গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফের উত্তেজনা, ভাঙচুর-দখলচেষ্টার অভিযোগ
ঢাকার সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। আদালতের সাম্প্রতিক একটি আদেশকে ঘিরে শনিবার (২৫ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির সাভার ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের অভিযোগ, ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ কয়েকশ অনুসারী নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসে ভাঙচুর, সিসিটিভি ক্যামেরা ও একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত এবং এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ কালবেলাকে বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী বৈধভাবেই তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন। তার সঙ্গে থাকা কেউ ফার্মাসিউটিক্যালসে যায়নি; বরং বর্তমান কর্তৃপক্ষ নিজেরাই ভাঙচুর চালিয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। জানা গেছে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধতা ও প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ এবং বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিরোধ চলছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ভাষ্য, গত ৫ জুলাই হাইকোর্ট ৩টি সম্পূরক নিবন
ঢাকার সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। আদালতের সাম্প্রতিক একটি আদেশকে ঘিরে শনিবার (২৫ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির সাভার ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের অভিযোগ, ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ কয়েকশ অনুসারী নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসে ভাঙচুর, সিসিটিভি ক্যামেরা ও একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত এবং এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের ঘটনাও ঘটে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ কালবেলাকে বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী বৈধভাবেই তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন। তার সঙ্গে থাকা কেউ ফার্মাসিউটিক্যালসে যায়নি; বরং বর্তমান কর্তৃপক্ষ নিজেরাই ভাঙচুর চালিয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।
জানা গেছে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধতা ও প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ এবং বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিরোধ চলছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ভাষ্য, গত ৫ জুলাই হাইকোর্ট ৩টি সম্পূরক নিবন্ধিত দলিলের কার্যকারিতা চার মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই আদেশের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ডা. নাজিমউদ্দিন ৩০০ থেকে ৩৫০ জন লোক নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক (ভূমি প্রশাসন) মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ডা. নাজিমউদ্দিনের সঙ্গে আসা লোকজন ফার্মাসিউটিক্যালসে ঢুকে সিসিটিভি ক্যামেরা, একটি গাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে। বাধা দিতে গেলে এক নিরাপত্তাকর্মীকেও মারধর করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি আরও দাবি করেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর পর নাজিমউদ্দিন আহমেদ নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে আর্থিক হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি পদত্যাগ করেন এবং পৃথক ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেন, যা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।
আবদুস সালামের অভিযোগ, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালত নাজিমউদ্দিন আহমেদকে প্রশাসনিক, আর্থিক বা অন্য কোনো কার্যক্রমে অংশ না নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে তিনি আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন। সম্ভাব্য দখলচেষ্টার আশঙ্কায় আগের রাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন শিরীন হক কালবেলাকে বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর পর থেকেই নাজিমউদ্দিন আহমেদ প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছেন। তার দাবি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে নেওয়া ঋণের সুদ-আসলে প্রায় ১০ কোটি টাকা পরিশোধ এড়াতেই তিনি প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অর্থ অপচয় ও তছরুপের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শিরীন হক বলেন, আদালতের আদেশের পূর্ণাঙ্গ শুনানি এখনো হয়নি। অথচ নাজিমউদ্দিন আহমেদ কর্মীদের কাছে এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন, যেন আদালত তাঁকেই প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে তারা আদালতের শরণাপন্ন হবেন এবং আদালতের সিদ্ধান্তই মেনে নেবেন।
অন্যদিকে ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি। ১৯৭২ ও ১৯৮০ সালের দলিল অনুযায়ী তিনিই প্রতিষ্ঠানটির বৈধ দায়িত্বপ্রাপ্ত। আদালতের আদেশ হাতে নিয়েই প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন।
তিনি দাবি করেন, আদালত চার মাসের জন্য বিতর্কিত দলিলগুলোর কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। ফলে পুরোনো দলিল অনুযায়ী তিনিই দায়িত্বে রয়েছেন। হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ফি নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তা কমিয়ে ২৫০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান। একই সঙ্গে সিজারিয়ান অপারেশনে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও রোগীদের অন্য হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগও তোলেন তিনি।
ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে নাজিমউদ্দিন আহমেদ বলেন, তার পক্ষের কেউ ফার্মাসিউটিক্যালসে যায়নি। বর্তমান কর্তৃপক্ষ নিজেরাই ভাঙচুর করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিইও এএইচ এম শফিকুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, গতকাল ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ তার কিছু লোকজন নিয়ে এসে এখানে ভাঙচুর চালিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করে চলে যান। কোর্টের আদেশ নিয়ে এসেছেন এমন দাবি করলেও ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ আমাকে এ পর্যন্ত কোনো অর্ডার দেখাতে পারেননি। তবে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি, বর্তমান কমিটিকে চার মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য বলা হয়েছে। তবে এমন কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ।
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ তার অনুসারীদের নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসেছিলেন এবং কিছুক্ষণ অবস্থান করে দুপুরের দিকে চলে যান।
ফার্মাসিউটিক্যালস এবং গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি সিসিটিভি ক্যামেরা ও দুটি কাচ এবং একটি গাড়ির কাচ ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে। পুলিশ রোববার দুপক্ষেরই লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
What's Your Reaction?