গরমে মরছে মুরগি, আগস্টে ‘মারাত্মক’ দাম বাড়ার শঙ্কা

3 weeks ago 18

তীব্র দাবদাহে মারা যাচ্ছে পোলট্রি খামারের মুরগি। এতে কমতে শুরু করেছে মাংস ও ডিমের উৎপাদন। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী দিনে ব্রয়লার মুরগি ও ডিম সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে। এতে আগামী আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডিম ও মুরগির দাম মারাত্মকভাবে বাড়তে পারে। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)।

সংগঠনটির দাবি, চলমান তাপপ্রবাহের ফলে হিটস্ট্রোকের কারণে সারা দেশে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ মুরগি মারা যাচ্ছে, যার আনুমানিক ক্ষতি দিনে ২০ কোটি টাকা। ফলে ১০ দিনে প্রান্তিক খামারিদের ২০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ঈদের পর গত ১০ থেকে ১২ দিনে সারাদেশে ১০ লাখের বেশি ব্রয়লার, লেয়ার ও সোনালি মুরগি মারা গেছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ ব্রয়লার মুরগি এবং ১০ থেকে ১৫ শতাংশ লেয়ার মুরগি। এছাড়া সোনালিসহ অন্যান্য মুরগি ৫ শতাংশ মারা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন দাবি করে সংগঠনটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গরমে খামারে মুরগির মৃত্যুর সুযোগ কাজে লাগিয়ে করপোরেট ডিম-মুরগি সরবরাহকারী ও তেজগাঁও ডিম সিন্ডিকেট ডিম ও মুরগির সংকট তৈরি করবে। জুন থেকে তারা দাম বাড়াতে শুরু করবে। আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডিম ও মুরগির দাম মারাত্মকভাবে বাড়বে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের উচিত পোলট্রি খামারিদের রক্ষা করা। সরকারের পক্ষ থেকে খামারিদের মুরগির বাচ্চা ও পোলট্রি ফিডে ভর্তুকি দিয়ে উৎপাদনে ধরে রাখতে হবে এবং সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখতে হবে, যেন বাজারে সংকট সৃষ্টি না হয়।

বর্তমানে দেশে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার প্রান্তিক মুরগির খামার রয়েছে উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০ হাজার খামারি করপোরেট গ্রুপের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। এ অবস্থা আরও কয়েকদিন চলতে থাকলে নতুন করে আবারও বন্ধ হয়ে যাবে ১৫ থেকে ২০ হাজার খামার। প্রান্তিক পোলট্রি খামারিরা কখনোই ডিম মজুত করতে পারেন না। তবে করপোরেট গ্রুপগুলো ও ঢাকা তেজগাঁও, কাপ্তান বাজারসহ দেশের অধিকাংশ ডিম ব্যবসায়ী কোল্ড স্টোরেজের মাধ্যমে ডিম মজুত শুরু করেছেন। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তারা বেশি দামে ডিম-মুরগি বিক্রি করবেন। প্রতিদিন ব্রয়লার মুরগির চাহিদা ৩ হাজার ৫০০ টন, সোনালি লেয়ার মুরগির চাহিদা এক হাজার ২০০ টন। স্বাভাবিক সময়ে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির মাংস উৎপাদন হতো ৫ হাজার ২০০ টন, যা চাহিদার তুলনায় বেশি। তবে অপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে অনেক খামার বন্ধ হয়ে যাবে, ফলে মাংসের মুরগি উৎপাদন নেমে আসতে পারে ৪ হাজার টনে।

এতে আরও বলা হয়, প্রতিদিন ডিমের চাহিদা ৪ কোটি পিস। স্বাভাবিক সময়ে দিনে সাড়ে ৪ কোটি পিস ডিম উৎপাদিত হয়, যা চাহিদার তুলনায় বেশি। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এখন দৈনিক মাত্র ৩ কোটি ৮০ লাখ থেকে ৯০ লাখ পিস ডিম উৎপাদন হচ্ছে। ফলে দৈনিক ২০ লাখ ডিমের ঘাটতি রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রান্তিক খামারিদের করপোরেট কোম্পানির জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করে ডিম মুরগির উৎপাদন ঠিক রাখতে মুরগির বাচ্চা ও পোলট্রি ফিড বিদেশ থেকে আমদানির অনুমতি দিলে প্রান্তিক খামারিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। করপোরেট সিন্ডিকেট, তেজগাঁয়ের ডিম সিন্ডিকেট ও মুরগি সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে খামারিরা কখনোই ডিম-মুরগির ন্যায্যমূল্য পায় না। একের পর এক বিপর্যয় প্রান্তিক মুরগির খামারিদের ওপর পড়ছে।

এনএইচ/কেএসআর/জেআইএম

Read Entire Article