গরিবের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ভিজিএফ খাদ্যশস্য সহায়তা বিতরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভায় ব্যাপক অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার প্রায় ১ হাজার ৫০০ হতদরিদ্র মানুষের মাঝে এ খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রোববার সকাল থেকেই উপজেলা অডিটোরিয়ামে চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। বিতরণকৃত চালের বস্তা মেপে দেখা গেছে, ৩০ কেজি থাকার কথা থাকলেও অনেক বস্তায় রয়েছে মাত্র ২৫, ২৬ কিংবা ২৮ কেজি চাল। প্রায় প্রতিটি বস্তাতেই ২ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত ওজনে কম পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সকাল থেকেই শত শত উপকারভোগী নারী দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ১০ কেজি চাল পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কাউকে ৮ কেজি, আবার কাউকে ৯ কেজি করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ওজনে কম চাল পাওয়ায় উপকারভোগীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, গরিব মানুষের জন্য সরকারের দেওয়া সহায়তা থেকেও কাটছাঁট করা হচ্ছে। চাল বিতরণে কোনো নির্ধারিত ওজন পরিমাপের মেশিন ব্যবহার না ক
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ভিজিএফ খাদ্যশস্য সহায়তা বিতরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভায় ব্যাপক অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার প্রায় ১ হাজার ৫০০ হতদরিদ্র মানুষের মাঝে এ খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রোববার সকাল থেকেই উপজেলা অডিটোরিয়ামে চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। বিতরণকৃত চালের বস্তা মেপে দেখা গেছে, ৩০ কেজি থাকার কথা থাকলেও অনেক বস্তায় রয়েছে মাত্র ২৫, ২৬ কিংবা ২৮ কেজি চাল। প্রায় প্রতিটি বস্তাতেই ২ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত ওজনে কম পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে সকাল থেকেই শত শত উপকারভোগী নারী দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ১০ কেজি চাল পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কাউকে ৮ কেজি, আবার কাউকে ৯ কেজি করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ওজনে কম চাল পাওয়ায় উপকারভোগীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, গরিব মানুষের জন্য সরকারের দেওয়া সহায়তা থেকেও কাটছাঁট করা হচ্ছে।
চাল বিতরণে কোনো নির্ধারিত ওজন পরিমাপের মেশিন ব্যবহার না করে বালতি দিয়ে অনুমাননির্ভরভাবে চাল মেপে বিতরণ করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে সঠিক ওজন নিয়ে আরও বেশি প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
নাম প্রকাশে কয়েকজন উপকারভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদেরকে দুই কেজি করে কম দেওয়া হচ্ছে। গরিবের চাল খেয়ে কি হেরা বড়লোক হইতে পারবো। আমরা গরিব মানুষ এজন্য আমগোরে ঠকাচ্ছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন নারী বলেন, ‘সবাইরে ওই ২ কেজি, ১ কেজি করে কম দিচ্ছে, সকাল ৭টা, ৮টা বাজে এনে কম দিতাছে।’
এ বিষয়ে দায়িত্বরত পৌরসভার কয়েকজন স্টাফের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, প্রতি বস্তায় ৫ কেজি করে চাল কম আসে। এজন্য সবারটা সমন্বয় করে কম দিতে হচ্ছে।
দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার মানিক মিয়া বলেন, প্রতিটি বস্তায়ই কম দেওয়া আছে। আমার কিছু করার নেই। এসিল্যান্ড এটার দায়িত্বে। উনি প্রশাসক আমি ওনাকে নির্দেশনা দিতে পারি না। আমি বিষয়টি ইউএনওকে বলেছি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ রবিউল হাসান ভূইয়াকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি। খাদ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি আমি সমাধান করে দিচ্ছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, আমার জানা নেই, আমি ইউএনওকে বলেছি।
What's Your Reaction?