোট বেশি হলে সেখানে ফের নির্বাচন হবে। তবে পরেরবারও একক প্রার্থী থাকলে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। আদালত কর্তৃক ঘোষিত পলাতক বা ফেরারিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি এবার। নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক দলকে ৫০ হাজার টাকার বেশি অনুদান দিতে চাইলে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেওয়ার বিধান করা হয়েছে। যিনি অনুদান দেবেন, তার ট্যাক্স রিটার্নও দিতে হবে।
সমভোটের ক্ষেত্রে ফের নির্বাচন; প্রার্থীর হলফনামায় দেশ ও বিদেশে থাকা নিজ এবং নির্ভরশীলদের সম্পদের হিসাব দেওয়া; সর্বশেষ আয়কর রিটার্নও দিতে হয়েছে। ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে নির্বাচনের পরও তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কমিশন তা তদন্ত করতে পারবে। সেখানে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পেলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল করতে পারবে কমিশন।
প্রার্থী, ভোটারের চিত্র
৩০০ আসনের মধ্যে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত থাকায় এবার ২৯৯টি আসনে ভোট হচ্ছে। এবার নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫, স্বতন্ত্র ২৭৩ জন এবং ৮৩ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। এবার ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং ১ হাজার ২৩২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাবসহ ভোটের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় ১০ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।
নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ জন প্রার্থী। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫৮ জন প্রার্থী ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতের ২২৪ জন প্রার্থী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ১৯৮ জন প্রার্থী। আর ৫ আগস্ট কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ৩২ জন প্রার্থী।
গণঅধিকার পরিষদের (নূর) ৯০ জন এবং কমিউনিস্ট পার্টির ৬৫ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। ২৭৩ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ৭৬ জন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য দলের ৫৯৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ৮১টি সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষককে এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োজিত থাকবেন ৭ হাজার ৯৯৭ জন। আর বিভিন্ন সংসদীয় এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন পর্যবেক্ষক স্থানীয়ভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। দেশীয় পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক।
ভোটকেন্দ্র ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা
নির্বাচনের মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ৬৫৯টি (স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় কিছু অস্থায়ী কেন্দ্রও রয়েছে)। মোট বুথ (ভোটকক্ষ) রয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। এর মধ্যে পুরুষ বুথ ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি; নারী বুথ রয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি। এবার সবচেয়ে বেশি কেন্দ্র রয়েছে ঢাকা বিভাগে এবং সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা হিসেবে গাজীপুর-২ আসনে কেন্দ্রের সংখ্যা অন্যান্য আসনের তুলনায় অনেক বেশি।
সারা দেশে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণের জন্য ৮ লাখের বেশি কর্মকর্তাকে চূড়ান্ত নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে রিজার্ভ ফোর্সসহ এ সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিযুক্ত থাকছেন ৪২ হাজার ৭৭৯ জন (প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের জন্য ১ জন)। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন (প্রতিটি ভোটকক্ষের বা বুথের জন্য ১ জন)। আর পোলিং অফিসার হিসেবে থাকছেন ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন (প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য ২ জন)।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের দুটি পৃথক ব্যালট পেপার দেওয়া হবে। একটিতে থাকবে সংসদীয় আসনের পছন্দের প্রার্থীর প্রতীক এবং অন্যটিতে থাকবে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন বা ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ।
ইসি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্যের নির্বাচনী দায়িত্বে থাকার কথা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ জন সদস্য। এ ছাড়া নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ এবং আনসার ও ভিডিপির ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর বাইরে ১ হাজার ৯২২ জন বিএনসিসি ক্যাডেট এবং ৪৫ হাজার ৮২০ জন গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার ও দফাদার) দায়িত্ব পালন করবেন। নৌবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন উপকূলীয় ১৭টি আসনের ২৪টি উপজেলায় ও দুটি সিটি করপোরেশনে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন ২ হাজার ১০০ জন। আর ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালনকালে কোনো নির্বাচনী অপরাধ বিচারার্থে আমলে গ্রহণ করলে যথাসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার (সামারি ট্রায়াল) নিষ্পত্তি করবেন এবং এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন-১ শাখা) বরাবর নির্দিষ্ট ছকে পাঠাবেন।
ইসির ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ নামের অ্যাপে ভোটার নম্বর, কেন্দ্রের নাম ও অবস্থান, ভোট পড়ার হার, প্রার্থীদের হলফনামাসহ নির্বাচনের বিভিন্ন তুলনামূলক চিত্র ঘরে বসেই জেনে নিতে পারবেন আগ্রহীরা। দুই ঘণ্টা পরপর আসনভিত্তিক ভোট পড়ার হারও জানানো হবে সেখানে। অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপল উভয় প্লে স্টোরে অ্যাপটি পাওয়া যাবে। অ্যাপটি ব্যবহার করতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মতারিখ দিলেই মিলবে তথ্য।
ভোট ঘিরে যত নিষেধাজ্ঞা
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিভিন্ন পর্যায়ে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে ইসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে জনসভা, মিছিল, শোভাযাত্রাসহ নির্বাচনী প্রচারের পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থান, যানবাহন চলাচল, ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেন, ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, ড্রোন উড্ডয়ন, আতশবাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ইসির আইন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সব ধরনের জনসভা, মিছিল, শোভাযাত্রা ও প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা ভোটের পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে প্রার্থীর ক্যাম্প স্থাপন নিষিদ্ধ এবং ভোটারদের প্রভাবিত করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য বলে বলে জানিয়েছে ইসি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গণভোট ও নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল বুধবার মধ্যরাত ১২টা থেকে সারা দেশে ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। আজ মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে ইসির স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল চলাচলে বাধা নেই। অন্যদিকে, ভোটের আগের দিন গতকাল দূরপাল্লার বাস চললেও আজ ভোটের দিন সব বাস সার্ভিস বন্ধ থাকবে।
What's Your Reaction?