গর্ভাবস্থায় বাড়ছে খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যার ঝুঁকি, সতর্ক করছেন গবেষকরা

গর্ভাবস্থা অনেক নারীর জন্য আনন্দের সময় হলেও, কিছু ক্ষেত্রে এটি খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা বা ইটিং ডিসঅর্ডারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তাদের মতে, বিষয়টি এখনও অনেকাংশে আড়ালে থেকে যাচ্ছে, যদিও এটি মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ২০ জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে প্রায় একজন কোনো না কোনো ধরনের ইটিং ডিসঅর্ডারে ভোগেন। কারও ক্ষেত্রে পুরোনো সমস্যা ফিরে আসে, আবার কেউ প্রথমবারের মতো এ ধরনের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক এলিজাবেথ ক্লেডন জানান, গর্ভাবস্থায় শরীরের দ্রুত পরিবর্তনের কারণে তার আগের অ্যানোরেক্সিয়া রোগের চিন্তাগুলো আবার ফিরে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধি, হরমোনের পরিবর্তন এবং শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর অনুভূতি অনেক নারীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। ফলে শরীর নিয়ে অসন্তুষ্টি ও খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনিভার্সিটির গবেষক জেমা শার্প বলেন, গর্ভাবস্থা ইটিং ডিসঅর্ডারের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ সময়। তবে সঠিক সহায়তা পেলে এটি সুস্থতার পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবে

গর্ভাবস্থায় বাড়ছে খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যার ঝুঁকি, সতর্ক করছেন গবেষকরা

গর্ভাবস্থা অনেক নারীর জন্য আনন্দের সময় হলেও, কিছু ক্ষেত্রে এটি খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা বা ইটিং ডিসঅর্ডারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তাদের মতে, বিষয়টি এখনও অনেকাংশে আড়ালে থেকে যাচ্ছে, যদিও এটি মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ২০ জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে প্রায় একজন কোনো না কোনো ধরনের ইটিং ডিসঅর্ডারে ভোগেন। কারও ক্ষেত্রে পুরোনো সমস্যা ফিরে আসে, আবার কেউ প্রথমবারের মতো এ ধরনের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক এলিজাবেথ ক্লেডন জানান, গর্ভাবস্থায় শরীরের দ্রুত পরিবর্তনের কারণে তার আগের অ্যানোরেক্সিয়া রোগের চিন্তাগুলো আবার ফিরে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধি, হরমোনের পরিবর্তন এবং শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর অনুভূতি অনেক নারীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। ফলে শরীর নিয়ে অসন্তুষ্টি ও খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনিভার্সিটির গবেষক জেমা শার্প বলেন, গর্ভাবস্থা ইটিং ডিসঅর্ডারের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ সময়। তবে সঠিক সহায়তা পেলে এটি সুস্থতার পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় ইটিং ডিসঅর্ডার থাকলে অপুষ্টি, অতিরিক্ত বমি, রক্তস্বল্পতা, গর্ভপাত, সময়ের আগে সন্তান জন্ম এবং কম ওজনের শিশু জন্মের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এ ছাড়া কিছু গবেষণায় শিশুর দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান জন্মের পরও ঝুঁকি কমে না। হরমোনের পরিবর্তন, ঘুমের ঘাটতি এবং দ্রুত আগের শারীরিক গঠনে ফিরে যাওয়ার সামাজিক চাপ অনেক নারীর মধ্যে আবারও রোগের উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে সমস্যা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ ইটিং ডিসঅর্ডারের অনেক লক্ষণ গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক উপসর্গের সঙ্গে মিলে যায়। ফলে অনেক নারী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা মানসিক সহায়তা পান না।

গবেষকরা মনে করেন, গর্ভবতী নারীদের জন্য চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, সময়মতো সহায়তা পেলে গর্ভাবস্থা ইটিং ডিসঅর্ডার থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow