গরু-মহিষের দিন ফুরালেও চেরাডাঙ্গী মেলায় এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঘোড়া’

দিনাজপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘বাংলাদেশ চেরাডাঙ্গী মেলা’ শুরু হতে এখনো দুই দিন বাকি। ২৩ মাঘ আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও এর মধ্যেই মেলাপ্রাঙ্গণ দখলে নিয়েছে বাহারি সব নামের ও জাতের ঘোড়া। রাস্তার রাজা, বিজলী রানী, পারলে ঠেকাও, কুমার রাজা কিংবা ডন—এমন সব বিচিত্র নামের ঘোড়া আর সওয়ারীদের কসরত দেখতে মেলাপ্রাঙ্গনে ভিড় জমাচ্ছেন হাজারো উৎসুক জনতা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সদর উপজেলার আওলিয়াপুর ইউনিয়নে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী মেলা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, প্রায় ৭৯ বছর আগে শুরু হওয়া এই মেলায় একসময় হাতি, উট ও দুম্বার আমদানি হতো। কালের বিবর্তনে এখন গরু-মহিষের আনাগোনা কমলেও ঘোড়ার ঐতিহ্যে কোনো ভাটা পড়েনি। মাসব্যাপী এই মেলায় অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি হলেও ঘোড়া বেচাকেনা মূলত উদ্বোধনের আগের দু-তিন দিনই সবচেয়ে বেশি জমে ওঠে। আয়োজকরা জানান, আড়াই কিলোমিটার বর্গাকার এই মেলা ঘিরে আশপাশের ২০টি গ্রামে এখন উৎসবের আমেজ। মেলা উপলক্ষে গ্রামগুলোতে চলছে মেজবান বা বিশেষ ভোজের আয়োজন। মেলায় আসবাবপত্র, মিষ্টান্ন ও ঘরকন্নার সামগ্রীর বিশাল সমাহার থাকলেও এবার থাকছে না যাত্রা ও পুতুল নাচের আয়োজন

গরু-মহিষের দিন ফুরালেও চেরাডাঙ্গী মেলায় এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঘোড়া’

দিনাজপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘বাংলাদেশ চেরাডাঙ্গী মেলা’ শুরু হতে এখনো দুই দিন বাকি। ২৩ মাঘ আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও এর মধ্যেই মেলাপ্রাঙ্গণ দখলে নিয়েছে বাহারি সব নামের ও জাতের ঘোড়া। রাস্তার রাজা, বিজলী রানী, পারলে ঠেকাও, কুমার রাজা কিংবা ডন—এমন সব বিচিত্র নামের ঘোড়া আর সওয়ারীদের কসরত দেখতে মেলাপ্রাঙ্গনে ভিড় জমাচ্ছেন হাজারো উৎসুক জনতা।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সদর উপজেলার আওলিয়াপুর ইউনিয়নে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী মেলা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, প্রায় ৭৯ বছর আগে শুরু হওয়া এই মেলায় একসময় হাতি, উট ও দুম্বার আমদানি হতো। কালের বিবর্তনে এখন গরু-মহিষের আনাগোনা কমলেও ঘোড়ার ঐতিহ্যে কোনো ভাটা পড়েনি। মাসব্যাপী এই মেলায় অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি হলেও ঘোড়া বেচাকেনা মূলত উদ্বোধনের আগের দু-তিন দিনই সবচেয়ে বেশি জমে ওঠে।

আয়োজকরা জানান, আড়াই কিলোমিটার বর্গাকার এই মেলা ঘিরে আশপাশের ২০টি গ্রামে এখন উৎসবের আমেজ। মেলা উপলক্ষে গ্রামগুলোতে চলছে মেজবান বা বিশেষ ভোজের আয়োজন। মেলায় আসবাবপত্র, মিষ্টান্ন ও ঘরকন্নার সামগ্রীর বিশাল সমাহার থাকলেও এবার থাকছে না যাত্রা ও পুতুল নাচের আয়োজন।

গরু-মহিষের দিন ফুরালেও চেরাডাঙ্গী মেলায় এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঘোড়া’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবারের মেলায় আসা ঘোড়াগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রামের রবিউল ইসলামের ১২টি ঘোড়া সবার নজর কেড়েছে। এর মধ্যে ‘পারলে ঠেকাও’ নামের একটি দ্রুতগামী ঘোড়ার দাম হাঁকানো হচ্ছে ৪ লাখ টাকা। দিনাজপুরের শেখপুরা এলাকার সফল খামারি জাহিদ ইসলাম সোহাগ ঘোড়াটি ৩ লাখ টাকায় কিনতে চাইলেও মালিক ৪ লাখের নিচে ছাড়তে নারাজ।

রংপুরের বদরগঞ্জ থেকে আসা রহিদুল ঘোড়াওয়ালা তার তিনটি ঘোড়ার দাম ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা হাঁকছেন। এছাড়া মিঠাপুকুর থেকে আসা মশিউর রহমানের সখিনা ও বিজলী রানীকে নিয়েও ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

ঘোড়া ব্যবসায়ীরা জানান, দূর-দূরান্ত থেকে তারা কাঙ্ক্ষিত ঘোড়া নিয়ে এসেছেন। যদিও এখনো বড় কোনো বেচাকেনা হয়নি, তবে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সমাগম দেখে তাঁরা আশা করছেন, উদ্বোধনের আগেই অধিকাংশ ঘোড়া বিক্রি হয়ে যাবে।

এমদাদুল হক মিলন/কেএইচকে/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow